গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ২য় পত্র • রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, ঢাকা • রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, ঢাকা টেস্ট পরীক্ষা ২০২৬

গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

উদ্দীপকটি লক্ষ্য করো:চার্ট A: ভাত, রুটি, আলু, মিষ্টিচার্ট B: মাছ, মাংস, ডিম, দুধ

  1. ক)

    পরিপাক কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    মানবদেহের জন্য ফ্যাট কেন গুরুত্বপূর্ণ? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    চার্টে A তে প্রদর্শিত খাদ্যের পরিপাক ক্রিয়া ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    চার্টে B-তে প্রদর্শিত খাদ্যগুলো মানবদেহে যেভাবে অ্যামাইনো অ্যাসিডে পরিণত হয়ে পরিপাক সম্পন্ন করে তা আলোচনা করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যে জৈব-রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় জটিল ও অদ্রবণীয় খাদ্য উপাদান বিভিন্ন উৎসেচক বা এনজাইমের উপস্থিতিতে ভেঙে সরল, দ্রবণীয় এবং শোষণযোগ্য উপাদানে পরিণত হয়, তাকে পরিপাক বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ফ্যাট বা চর্বি মানবদেহের শক্তির প্রধান উৎস হিসেবে কাজ করে (প্রতি গ্রাম ফ্যাট থেকে ৯ কিলোক্যালরি শক্তি পাওয়া যায়)। এটি ত্বকের নিচে সঞ্চিত থেকে শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে এবং গুরুত্বপূর্ণ অভ্যন্তরীণ অঙ্গগুলোকে আঘাত থেকে রক্ষা করে। এছাড়া ফ্যাট-দ্রবণীয় ভিটামিন (যেমন: এ, ডি, ই এবং কে) শোষণের জন্য ফ্যাট অপরিহার্য।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    চার্ট A-তে প্রদর্শিত খাদ্যগুলো (ভাত, রুটি, আলু, মিষ্টি) হলো শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাদ্য। এর পরিপাক প্রক্রিয়া নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:

    ১. মুখবিবরে: মুখগহ্বরে খাদ্য চর্বনের সময় লালারসের টায়ালিন ও মলটেজ এনজাইম সিদ্ধ শর্করাকে ভেঙে মলটোজ ও আইসোমলটোজে রূপান্তর করে।
    ২. পাকস্থলীতে: পাকস্থলীর অম্লীয় পরিবেশে শর্করা পরিপাককারী কোনো নির্দিষ্ট এনজাইম কার্যকর থাকে না, ফলে এখানে কার্বোহাইড্রেটের পরিপাক ঘটে না।
    ৩. ক্ষুদ্রান্ত্রে: পাকস্থলী থেকে খাদ্য মণ্ড ক্ষুদ্রান্ত্রে পৌঁছালে অগ্ন্যাশয় রসের অ্যামাইলেজ শ্বেতসারকে মলটোজে পরিণত করে। এরপর অন্ত্রের রস থেকে নিঃসৃত মলটেজ, সুকরেজ ও ল্যাকটেজ এনজাইমের ক্রিয়ায় ডাইস্যাকারাইডগুলো যথাক্রমে গ্লুকোজ, ফ্রুক্টোজ ও গ্যালাকটোজে (সরল শর্করা) পরিণত হয়ে শোষণ উপযোগী হয়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    চার্ট B-এর খাদ্যগুলো (মাছ, মাংস, ডিম, দুধ) হলো আমিষ বা প্রোটিন জাতীয় খাদ্য। আমিষ পরিপাকের মাধ্যমে অ্যামাইনো অ্যাসিডে পরিণত হওয়ার প্রক্রিয়াটি নিম্নরূপ:

    ১. মুখবিবরে পরিপাক: মুখগহ্বরে আমিষ পরিপাককারী কোনো এনজাইম না থাকায় এখানে কোনো রাসায়নিক পরিবর্তন হয় না; শুধু খাদ্য চর্বিত হয়ে পিচ্ছিল হয়।
    ২. পাকস্থলীতে পরিপাক: গ্যাস্ট্রিক রসের হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিডের প্রভাবে নিষ্ক্রিয় পেপসিনোজেন সক্রিয় পেপসিনে পরিণত হয়। পেপসিন প্রোটিনকে ভেঙে পেপটোনে পরিণত করে। শিশুদের ক্ষেত্রে রেনিন এনজাইম দুধের কেসিনকে প্যারাকেসিনে রূপান্তর করে।
    ৩. ক্ষুদ্রান্ত্রে পরিপাক:

    • অগ্ন্যাশয় রসে থাকা ট্রিপসিন পেপটোনকে ভেঙে ক্ষুদ্র পেপটাইডে পরিণত করে।
    • কাইমোট্রিপসিন ও কার্বক্সিপেপটাইডেজ জটিল প্রোটিন খণ্ডকে ভেঙে পেপটাইড তৈরি করে।
    • পরিশেষে আন্ত্রিক রসের ইরেপসিন (অ্যামাইনোপেপটাইডেজ ও ডাইপেপটাইডেজ) পেপটাইড বা ডাইপেপটাইডকে ভেঙে সরল ও শোষণযোগ্য একক 'অ্যামাইনো অ্যাসিড'-এ রূপান্তর করে পরিপাক সম্পন্ন করে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন