ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র • বাংলার ইতিহাস (পাকিস্তান আমল) • Combined Board • রাজশাহী, কুমিল্লা, যশোর বোর্ড ২০২২

ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র প্রশ্ন

সুমনের বাবা বলল, শহীদ মিনার, প্রভাতপুরী এসব অর্থহীন আনুষ্ঠানিকতা বা লৌকিকতা নয়। এর রয়েছে অধিকার প্রতিষ্ঠার বিরাট এক গৌরবময় ইতিহাস। সেই ইতিহাস রক্তদানের। রক্ত ঢেলে দিয়েছিল সালাম বরকতসহ আরো অনেক সংগ্রামী যুবক।

  1. ক)

    বঙ্গভঙ্গ রদ হয় কত সালে?

    (1)
  2. খ)

    লাহোর প্রস্তাবের মূল বিষয় কি ছিল? ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে বাংলাদেশের কোন আন্দোলনের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে? আন্দোলনের ঘটনা প্রবাহ সংক্ষেপে বর্ণনা করো

    (3)
  4. ঘ)

    উক্ত আন্দোলনের তাৎপর্য বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ রদ হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ নিখিল ভারত মুসলিম লীগের লাহোর অধিবেশনে শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাব উত্থাপন করেন।

    লাহোর প্রস্তাবের মূল বিষয় ছিল ভারতের উত্তর-পশ্চিম এবং পূর্ব অঞ্চলের মতো মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলগুলোকে নিয়ে 'স্বাধীন রাষ্ট্রসমূহ' (Independent States) গঠন করা, যার অঙ্গরাজ্যগুলো হবে স্বায়ত্তশাসিত ও সার্বভৌম। এই প্রস্তাবে সংখ্যালঘুদের অধিকার সংরক্ষণের নিশ্চয়তা দেওয়া হয়। যদিও পরবর্তীতে এই প্রস্তাবের ভিত্তিতেই দ্বিজাতিতত্ত্ব রূপ পেয়ে পাকিস্তান রাষ্ট্রের সৃষ্টি হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বাংলাদেশের ১৯৫২ সালের মহান 'ভাষা আন্দোলন'-এর প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।

    ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকেই পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙালির মাতৃভাষা বাংলাকে বাদ দিয়ে উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার ষড়যন্ত্র শুরু করে। এর প্রতিবাদে বাঙালি সমাজ রুখে দাঁড়ায় এবং তমদ্দুন মজলিস ও সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি পূর্ব পাকিস্তান আইনসভার অধিবেশন চলাকালে ১৪৪ ধারা ভেঙে ছাত্র-জনতা মিছিল বের করে। ঢাকা মেডিকেল কলেজের সামনে মিছিলের ওপর পুলিশ অতর্কিত গুলিবর্ষণ করলে বরকত, সালাম, রফিক, জব্বারসহ অনেকে শহীদ হন। ২২ ফেব্রুয়ারিও শোকমিছিলে গুলিতে শহীদ হন শফিউরসহ অনেকে। ছাত্র-জনতার রক্তদানের ফলে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী শেষ পর্যন্ত বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি দিতে বাধ্য হয়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উক্ত আন্দোলন, অর্থাৎ ১৯৫২ সালের মহান ভাষা আন্দোলন ছিল বাঙালি জাতীয়তাবাদের মূল ভিত্তি এবং স্বাধীনতার প্রথম সোপান।

    ভাষা আন্দোলনের তাৎপর্য অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী:
    ১. বাঙালি জাতীয়তাবাদের উন্মেষ: ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে বাঙালিরা প্রথম তাদের স্বতন্ত্র সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সত্ত্বা উপলব্ধি করে, যা ধর্মাশ্রয়ী পাকিস্তানি জাতীয়তাবাদের মূলে কুঠারাঘাত করে।
    ২. পরবর্তী আন্দোলনের অনুপ্রেরণা: ভাষা আন্দোলনের সাফল্যই পরবর্তীতে ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলন, ১৯৬৬ সালের ছয় দফা, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রত্যক্ষ অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে।
    ৩. অধিকার সচেতনতা ও ঐক্য: এই আন্দোলন বাঙালির মধ্যে অন্যায় ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিবাদ করার সাহস জুগিয়েছিল।
    ৪. আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি: রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এই আন্দোলনের স্বীকৃতিস্বরূপ ইউনেস্কো ১৯৯৯ সালে ২১ ফেব্রুয়ারিকে 'আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস' হিসেবে ঘোষণা করে, যা বিশ্বমঞ্চে বাঙালির গৌরব বৃদ্ধি করেছে।

    সুতরাং, ভাষা আন্দোলন শুধু ভাষার মর্যাদাই প্রতিষ্ঠা করেনি, বরং বাঙালি জাতিকে একটি স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পথে চালিত করেছিল।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন