ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র • ভারতে মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠা • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর, বরিশাল, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০২৩
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র প্রশ্ন
অটোমান সাম্রাজ্যের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে সুলতান উসমানের নাম ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। এশিয়া মাইনরে বিদ্রোহ দমনের পর তিনি একে একে সমগ্র উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল জয় করেন। এরপর তিনি নাইমিয়া, ব্লুসা, কারাসাই, পেরগোমস প্রভৃতি বিজয় করেন। আর ১৩৩৭ খ্রিষ্টাব্দে তিনি নিকোমেডিয়ার প্রথম যুদ্ধে সাময়িক পরাজিত হয়েও ১৩৩৮ খ্রিষ্টাব্দে তিনি নিকোমেডিয়ার দ্বিতীয় -যুদ্ধে বিজয় অর্জন করে সমগ্র এশিয়া মাইনরে তুর্কি কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেন। এভাবে উন্নত সামরিক কৌশল, শত্রুপক্ষের বিশৃঙ্খলা ও পৃষ্ঠপোষকতা প্রভৃতিই এশিয়া মাইনরের সুলতান উসমানকে স্থায়িভাবে তুর্কি সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠায় সাহায্য করেছিল।
- ক)(1)
মুহাম্মদ ঘুরীর প্রকৃত নাম কী?
- খ)(2)
তরাইনের প্রথম যুদ্ধ কাদের মধ্যে সংঘটিত হয়? ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকের শাসকের সাথে তোমার পঠিত কোন শাসকের সাথে মিল লক্ষ করা যায়? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উক্ত শাসকের সামরিক সফলতার কারণগুলো উদ্দীপকের আলোকে বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মুহাম্মদ ঘুরীর প্রকৃত নাম মুইজুদ্দিন মুহাম্মদ বিন সাম (বা শিহাবউদ্দিন মুহাম্মদ ঘুরী)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১১৯১ খ্রিষ্টাব্দে তরাইন প্রান্তরে ঘুরী বংশের শাসক মুইজুদ্দিন মুহাম্মদ ঘুরী এবং দিল্লির রাজপুত চৌহান বংশের রাজা পৃথ্বীরাজ চৌহানের মধ্যে তরাইনের প্রথম যুদ্ধ সংঘটিত হয়।
ভারতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এই যুদ্ধের সূত্রপাত হয়। মুহাম্মদ ঘুরী তাবারহিন্দ (ভাতিন্ডা) দুর্গ দখল করলে পৃথ্বীরাজ চৌহান বিশাল সৈন্যবাহিনী নিয়ে তাঁকে বাধা দেন। এ যুদ্ধে মুসলিম বাহিনী শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয় এবং মুহাম্মদ ঘুরী মারাত্মক আহত হয়ে এক খলজি সৈন্যের সহায়তায় যুদ্ধক্ষেত্র থেকে প্রাণরক্ষা করেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের শাসকের কর্মকাণ্ডের সাথে ভারতে মুসলিম শাসনের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা সুলতান মুইজুদ্দিন মুহাম্মদ ঘুরীর মিল লক্ষ করা যায়।
উদ্দীপকে বর্ণিত সুলতান উসমান যেভাবে পরাজয়ের পরও দমে না গিয়ে উন্নত রণকৌশল ও অবিচল নিষ্ঠা দিয়ে বারবার যুদ্ধ করে চূড়ান্ত সফলতা ও সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, মুহাম্মদ ঘুরীর ক্ষেত্রেও একই চিত্র দেখা যায়। মুহাম্মদ ঘুরী ১১৯১ খ্রিষ্টাব্দে তরাইনের প্রথম যুদ্ধে পৃথ্বীরাজ চৌহানের কাছে শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়েও ভেঙে পড়েননি। তিনি এক বছর ধরে সুদৃঢ় সামরিক প্রস্তুতি গ্রহণ করেন এবং ১১৯২ খ্রিষ্টাব্দে তরাইনের দ্বিতীয় যুদ্ধে অসাধারণ সামরিক দূরদর্শিতা ও কৌশলের মাধ্যমে পৃথ্বীরাজকে চূড়ান্তভাবে পরাজিত করে ভারতে মুসলিম সাম্রাজ্যের ভিত্তি মজবুত করেন।
উদ্দীপকের শাসকের প্রাথমিক বিপর্যয় কাটিয়ে উঠে পুনরায় বিজয়ী হওয়ার চারিত্রিক দৃঢ়তার সাথে মুহাম্মদ ঘুরীর ঐতিহাসিক অভিযানের গভীর মিল বিদ্যমান।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উক্ত শাসক অর্থাৎ মুহাম্মদ ঘুরীর সামরিক সফলতার পেছনে যে সকল কারণ ছিল, তা উদ্দীপকের উসমানীয় শাসকের সাফল্যের কারণগুলোর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
প্রথমত, মুহাম্মদ ঘুরীর উন্নত রণকৌশল ও সামরিক শৃঙ্খলা ছিল তাঁর বিজয়ের মূল চাবিকাঠি। তরাইনের প্রথম যুদ্ধে রাজপুতদের বিপুল সৈন্য ও হস্তীবাহিনীর শক্তির কাছে পরাজিত হলেও তিনি তাদের দুর্বলতা ও যুদ্ধরীতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন। দ্বিতীয় যুদ্ধে তিনি তাঁর বাহিনীকে বিভিন্ন ভাগে ভাগ করে অশ্বারোহী তীরন্দাজদের কৌশলগতভাবে ব্যবহার করেন, যা উদ্দীপকে উল্লেখিত 'উন্নত সামরিক কৌশল'-এর সাথে মিলে যায়।
দ্বিতীয়ত, শত্রুপক্ষের বিশৃঙ্খলা ও অনৈক্য ঘুরীর বিজয়ে বড় ভূমিকা রাখে। তৎকালীন ভারতীয় হিন্দু রাজা ও সামন্তদের মধ্যে তীব্র পারস্পরিক বিদ্বেষ ও অনৈক্য বিদ্যমান ছিল (যেমন—জয়চাঁদ ও পৃথ্বীরাজের বিরোধ)। রাজপুতরা প্রচলিত হস্তীনির্ভর সনাতন যুদ্ধরীতির ওপর নির্ভরশীল থাকায় ঘুরীর গতিশীল তুর্কি অশ্বারোহী বাহিনীর সামনে বিশৃঙ্খল হয়ে পড়ে। উদ্দীপকেও 'শত্রুপক্ষের বিশৃঙ্খলা'কে সফলতার অন্যতম নিয়ামক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
তৃতীয়ত, মুহাম্মদ ঘুরীর অসাধারণ সহনশীলতা, অদম্য ইচ্ছাশক্তি এবং কুতুবউদ্দিন আইবেকের মতো দক্ষ সেনাপতিদের পৃষ্ঠপোষকতা ও নেতৃত্ব সামরিক সাফল্য নিশ্চিত করেছিল।
সুতরাং উদ্দীপকের আলোকে বলা যায়, সামরিক দূরদর্শিতা, শত্রুর দুর্বলতাকে কাজে লাগানো এবং পরাজয় সত্ত্বেও লক্ষ্য অর্জনে অবিচল থাকায় মুহাম্মদ ঘুরী ভারতে স্থায়ী মুসলিম সাম্রাজ্যের ভিত্তি স্থাপন করতে পেরেছিলেন।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও