Combined Board চট্টগ্রাম, বরিশাল, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৭
22টি প্রশ্ন
- 1.
জাহিদ হাসান স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে গ্রামে বসবাস করতেন। কিন্তু গ্রামে আয়ের ভাল ব্যবস্থা না থাকায় কাজের সন্ধানে তিনি শহরে যান
এবং রিকশা চালিয়ে সংসার চালান। তিনি যা আয় করেন। তা দিয়ে সংসারের সবার খাবারের ব্যবস্থা করতে পারেন। বাসার পাশেই
সরকারি প্রাইমারি স্কুল থাকায় ছেলেমেয়েদের লেখাপড়াও করান। কিন্তু স্বল্প আয়ের কারণে স্ত্রী-সন্তানদের প্রয়োজনমত কাপড়- চোপড়
কিনে দিতে পারেন না, অসুস্থ হলে চিকিৎসা করাতে পারেন না এবং অবসর সময় কাটানোর জন্য একটি টিভিও কিনে দিতে পারেন না।
তবে বস্তি এলাকায় বাস করলেও ঘরে থাকতে তাদের খুব একটা অসুবিধা হয় না। - 2.
দরিদ্র বাবার সন্তান শারমিনের অল্প বয়সে বিয়ে হয়। বিয়ের এক বছর পরে তার একটি প্রতিবন্ধী সন্তান হয়।
শারমিনের স্বামী তার ভরণপোষণ করতে না পেরে তাকে তালাক দেয়। দরিদ্র, অসহায় ও স্বামী পরিত্যক্তা
শারমিন প্রতিবন্ধী সন্তানটিকে নিয়ে খুবই কষ্টে আছে। - 3.
ফারজানা হক পরিবারের একমাত্র সন্তান। মা-বাবা কাজের প্রয়োজনে বাইরে গেলে সে বাসায় একা থাকে। খেলার সাথি পায় না।
এই একাকিত্ব তাকে অসুস্থ করে তোলে। তার মধ্যে একধরনের ভ্রান্তি বা ব্যক্তিত্বের অস্বাভাবিকতা তৈরি হয়। সে বড় হলেও সবার
সাথে মিলেমিশে চলতে পারে না। তাই তার মা-বাবা তার জন্য বড়ই দুশ্চিন্তাগ্রস্ত। - 4.
সবুর মিয়ার তিন মেয়ে। বড় মেয়েটিকে পনের বছর বয়সে বেকার রফিকের কাছে বিয়ে দেন। বিয়ের সময় বরকে একটি মোটরসাইকেল
ও এক লক্ষ টাকা দেওয়ার চুক্তি হয়। ধার করে এক লক্ষ টাকা পরিশোধ করলেও মোটরসাইকেল দিতে পারেননি। তাই তার স্বামী বিভিন্ন
সময় মেয়েটির উপর নির্যাতন চালায়। স্বামীর নির্যাতন সইতে না পেরে এক সময় মেয়েটি জীবন দিল। - 5.
- 6.
জামিল একটি এনজিওতে চাকরি করেন। তার প্রতিষ্ঠানে দশ থেকে বেশি বয়সের শ্রমজীবী ছেলে-মেয়েদের শিক্ষার ব্যবস্থা করা হয়।
তারপর তাদেরকে সামাজিকভাবে পুনর্বাসিত করার জন্য বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। - 7.
জালাল হোসেন একটি মানবকল্যাণধর্মী প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। এই প্রতিষ্ঠানটি জাতিসংঘের অন্তর্ভুক্ত একটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানটি শিশুর খাদ্য, পুষ্টি ও নিরাপত্তা বিধানের জন্য কাজ করে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে এ প্রতিষ্ঠানটি তাদের সেবাকর্ম পরিচালনা করে থাকে।
- 8.
জহিরুল ইসলাম একজন সমাজসেবা অফিসার। তিনি বাংলাদেশ সরকারের কতগুলো লক্ষ্যকে বাস্তবায়ন করার জন্য নিযুক্ত হলেন। লক্ষ্যগুলি হলো- দরিদ্রদের স্বকর্মসংস্থানের জন্য সুদমুক্ত ঋণদান, বস্তিবাসীদের জন্য বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ প্রদান, বিপন্ন পরিবেশে বসবাসরত শিশুদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পুষ্টির মান উন্নয়ন, স্থানান্তরিতদের নিজ বাড়ীতে ফিরে যেতে উদ্বুদ্ধকরণ এবং স্থানীয় নেতৃত্বের বিকাশ সাধন।
- 9.
আব্দুল জলিল তিন সন্তানের জনক। বড় ছেলে চাকুরি করে এবং অন্য দুই ছেলে স্থানীয় কলেজে লেখাপড়া করে। কিছুদিন পূর্বে বড় ছেলের বিয়ে দেন। কিন্তু চাকুরি করার কারণে আব্দুল জলিল এর বড় ছেলে তার স্ত্রীকে নিয়ে ঢাকায় বসবাস করেন এবং গ্রামে মা-বাবার জন্য টাকা পাঠান।
- 10.
কাবিল মিয়া দুষ্ট প্রকৃতির লোক। অনাথ জরিনা বেগমকে বিয়ে করে। বিয়ের পর কারণে-অকারণে জরিনাকে মারপিট করে। একদিন সে জরিনাকে এক নারী পাচারকারী দালালের কাছে বিক্রি করে দেয়। জরিনার মামা বিষয়টি জানতে পেরে কাবিলের বিরুদ্ধে মামলা করে।
- 11.
সাব্বির একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজকর্ম বিষয়ের উপরসম্মান কোর্সে অধ্যয়ন করছে। তাকে তার শ্রেণি শিক্ষক পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য কোনো একটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে প্রেরণ করেন এবং কিছু পরামর্শ দেন যা তাকে তার লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য অবশ্যই পালন করতে হবে। পরামর্শগুলো হলো- সমস্যাগ্রস্ত ব্যক্তিকে সাদরে গ্রহণ করবে,
ক্লায়েন্টদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করবে,
ক্লায়েন্টদের সাথে সু-সম্পর্ক স্থাপন করবে,
ক্লায়েন্টদের সাথে ব্যক্তিগত সম্পর্ক স্থাপন করবে না
এবং ক্লায়েন্টদের প্রয়োজনীয় তথ্য প্রকাশ করবে না। - 12.
নাসির এবং তার আরও দশজন বন্ধু কৃষি বিষয়ে উচ্চ। শিক্ষার জন্য বিদেশে যায়। বিদেশে থাকাকালীন তারা তাদের বাবা- মায়ের সাথে মোবাইল, ফেসবুক, ই-মেইল ইত্যাদির মাধ্যমে প্রতিদিন যোগাযোগ করত। বর্তমানে তারা এদেশে উন্নতজাতের ধান উৎপাদনের জন্য গবেষণা করে দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করার কাজে নিয়োজিত রয়েছে।
- 13.
রতনপুর গ্রামের অধিকাংশ মানুষই অশিক্ষিত। চিকিৎসার জন্য এখানকার মানুষ ঝাড়-ফুঁক, তাবিজ-কবজের ওপরই বেশি নির্ভরশীল। সরকার তাদের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করার জন্য একটি আধুনিক হাসপাতাল নির্মাণ করে দেয়। কিন্তু গ্রামের মানুষের বেশিরভাগই "আগের চিকিৎসা ব্যবস্থাতেই ভালো হয়" এই বিশ্বাসে অটল। হাসপাতালের ডাক্তাররা বোঝাতে চাইলেও তারা পুরোনো বিশ্বাস বদলাতে চায় না।
- 14.
মৌরিন একজন পেশাদার খ্যাতিমান নৃত্যশিল্পী। তার প্রিয় নাচের মধ্যে অন্যতম হলো 'লাইহারাউবা'। কিছুদিন আগে সে 'নোংগক্রেম' নামে নতুন একটি নাচ শিখেছে, যা সে সিলেটে গিয়ে "বেহদিয়েং খৃলাম" নামক একটি উৎসবে নেচেছিল।
- 15.
যতিন বাবু এবং শফিক সাহেব একই অফিসে চাকরি করেন। যতিন বাবুর জন্ম ১৯৪৮ সালে এবং শফিক সাহেবের জন্ম ১৯৫২ সালে। বয়স এবং ধর্মের পার্থক্য থাকলেও তাদের মধ্যে গভীর বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। ১৯৭১ সালে তারা এক সাথে না থাকলেও ঐ সময়কালে একই ধরনের ঘটনার সম্মুখীন হওয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে, যা তারা নিজেদের মধ্যে মাঝে মাঝে শেয়ার করেন।
- 16.
মিসেস আমিনা এবং মুনির সাহেব দুটি আলাদা প্রতিষ্ঠানের প্রধান ব্যক্তি। দেশি-বিদেশী বিভিন্ন উৎস থেকে টাকা সংগ্রহ করে মিসেস আমিনা গ্রামীণ দরিদ্র নারীদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ব্যবহার করেন। অন্যদিকে মুনির সাহেব গরিব, অশিক্ষিত ও অসহায় মানুষের কল্যাণে কাজ করেন, যা বিভিন্ন মন্ত্রণালয় থেকে সরাসরি মনিটরিং করা হয়।
- 17.
ঘটনা-১: রাকিব বি.এ পাস করেও পাঁচ বছর ধরে কোনো কাজের ব্যবস্থা করতে পারেনি।ঘটনা-২: মতিন নেশাজাত দ্রব্য গ্রহণ করে নেশাগ্রস্ত হয়ে থাকে। যখন নেশার টাকা সংগ্রহ করতে পারে না, তখন চুরি, ছিনতাই, খুন করতেও দ্বিধাগ্রস্ত হয় না।
- 18.
সিফাত সাহেব অনেকদিন ধরে শহরে একটি বাণিজ্যিক। প্রতিষ্ঠানে কাজ করে। গ্রামে তার আরও তিন ভাই এবং মা-বাবা রয়েছে। তার প্রিয় বন্ধু মিরাজের সহযোগিতায় সে তার ভাইদেরকে শহরে এনে মোটা বেতনে চাকরির ব্যবস্থা করে। তাই সে নিজেকে খুব সুখী ভাবে। কিন্তু গ্রামে পড়ে থাকা তার বৃদ্ধ মা-বাবার জন্য তার মন কাঁদে।
- 19.
সুমন যে বিষয় নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছিল সেখানে সমাজের সামগ্রিক দিক নিয়ে আলোচনা ছিল, যেমন- পরিবার, বিবাহ, রাষ্ট্র, ক্ষমতা, সামাজিক রীতিনীতি, সামাজিক সমস্যা ইত্যাদি। তাই সুমন তার অর্জিত জ্ঞান গ্রামের সার্বিক উন্নয়নে কাজে লাগানোর জন্য গ্রামে গেলো। কিন্তু কাজের শুরুতেই সমাজের মানুষের অশিক্ষা-কুশিক্ষা, অসচেতনতা এবং ক্ষমতার দম্ভ তাকে বাধাগ্রস্ত করল। তবু দমে না গিয়ে সে তার অর্জিত জ্ঞান দিয়ে যুবকদের সচেতন করে তুলল। কারণ সে ভেবেছে, ঐ জ্ঞানই মানুষকে সচেতন করে তুলবে এবং সামাজিক সমস্যা সমাধানে তা কার্যকর হবে।
- 20.
সুখেন দাস তার জীবিকার প্রয়োজনে হাস-মুরগি, গরু-ছাগল। লালন পালন করে। এর পাশাপাশি তার নিজস্ব জমিতে ধান, গম, ভুট্টাসহ বিভিন্ন ফসল উৎপাদন করে থাকে। এটাই তার পেশা। তার স্ত্রী সংসারের কাজের ফাঁকে স্বামী ও সন্তানের মজাল কামনায় বিভিন্ন দেবতার উপাসনা। করে থাকে যা তার কাছে খুবই পছন্দের কাজ।
- 21.
তাসলিমা একটি বস্তিতে রুম নিয়ে বসবাস করে। পোশাক তৈরির কারখানায় সে কাজ করে। কোনো রকমে তার দিন চলে যায়। তার ছোট ভাই রফিককেও তার ঘ কাছে এনে রাখতে চেয়েছিল। কিন্তু সে রাজি নয়, কারণ মাঠে ফসল ফলানোতেই সে বেশি আনন্দ পায়।
- 22.
সুমাইয়া অষ্টম শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় তার পিতা জাহিদ মিয়া তাকে বিয়ে দেন। বিয়ের সময় পাত্রের বাবা মজিদ মিয়ার দাবী অনুযায়ী নগদ পঞ্চাশ হাজার টাকা ও টেলিভিশন দিতে জাহিদ মিয়া বাধ্য হন। বছর খানেক পরে জাহিদ মিয়া খবর পান তার মেয়ে প্রথম সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে মৃত্যুবরণ করেছে।