সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র • Combined Board • চট্টগ্রাম, বরিশাল, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৭
সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
সুমন যে বিষয় নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছিল সেখানে সমাজের সামগ্রিক দিক নিয়ে আলোচনা ছিল, যেমন- পরিবার, বিবাহ, রাষ্ট্র, ক্ষমতা, সামাজিক রীতিনীতি, সামাজিক সমস্যা ইত্যাদি। তাই সুমন তার অর্জিত জ্ঞান গ্রামের সার্বিক উন্নয়নে কাজে লাগানোর জন্য গ্রামে গেলো। কিন্তু কাজের শুরুতেই সমাজের মানুষের অশিক্ষা-কুশিক্ষা, অসচেতনতা এবং ক্ষমতার দম্ভ তাকে বাধাগ্রস্ত করল। তবু দমে না গিয়ে সে তার অর্জিত জ্ঞান দিয়ে যুবকদের সচেতন করে তুলল। কারণ সে ভেবেছে, ঐ জ্ঞানই মানুষকে সচেতন করে তুলবে এবং সামাজিক সমস্যা সমাধানে তা কার্যকর হবে।
- ক)(1)
কত' সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বতন্ত্র বিভাগ হিসেবে। সমাজবিজ্ঞান আত্মপ্রকাশ করে?
- খ)(2)
"সমাজবিজ্ঞান হচ্ছে সামাজিক সম্পর্কের বিজ্ঞান"- বুঝিয়ে লেখো।
- গ)(3)
সুমনের পঠিত বিষয়টির বাংলাদেশে গোড়াপত্তনের ক্ষেত্রে ইউনেস্কোর ভূমিকা উদ্দীপকের আলোকে ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
সুমনের ভাবনা বাংলাদেশে সমাজবিজ্ঞান পাঠের প্রয়োজনীয়তার গুরুত্বকেই তুলে ধরে- বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯৬৯ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বতন্ত্র বিভাগ হিসেবে সমাজবিজ্ঞান আত্মপ্রকাশ করে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"সমাজবিজ্ঞান হচ্ছে সামাজিক সম্পর্কের বিজ্ঞান"—উক্তিটি প্রখ্যাত সমাজবিজ্ঞানী ম্যাকাইভার ও পেজের। এর অর্থ হলো, সমাজে বসবাসকারী মানুষের পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়া, আচরণ, বন্ধন ও ক্রিয়াকলাপের মাধ্যমেই সমাজ গঠিত হয়। মানুষে মানুষে এবং বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যকার এই সম্পর্কগুলোর প্রকৃতি, ধরণ, নিয়ম ও প্রভাব বিজ্ঞানসম্মতভাবে অনুসন্ধান করাই সমাজবিজ্ঞানের মূল উপজীব্য বিষয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে সুমনের পঠিত বিষয়টি হলো 'সমাজবিজ্ঞান'। বাংলাদেশে এই বিষয়ের প্রাতিষ্ঠানিক গোড়াপত্তনের পেছনে ইউনেস্কোর (UNESCO) ভূমিকা ছিল অপরিসীম।
বাংলাদেশে সমাজবিজ্ঞান চর্চা ও পঠন-পাঠন প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায় ইউনেস্কোর সার্বিক সহযোগিতা ও পৃষ্ঠপোষকতায়। ১৯৫০-এর দশকে জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা (ইউনেস্কো)-এর প্রত্যক্ষ সহায়তায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞান পাঠের ভিত্তি স্থাপিত হয়। ১৯৫০ সালে ইউনেস্কোর সহায়তায় বিশিষ্ট ফরাসি নৃতাত্ত্বিক অধ্যাপক ক্লদ লেভি-স্ট্রস বাংলাদেশে আসেন এবং এখানে সমাজবিজ্ঞান ও সামাজিক নৃবিজ্ঞান চর্চার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। পরবর্তীকালে ১৯৫৭ সালে ড. এ. কে. নাজমুল করিমের নেতৃত্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বতন্ত্র 'সমাজবিজ্ঞান বিভাগ' প্রতিষ্ঠার পেছনে ইউনেস্কো শিক্ষক, পাঠ্যপুস্তক ও আর্থিক সহায়তা দিয়ে অনন্য ভূমিকা পালন করেছিল।
উদ্দীপকে উল্লেখিত সমাজের পরিবার, রাষ্ট্র, সমস্যা ইত্যাদি অধ্যয়নের শাস্ত্রটি হলো সমাজবিজ্ঞান, যা ইউনেস্কোর এই অবিস্মরণীয় অবদানের মাধ্যমেই বাংলাদেশে প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি লাভ করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে সুমনের ভাবনা বাংলাদেশে সমাজবিজ্ঞান পাঠের গুরুত্ব ও বাস্তব প্রয়োজনীয়তাকেই যথার্থভাবে প্রতিফলিত করে—উক্তিটি সম্পূর্ণ যৌক্তিক।
একটি উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশের সমাজব্যবস্থা নানা সমস্যায় জর্জরিত। যেমন—অশিক্ষা, দারিদ্র্য, কুসংস্কার, বেকারত্ব, জনসংখ্যার আধিক্য এবং সামাজিক বৈষম্য। সমাজবিজ্ঞান এমন একটি বিজ্ঞান যা কোনো সমাজের গঠন, মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক, আচার-অনুষ্ঠান এবং সমস্যার মূল কারণ বস্তুনিষ্ঠভাবে অনুসন্ধান করে। সমস্যার সঠিক কারণ উদ্ঘাটন করতে না পারলে কোনো টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়।
উদ্দীপকে সুমন তার বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্জিত সমাজবিজ্ঞান সম্পর্কিত জ্ঞান কাজে লাগাতে গ্রামে গিয়ে অশিক্ষা, কুশিক্ষা, কুসংস্কার ও অসচেতনতার মতো বাধার মুখে পড়ে। সে উপলব্ধি করতে পারে যে কেবল তাত্ত্বিক জ্ঞান নয়, বরং সমাজবিজ্ঞানের গভীর সামাজিক অন্তর্দৃষ্টিই সাধারণ মানুষ ও যুবসমাজকে সচেতন করতে পারে। সে যুবকদের সচেতন করার মাধ্যমে সমষ্টিগত উন্নয়ন ও সামাজিক সমস্যা সমাধানের পথ বেছে নেয়। বাংলাদেশের মতো দেশে গ্রামীণ উন্নয়ন, সামাজিক কাঠামোর পরিবর্তন বোঝা, সামাজিক নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে সমাজবিজ্ঞান পাঠের জ্ঞান অপরিহার্য।
অতএব, সুমনের গৃহীত উদ্যোগ ও চিন্তাধারা প্রমাণ করে যে সমাজবিজ্ঞানের জ্ঞান মানুষকে বাস্তবমুখী সচেতনতা দান করে এবং কার্যকর সমাজ সংস্কারে সহায়তা করে, যা বাংলাদেশের সার্বিক প্রেক্ষিতে সমাজবিজ্ঞান পাঠের প্রয়োজনীয়তাকে জোরালোভাবে সমর্থন করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও