মনোবিজ্ঞান ২য় পত্র • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, বরিশাল, সিলেট, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২২

মনোবিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    পরীক্ষণ পদ্ধতি কী?

    (1)
  2. খ)

    পুনরাবৃত্তিকে কেন পরীক্ষণ পদ্ধতির গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য বলা হয়?

    (2)
  3. গ)

    ক' চিহ্নিত চলের ব্যাখ্যা দাও।

    (3)
  4. ঘ)

    পরীক্ষণে 'গ' ও 'ঘ' চলের গুরুত্ব আলোচনা করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে কোনো ঘটনা বা আচরণের কারণ ও ফলাফলের মধ্যে সম্পর্ক নির্ণয়ের জন্য বৈজ্ঞানিক উপায়ে যে তথ্য সংগ্রহ ও পর্যবেক্ষণ করা হয়, তাকে পরীক্ষণ পদ্ধতি বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    পরীক্ষণের ফলাফল নির্ভরযোগ্য ও সর্বজনগ্রাহ্য কি না তা যাচাই করার জন্য পরীক্ষণটি একাধিকবার একই শর্তাধীনে পরিচালনা করাকে পুনরাবৃত্তি বলে।
    পুনরাবৃত্তির মাধ্যমে কোনো ফলাফলের আকস্মিকতা বা ব্যক্তিগত ত্রুটি দূর করা সম্ভব হয় এবং প্রাপ্ত ফলাফল দৈবক্রমে ঘটেনি বরং কার্যকর নিয়মের ভিত্তিতে ঘটেছে তা নিশ্চিত করা যায়। তাই পুনরাবৃত্তিকে পরীক্ষণ পদ্ধতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য বলা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের ছকে প্রদর্শিত 'ক' চিহ্নিত চলটি হলো 'স্বাধীন চল' (Independent Variable)।

    পরীক্ষণে যে চলটিকে পরীক্ষণকারী ইচ্ছামতো পরিবর্তন, প্রয়োগ বা নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন এবং যার প্রভাব বা ফলাফল অন্য চলের ওপর লক্ষ করা হয়, তাকে স্বাধীন চল বলে। সহজ কথায়, এটি হলো কারণ বা প্রভাব বিস্তারকারী উপাদান।

    মনোবৈজ্ঞানিক গবেষণায় গবেষক স্বাধীন চলকে বিভিন্ন মাত্রায় প্রয়োগ করেন যাতে নির্ভরশীল চলের ওপর তার প্রতিক্রিয়া পর্যবেক্ষণ ও পরিমাপ করা যায়। যেমন—শিক্ষণের ওপর পুরস্কারের প্রভাব যাচাইয়ের ক্ষেত্রে 'পুরস্কার' হলো স্বাধীন চল। এখানে গবেষক পুরস্কারের উপস্থিতি বা অনুপস্থিতি এবং এর পরিমাণের তারতম্য ঘটিয়ে এর কার্যকারিতা নির্ণয় করেন। অতএব, উদ্দীপকের 'ক' চিহ্নিত চলটি হলো স্বাধীন চল।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের ছকে 'গ' ও 'ঘ' চিহ্নিত চল দুটি যথাক্রমে 'মধ্যবর্তী চল' (Intervening Variable) এবং 'বাহ্যিক চল' বা 'নিয়ন্ত্রিত চল' (Extraneous/Controlled Variable)।

    মনোবৈজ্ঞানিক পরীক্ষণে এ দুটি চলের গুরুত্ব নিচে আলোচনা করা হলো:

    ১. মধ্যবর্তী চল ('গ'):
    স্বাধীন চল এবং নির্ভরশীল চলের মধ্যবর্তী প্রক্রিয়ায় যেসব অভ্যন্তরীণ জৈবিক বা মানসিক উপাদান কাজ করে, তাদের মধ্যবর্তী চল বলা হয় (যেমন—ক্লান্তি, প্রেষণা, বুদ্ধি, মনোযোগ, আবেগ ইত্যাদি)। পরীক্ষণ পাত্রের অভ্যন্তরীণ এই উপাদানগুলো নির্ভরশীল চলের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। পরীক্ষণকারী যদি মধ্যবর্তী চলগুলোর প্রভাব বিবেচনা বা নিয়ন্ত্রণ না করেন, তবে প্রাপ্ত ফলাফল নির্ভুল হবে না। তাই পরীক্ষণের সঠিক কারণ-ফলাফল সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করতে মধ্যবর্তী চলের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    ২. বাহ্যিক চল বা নিয়ন্ত্রিত চল ('ঘ'):
    স্বাধীন চল ব্যতীত যে সমস্ত বাহ্যিক বা পরিবেশগত উপাদান অনিচ্ছাকৃতভাবে নির্ভরশীল চলের ফলাফলে হস্তক্ষেপ বা বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে, সেগুলোকে বাহ্যিক চল বলে (যেমন—আলো, কোলাহল, তাপমাত্রা, সময় ইত্যাদি)। পরীক্ষণকে বৈজ্ঞানিক ও বস্তুনিষ্ঠ করার জন্য গবেষককে কৌশলে (যেমন—বাতিলকরণ, স্থির রাখা বা ভারসাম্যকরণ পদ্ধতির মাধ্যমে) এ সকল বাহ্যিক চল নিয়ন্ত্রণ করতে হয়। বাহ্যিক চল যথাযথভাবে নিয়ন্ত্রিত না হলে স্বাধীন চলের প্রকৃত প্রভাব চিহ্নিত করা অসম্ভব হয়ে পড়ে।

    সুতরাং, একটি পরীক্ষণের যথার্থতা, নির্ভরযোগ্যতা ও বস্তুনিষ্ঠতা নিশ্চিত করার জন্য 'গ' (মধ্যবর্তী চল) এবং 'ঘ' (বাহ্যিক চল)-এর ভূমিকা ও সঠিক নিয়ন্ত্রণ অপরিসীম।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন