‍ইতিহাস ১ম পত্র • শাসনতান্ত্রিক সংস্কার ও জাতীয় আন্দোলন • Combined Board • কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর, বরিশাল, দিনাজপুর বোর্ড ২০২৩

‍ইতিহাস ১ম পত্র প্রশ্ন

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তরকালে তৎকালীন শক্তিশালী রাষ্ট্র সমূহের রাজনৈতিক মতাদর্শে ইউরোপের শক্তিশালী রাষ্ট্র পুর্ব জার্মানি ও পশ্চিম জার্মানি নামে বিভক্ত হয়। পরবর্তীতে ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দে বৈশ্বিক পুঁজিবাদের জোয়ারে বিভক্ত জার্মানি পুনরায় একত্রিত হয়।

  1. ক)

    ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস কত খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত হয়?

    (1)
  2. খ)

    মাউন্টব্যাটেন পরিকল্পনা বলতে কি বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের ঘটনাটি তোমার পাঠ্যপুস্তক এর কোন ঘটনার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উক্ত ঘটনার তাৎপর্য পাঠ্যপুস্তকের আলোকে বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ১৮৮৫ খ্রিস্টাব্দে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠিত হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ১৯৪৭ সালের ৩ জুন ভারতের শেষ ভাইসরয় লর্ড মাউন্টব্যাটেন ভারতীয় উপমহাদেশের ক্ষমতা হস্তান্তরের যে পরিকল্পনা ঘোষণা করেন, তাকে মাউন্টব্যাটেন পরিকল্পনা বলা হয়। এই পরিকল্পনার মূল বিষয় ছিল ধর্মীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে ব্রিটিশ ভারতকে বিভক্ত করে ভারত ও পাকিস্তান নামে দুটি পৃথক স্বাধীন ডোমিনিয়ন গঠন করা এবং পাঞ্জাব ও বাংলাকে বিভক্ত করা।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের ঘটনাটি আমার পাঠ্যপুস্তকের ১৯০৫ সালের 'বঙ্গভঙ্গ' এবং পরবর্তীতে ১৯১১ সালের 'বঙ্গভঙ্গ রদ' বা বাংলার পুনরেকত্রীকরণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

    উদ্দীপকে যেভাবে একটি ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক একককে দুই ভাগে ভাগ করা হয় এবং পরবর্তীকালে পুনরায় একত্রিত করা হয়, ভারতের ইতিহাসেও ঠিক তেমনিভাবে বাংলাকে বিভক্ত ও একত্রিত করা হয়েছিল। ১৯০৫ সালে লর্ড কার্জন প্রশাসনিক সুবিধার অযুহাতে কিন্তু মূলত জাতীয়তাবাদী আন্দোলন দুর্বল করতে বাংলাকে পূর্ববঙ্গ ও পশ্চিমবঙ্গ নামে দুটি প্রদেশে বিভক্ত করেন।

    পরবর্তীতে বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে তীব্র স্বদেশী আন্দোলন ও বয়কট আন্দোলনের মুখে ব্রিটিশ সরকার নতি স্বীকার করে এবং ১৯১১ সালের ১২ ডিসেম্বর সম্রাট পঞ্চম জর্জের দিল্লি দরবারে বঙ্গভঙ্গ রদ ঘোষণা করে বিভক্ত বাংলাকে পুনরায় একত্রিত করা হয়। সুতরাং, উদ্দীপকের জার্মানির বিভাজন ও পুনরেকত্রীকরণ পাঠ্যপুস্তকের বঙ্গভঙ্গ ও বঙ্গভঙ্গ রদের অনুরূপ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের পুনরেকত্রীকরণের ঘটনাটি বঙ্গভঙ্গ রদের (১৯১১ খ্রি.) সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ভারতীয় উপমহাদেশের রাজনীতিতে এই ঘটনার তাৎপর্য ছিল অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী।

    বঙ্গভঙ্গ রদের তাৎপর্য পাঠ্যপুস্তকের আলোকে বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. বাঙালি হিন্দুদের আনন্দ ও জাতীয়তাবাদের বিজয়: বঙ্গভঙ্গ রদের মাধ্যমে কংগ্রেস এবং হিন্দু বুদ্ধিজীবী ও জাতীয়তাবাদী নেতাদের দীর্ঘদিনের আন্দোলন সাফল্য লাভ করে। একে বাঙালি জাতীয়তাবাদের বিজয় হিসেবে দেখা হয়।

    ২. মুসলিম সম্প্রদায়ের চরম হতাশা ও ক্ষোভ: পূর্ববঙ্গের মুসলিম সম্প্রদায়, যারা নতুন প্রদেশের মাধ্যমে শিক্ষা, চাকরি ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার স্বপ্ন দেখেছিল, তারা ব্রিটিশ সরকারের এই সিদ্ধান্তে চরম আঘাত পায়। ব্রিটিশদের ওপর থেকে তাদের আস্থা হ্রাস পায়।

    ৩. মুসলিম রাজনীতির নতুন মোড়: বঙ্গভঙ্গ রদের ফলে মুসলিম নেতারা উপলব্ধি করেন যে নিজেদের অধিকার রক্ষায় কংগ্রেস বা ব্রিটিশদের ওপর নির্ভর না করে স্বাধীন রাজনৈতিক অবস্থান মজবুত করা প্রয়োজন। এর ফলে মুসলিম লীগের কর্মকাণ্ড আরও জোরদার হয় এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হয় (১৯২১)।

    ৪. সাম্প্রদায়িক বিভেদের বিস্তার: এই ঘটনার ফলে হিন্দু ও মুসলিম দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে রাজনৈতিক ও মনস্তাত্ত্বিক দূরত্ব বৃদ্ধি পায়, যা পরবর্তীকালে দ্বিজাতিতত্ত্বের বিকাশ এবং ১৯৪৭ সালের ভারত বিভাজনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে।

    পরিশেষে বলা যায়, বঙ্গভঙ্গ রদের ঘটনাটি ব্রিটিশ ভারতীয় রাজনীতিতে এক নতুন মেরুকরণের সৃষ্টি করে, যার দীর্ঘমেয়াদি ফলাফল ছিল উপমহাদেশের চিরস্থায়ী বিভাজন।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন