কৃষিশিক্ষা ২য় পত্র • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, বরিশাল, সিলেট, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২২
কৃষিশিক্ষা ২য় পত্র প্রশ্ন
সাবিনার ২০০টি হাঁসের একটি খামার আছে। একদিন হঠাৎ করে তার খামারের কয়েকটি হাঁস মারা যায়। সে লক্ষ করে দেখল যে, তার খামারের কিছু খাঁসের নাক-মুখ দিয়ে তরল পদার্থ বের হচ্ছে এবং হাঁসগুলো আলো দেখলে ভয় পাচ্ছে। এ বিষয়ে প্রাণিচিকিৎসকের শরণাপন্ন। যলে তিনি খামার পরিদর্শন করে বললেন যে, সাবিনার খামারে একটি মারাত্মক রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটেছে এবং এই রোগ প্রতিকার ও প্রতিরোধের। জন্য কী করণীয় তা তিনি পাবিনাকে বুঝিয়ে দিলেন
- ক)(1)
পুলেট কী?
- খ)(2)
হাঁস পালন লাভজনক কেন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
সাবিনার খামারের হাঁস কোন রোগে আক্রান্ত-ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
সাবিনার খামারের হাঁসের রোগ প্রতিরোধ ও প্রতিকারের উপায় বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ডিম উৎপাদনকারী বাড়ন্ত বয়সের অপ্রাপ্তবয়স্ক স্ত্রী মুরগিকে (সাধারণত ডিম পাড়ার পূর্ব পর্যন্ত বা ৮ থেকে ১৮-২০ সপ্তাহ বয়স পর্যন্ত) পুলেট বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হাঁস পালন অত্যন্ত লাভজনক কারণ হাঁসের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা মুরগির চেয়ে তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি, ফলে এদের মৃত্যুর ঝুঁকি কম। হাঁস নদী-নালা, খাল-বিল বা জলাশয়ে চরে শামুক, ঝিনুক, জলজ উদ্ভিদ ও পোকামাকড় খেয়ে তাদের পুষ্টির বড় অংশের জোগান দিতে পারে, যার কারণে খাদ্য খরচ অনেক কম হয়। এছাড়া হাঁসের ডিম ও মাংস আকারে বড় হওয়ায় বাজারে ভালো দামে বিক্রি হয়, যা অল্প পুঁজিতে দ্রুত মুনাফা এনে দেয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সাবিনার খামারের হাঁসগুলো 'ডাক প্লেগ' বা হাঁসের প্লেগ রোগে আক্রান্ত।
ডাক প্লেগ একটি তীব্র ভাইরাসজনিত সংক্রামক রোগ, যা হার্পিস গোত্রের ভাইরাসের মাধ্যমে ছড়ায়। উদ্দীপকে দেখা যায়, হাঁসগুলো হঠাৎ করে মারা যাচ্ছে, নাক ও মুখ দিয়ে তরল পদার্থ নির্গত হচ্ছে এবং আক্রান্ত হাঁস আলো দেখলে ভয় পাচ্ছে (ফটোফোবিয়া)। এই লক্ষণগুলো ডাক প্লেগ রোগের সুস্পষ্ট লক্ষণ। এ রোগে হাঁসের চোখ লাল হয়ে যায়, চোখের পাতা ফুলে যায়, তৃষ্ণা বেড়ে যায় এবং হাঁস মাথা ঝাঁকাতে থাকে। উদ্দীপকের বর্ণিত পরিস্থিতি অনুযায়ী নিশ্চিতভাবেই সাবিনার খামারে ডাক প্লেগ রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটেছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সাবিনার খামারে ছড়িয়ে পড়া ডাক প্লেগ একটি সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ হওয়ায় এ রোগ প্রতিরোধ এবং প্রতিকারের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো:
রোগের প্রতিকার ব্যবস্থা:
১. ডাক প্লেগ একটি ভাইরাসজনিত রোগ হওয়ায় এর সরাসরি কোনো সুনির্দিষ্ট প্রতিকারমূলক চিকিৎসা নেই।
২. তবে সেকেন্ডারি ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণ রোধের জন্য এবং মৃত্যুর হার কমাতে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্রড স্পেকট্রাম অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগ করা যেতে পারে।
৩. আক্রান্ত হাঁসগুলোর শরীরে যাতে পানিশূন্যতা না হয় সেজন্য ভিটামিন ও গ্লুকোজযুক্ত স্যালাইন সরবরাহ করতে হবে।রোগের প্রতিরোধ ব্যবস্থা (যা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ):
১. নিয়মিত টিকাদান: খামারের সকল সুস্থ হাঁসকে সঠিক বয়স অনুযায়ী নিয়মিত ডাক প্লেগ ভ্যাকসিন প্রদান করতে হবে। সাধারণত হাঁসের ছানাকে ২১-২৮ দিন বয়সে প্রথম এবং পরে চিকিৎসকের পরামর্শে বুস্টার ডোজ দেওয়া আবশ্যক।
২. পৃথকীকরণ ও নিষ্কাশন: আক্রান্ত হাঁসগুলোকে তাৎক্ষণিকভাবে সুস্থ হাঁসদের দল থেকে আলাদা করতে হবে। মৃত হাঁসকে পুড়িয়ে ফেলতে হবে বা গভীর গর্ত করে মাটির নিচে পুঁতে ফেলতে হবে।
৩. খামারের জৈব নিরাপত্তা: খামার ঘর, খাবার ও পানির পাত্র নিয়মিত জীবাণুনাশক দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে। আক্রান্ত হাঁসকে কোনো উন্মুক্ত জলাশয়ে যেতে দেওয়া যাবে না।অতএব, যথাযথ টিকাদান ও স্বাস্থ্যসম্মত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমেই এ রোগের ঝুঁকি নির্মূল করা সম্ভব।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও