ইতিহাস ২য় পত্র • বলশেভিক বিপ্লব • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর, বরিশাল, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০২৩
ইতিহাস ২য় পত্র প্রশ্ন
'ক' রাষ্ট্রে শোষণহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি বিপ্লব সংঘটিত হয়। এ বিপ্লবের পিছনে অনেক মহান নেতার বিশেষ অবদান ছিল। শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমে শুরু হলেও রাষ্ট্র শক্তি দ্বারা বিপ্লবী শক্তি বাধাগ্রস্ত হওয়ার পর তা সশস্ত্র রূপ ধারণ করে। ফলশ্রুতিতে বিশ্ববাসী এক নতুন সমাজব্যবস্থার ধারণা লাভ করে।
- ক)(1)
Utopia গ্রন্থের লেখক কে?
- খ)(2)
জারতন্ত্র বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে যে বিপ্লবের কথা বলা হয়েছে তা ইতিহাসের কোন বিপ্লবের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উক্ত বিপ্লব কি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কোনো প্রভাব ফেলেছিল? বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'Utopia' গ্রন্থের লেখক হলেন স্যার টমাস মোর (Sir Thomas More)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জারতন্ত্র বলতে রাশিয়ার সম্রাট বা 'জার'-দের একনায়কতান্ত্রিক ও স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থাকে বোঝায়। রোমানভ বংশের শাসনামলে রাশিয়ায় এ ধরনের শাসন প্রচলিত ছিল, যেখানে শাসকের ইচ্ছাই ছিল চূড়ান্ত আইন এবং জনগণের কোনো রাজনৈতিক বা গণতান্ত্রিক অধিকার ছিল না। ১৯১৭ সালের রুশ বিপ্লবের মাধ্যমে এই জারতন্ত্রের অবসান ঘটে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত ঘটনাটি ১৯১৭ সালের ঐতিহাসিক রুশ বিপ্লব বা বলশেভিক বিপ্লবের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
উদ্দীপকের 'ক' রাষ্ট্রে শোষণহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য বিপ্লব সংঘটিত হয় এবং এর পেছনে মহান নেতাদের অবদান ছিল। শান্তিপূর্ণ আন্দোলন রাষ্ট্রশক্তির দ্বারা বাধাগ্রস্ত হলে তা সশস্ত্র রূপ নেয় এবং একটি নতুন সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করে।
রাশিয়ায় জারতন্ত্রের চরম শোষণ, অর্থনৈতিক বৈষম্য ও রাজনৈতিক নিপীড়নের বিরুদ্ধে ভ্লাদিমির ইলিচ লেনিনের নেতৃত্বে বলশেভিক দল সমাজতান্ত্রিক সমাজ গঠনের লক্ষ্যে বিপ্লব পরিচালনা করে। ১৯১৭ সালের মার্চ মাসে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমে জার দ্বিতীয় নিকোলাসের পতন ঘটে, কিন্তু কেরেনস্কির অন্তর্বর্তী সরকার জনগণের দাবি পূরণে ব্যর্থ হয় এবং বিপ্লবী শক্তিকে দমনের চেষ্টা করে। পরবর্তীতে ১৯১৭ সালের নভেম্বরে সশস্ত্র অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র কায়েম হয়, যা বিশ্বে প্রথম শোষণহীন সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থার সূচনা করে। অতএব, উদ্দীপকের বিপ্লবটি রাশিয়ার বলশেভিক বিপ্লবের সাথে সম্পূর্ণ সাদৃশ্যপূর্ণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হ্যাঁ, উক্ত বিপ্লব (রুশ বিপ্লব) আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গভীর ও সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলেছিল। নিম্নে তা বিশ্লেষণ করা হলো:
১. সমাজতান্ত্রিক বিশ্বের উত্থান: ১৯১৭ সালের রুশ বিপ্লবের পর বিশ্বে প্রথম সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে সোভিয়েত ইউনিয়নের আত্মপ্রকাশ ঘটে, যা পুঁজিবাদী বিশ্বের বিপরীতে একটি বিকল্প অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়।
২. সাম্রাজ্যবাদ ও উপনিবেশবিরোধী আন্দোলন: এই বিপ্লব এশিয়া, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার ঔপনিবেশিক শাসনের অধীনে থাকা দেশগুলোকে স্বাধীনতার অনুপ্রেরণা জোগায়। লেনিনের সাম্রাজ্যবাদ-বিরোধী নীতি মুক্তি সংগ্রামীদের উদ্বুদ্ধ করে।
৩. আন্তর্জাতিক শ্রমিক আন্দোলন: রাশিয়ার বিপ্লবের সাফল্যের পর বিশ্বব্যাপী কমিউনিস্ট পার্টি ও ট্রেড ইউনিয়নগুলো শক্তিশালী হয় এবং শ্রমিকদের অধিকার (যেমন- আট ঘণ্টা কর্মদিবস, মজুরি বৃদ্ধি) আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভ করে।
৪. স্নায়ুযুদ্ধের সূচনা: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে বিশ্ব রাজনীতিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন পুঁজিবাদী বলয় এবং সোভিয়েত ইউনিয়নের সমাজতান্ত্রিক বলয়ের মধ্যে যে স্নায়ুযুদ্ধ বা ঠান্ডা লড়াই শুরু হয়, তার মূল ভিত্তি ছিল এই বলশেভিক বিপ্লব।
পরিশেষে বলা যায়, রুশ বিপ্লব কেবল রাশিয়ার অভ্যন্তরেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং তা সমগ্র বিশ্বের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক গতিপথ চিরতরে বদলে দিয়েছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও