ইতিহাস ২য় পত্র • জাতিসংঘ এবং বিশ্বশান্তি • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর, বরিশাল, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০২৩
ইতিহাস ২য় পত্র প্রশ্ন
'ক' একটি বৃহৎ আন্তর্জাতিক সংগঠন। কয়েকটি অঙ্গ সংস্থার সমন্বয়ে গঠিত এ সংগঠনটির উদ্দেশ্য বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠা। একজন মহাসচিবের নেতৃত্বে সংগঠনটি পরিচালিত হয়।
- ক)(1)
কত খ্রিষ্টাব্দে সুয়েজ খাল জাতীয়করণ করা হয়?
- খ)(2)
‘আটলান্টিক চার্টার' বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে বর্ণিত সংগঠনটির কার্যক্রমের সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের সংগঠনটির কার্যক্রমের সাদৃশ্য ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উক্ত সংগঠনটির মহাসচিবের কার্যাবলির সীমাবদ্ধতা বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯৫৬ খ্রিষ্টাব্দে মিশরের প্রেসিডেন্ট জামাল আবদেল নাসের সুয়েজ খাল জাতীয়করণ করেন।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
‘আটলান্টিক চার্টার’ হলো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে ১৯৪১ সালের ১৪ আগস্ট মার্কিন প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্কলিন ডি. রুজভেল্ট এবং ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিলের মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি ঐতিহাসিক যৌথ ঘোষণাপত্র। আটলান্টিক মহাসাগরে একটি যুদ্ধজাহাজে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এই ঘোষণায় যুদ্ধোত্তর বিশ্বে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা, গণতন্ত্রের বিকাশ এবং আগ্রাসনমুক্ত বিশ্ব গঠনের নীতিমালা ঘোষণা করা হয়, যা পরবর্তীকালে জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার ভিত্তি রচনা করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত সংগঠনটির কার্যক্রমের সাথে পাঠ্যবইয়ের ‘জাতিসংঘ’ (United Nations)-এর কার্যক্রমের সাদৃশ্য রয়েছে।
উদ্দীপকের 'ক' সংগঠনটি কয়েকটি অঙ্গসংস্থার সমন্বয়ে গঠিত, যার মূল উদ্দেশ্য বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠা এবং এটি একজন মহাসচিবের নেতৃত্বে পরিচালিত হয়। পাঠ্যবইয়ে আলোচিত জাতিসংঘও একইভাবে সাধারণ পরিষদ, নিরাপত্তা পরিষদসহ ছয়টি প্রধান অঙ্গসংস্থার মাধ্যমে বিশ্বশান্তি ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা রক্ষা করে থাকে এবং এর প্রশাসনিক প্রধান হলেন মহাসচিব।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ধ্বংসযজ্ঞের পটভূমিতে ১৯৪৫ সালের ২৪ অক্টোবর প্রতিষ্ঠিত জাতিসংঘ আন্তর্জাতিক দ্বন্দ্ব নিরসন, মানবাধিকার রক্ষা এবং বিশ্বশান্তি বজায় রাখতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। উদ্দীপকের সংগঠনটির লক্ষ্য ও কাঠামো তাই হুবহু জাতিসংঘের সাথেই সাদৃশ্যপূর্ণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জাতিসংঘের মহাসচিব হলেন বিশ্বসংস্থার প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তা, তবে বিশ্বশান্তি রক্ষা ও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে তাঁর কার্যাবলিতে বেশ কিছু স্পষ্ট সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
প্রথমত, মহাসচিবের নিজস্ব কোনো সামরিক বাহিনী বা প্রত্যক্ষ ক্ষমতা নেই; তাঁকে নিরাপত্তা পরিষদ ও সাধারণ পরিষদের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করতে হয়। দ্বিতীয়ত, নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী পাঁচ সদস্য দেশের (ভেটো ক্ষমতাপ্রাপ্ত রাষ্ট্রসমূহ) ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থের সংঘাত মহাসচিবের স্বাধীন পদক্ষেপকে বাধাগ্রস্ত করে। কোনো স্থায়ী রাষ্ট্র ভেটো দিলে মহাসচিব সেই বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারেন না।
তৃতীয়ত, জাতিসংঘের সনদ অনুযায়ী কোনো রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের সুযোগ সীমিত থাকায় সদস্য দেশগুলোর মানবাধিকার লঙ্ঘন বা আগ্রাসন প্রতিরোধে মহাসচিব কেবল বিবৃতি বা মধ্যস্থতার প্রস্তাবের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেন। এছাড়া অর্থনৈতিক দিক থেকেও তিনি ধনী দেশগুলোর অনুদানের ওপর নির্ভরশীল। ফলে বিশ্বশান্তি রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সত্ত্বেও ভেটো ক্ষমতা ও বাস্তব রাজনৈতিক কাঠামোর কারণে মহাসচিবের ক্ষমতা বহুলাংশে সীমাবদ্ধ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও