সমাজকর্ম ১ম পত্র • সমাজকর্ম পেশার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট • Combined Board • রাজশাহী, চট্টগ্রাম, বরিশাল, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৩

সমাজকর্ম ১ম পত্র প্রশ্ন

জনাব খালিদ হোসেন একজন পৌর মেয়র। তিনি সাহায্যদান কার্যক্রমে কতিপয় নিয়ম অনুসরণ করেন। সাহায্যপ্রার্থীদের সম্পদশালী দূরীকরণে কোনো নিকট আত্মীয় থাকলে তাদেরকে সাহায্যের আওতায় না এনে ওইআত্মীয়দের দায়িত্ব নিতে উৎসাহিত করেন। সাহায্য পেতে হলে তার নির্বাচনি এলাকায় স্থায়ী বাসিন্দা অথবা একটি নির্দিষ্ট সময় ধরে ওই এলাকায় বসবাস করতে হয়। তিনি ত্রাণসামগ্রী সুষ্ঠু বণ্টনের স্বার্থে সাহায্যার্থীদের কতিপয় শ্রেণিতে বিভক্ত করে পৃথক পৃথক কর্মসূচির আর্থ মাধ্যমে সেবাদান করেন।

  1. ক)

    বিভারিজ রিপোর্ট কত সালে পেশ করা হয়?

    (1)
  2. খ)

    সামাজিক বিমা বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত থালিদ সাহেবের কার্যক্রম তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন আইনের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    আমাদের দেশের দারিদ্রদ্র্য দূরীকরণে উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত আইনের গুরুত্ব বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বিভারিজ রিপোর্ট ১৯৪২ সালে পেশ করা হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সামাজিক বিমা হলো এমন এক ধরনের সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা, যেখানে কোনো ব্যক্তি তার কর্মক্ষম থাকা অবস্থায় আয়ের একটি নির্দিষ্ট অংশ প্রিমিয়াম হিসেবে জমা রাখে এবং পরবর্তীতে বেকারত্ব, অসুস্থতা, বার্ধক্য, দুর্ঘটনা বা শারীরিক অক্ষমতার কারণে আয় বন্ধ হয়ে গেলে ক্ষতিপূরণ বা আর্থিক সাহায্য পায়। এটি মূলত পারস্পরিক সহযোগিতা ও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত মেয়র খালিদ হোসেনের কার্যক্রম পাঠ্যবইয়ের ‘১৬০১ সালের এলিজাবেথীয় দরিদ্র আইন’ (Elisabethan Poor Law 1601)-এর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।

    ১৬০১ সালের এলিজাবেথীয় দরিদ্র আইনের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে ছিল সাহায্যপ্রার্থীদের স্থায়ী বাসিন্দা হওয়া বা নির্দিষ্ট সময় সেখানে বসবাস করা (Settlement), নিকটাত্মীয়দের সহায়তার দায়িত্ব দেওয়া এবং দরিদ্রদের শ্রেণিবিন্যাস (যেমন: সক্ষম দরিদ্র, অক্ষম দরিদ্র ও নির্ভরশীল বালক-বালিকা) করে পৃথক সেবার ব্যবস্থা করা।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, মেয়র খালিদ হোসেন সাহায্য পেতে নির্বাচনি এলাকায় স্থায়ী বাসিন্দা হওয়া বা নির্দিষ্ট সময় বসবাসের শর্ত আরোপ করেছেন। তিনি সম্পদশালী নিকটাত্মীয়দের দায়িত্ব নিতে উৎসাহিত করেন এবং সুষ্ঠু বণ্টনের জন্য সাহায্যার্থীদের বিভিন্ন শ্রেণিতে বিভক্ত করে পৃথক কর্মসূচির মাধ্যমে সেবা দেন। এই পদক্ষেপগুলো ১৬০১ সালের এলিজাবেথীয় দরিদ্র আইনের নীতির হুবহু প্রতিফলন, তাই তার কার্যক্রম উক্ত আইনের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    আমাদের দেশের দারিদ্র্য দূরীকরণে উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত আইন অর্থাৎ ‘১৬০১ সালের এলিজাবেথীয় দরিদ্র আইন’-এর মূল নীতি ও কাঠামোর গুরুত্ব অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

    প্রথমত, এ আইনে দরিদ্রদের তিনটি শ্রেণিতে (সক্ষম, অক্ষম ও নির্ভরশীল শিশু) ভাগ করে সেবাদানের কথা বলা হয়েছে। বাংলাদেশেও দারিদ্র্য বিমোচনে ঢালাওভাবে সাহায্য না দিয়ে সক্ষম দরিদ্রদের কাজের সুযোগ বা বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ, অক্ষমদের সরাসরি আর্থিক বা খাদ্য সহায়তা এবং এতিম-দুস্থ শিশুদের শিক্ষা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।

    দ্বিতীয়ত, আইনের ‘পারিবারিক দায়িত্ব’ নীতির মতো সম্পদশালী নিকটাত্মীয়দের দায়বদ্ধ করা গেলে রাষ্ট্রের ওপর একক চাপ কমে এবং সামাজিক বন্ধন সুদৃঢ় হয়। এছাড়া নির্দিষ্ট এলাকায় সহায়তার ব্যবস্থা থাকলে প্রকৃত দুস্থদের সহজে চিহ্নিত করা যায় এবং অপব্যবহার রোধ হয়।

    অতএব, এলিজাবেথীয় দরিদ্র আইনের শ্রেণিবিন্যাসভিত্তিক ও সুশৃঙ্খল সহায়তা প্রদানের দর্শন আধুনিক যুগেও বাংলাদেশের বাস্তবতায় বাস্তবমুখী দরিদ্রকল্যাণ ও দারিদ্র্য দূরীকরণে অত্যন্ত ফলপ্রসূ হতে পারে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন