সমাজকর্ম ২য় পত্র • মৌলিক মানবিক চাহিদা • Combined Board • কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর, বরিশাল বোর্ড ২০২৫
সমাজকর্ম ২য় পত্র প্রশ্ন
জাহিন আনন্দের সাথে শিক্ষা অর্জন করতে চায়, তাই সে পড়াশোনার পাশাপাশি গল্পের বই পড়ে, খেলাধুলা করে,টিভি দেখে, ছবি আঁকে এবং বিভিন্ন স্থানে বেড়াতে যায়।
- ক)(1)
মানব সভ্যতার ধারক ও বাহক কী?
- খ)(2)
"আমরা বাঁচার জন্য খাই"-ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে, জাহিন পড়াশোনার পাশাপাশি কোন মৌল-মানবিক চাহিদাকে অনুশীলন করছে? ব্যাখ্যা দাও।
- ঘ)(4)
উক্ত মৌল-মানবিক চাহিদার গুরুত্ব বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মানব সভ্যতার ধারক ও বাহক হলো শিক্ষা।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জীবদেহের অস্তিত্ব রক্ষা, শারীরিক বৃদ্ধি ও শক্তি অর্জনের জন্য খাদ্য গ্রহণ অপরিহার্য বলে বলা হয় "আমরা বাঁচার জন্য খাই"।
বেঁচে থাকার জন্য মানুষের মৌলিক শারীরিক চাহিদাগুলোর মধ্যে খাদ্য সর্বাগ্রে। খাদ্য ছাড়া কোনো প্রাণী বেঁচে থাকতে পারে না। খাদ্যের মাধ্যমে মানবদেহের কোষ গঠিত হয়, পুষ্টি সাধিত হয় এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। মানুষ কেবল রসনাবিলাসের জন্য খাদ্য গ্রহণ করে না, বরং জীবন ধারণ ও দেহের স্বাভাবিক কার্যকারিতা বজায় রাখতেই খাদ্য গ্রহণ করে। তাই বলা হয়ে থাকে, বাঁচার তাগিদেই খাদ্য গ্রহণ করা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে জাহিন পড়াশোনার পাশাপাশি মৌল-মানবিক চাহিদার অন্যতম উপাদান 'চিত্তবিনোদন' অনুশীলন করছে।
মানুষের মনস্তাত্ত্বিক সুস্থতা, মানসিক ক্লান্তি দূরীকরণ এবং প্রফুল্লতা বজায় রাখার জন্য অবসর সময়ে আনন্দদায়ক কোনো কাজে লিপ্ত থাকাই হলো চিত্তবিনোদন। এটি মানুষের মানসিক বিকাশ ও কর্মক্ষমতা বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান মৌল-মানবিক চাহিদা।
উদ্দীপকে দেখা যায়, জাহিন আনন্দের সাথে শিক্ষা অর্জন করতে চায়। এ কারণে সে কেবল প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনায় সীমাবদ্ধ না থেকে গল্পের বই পড়া, খেলাধুলা করা, টিভি দেখা, ছবি আঁকা এবং বিভিন্ন স্থানে বেড়াতে যাওয়ার মতো আনন্দদায়ক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকে। এসব কাজ তার মানসিক চাপ ও একঘেয়েমি দূর করে মনে আনন্দ যোগায়। অতএব, জাহিনের এই কর্মকাণ্ডগুলো মৌল-মানবিক চাহিদার অন্তর্ভুক্ত 'চিত্তবিনোদন'-এর যথার্থ প্রতিফলন ও অনুশীলন।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে নির্দেশিত মৌল-মানবিক চাহিদাটি হলো 'চিত্তবিনোদন', যা মানবজীবনের সুস্থ ও স্বাভাবিক বিকাশে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
মানবজীবনে চিত্তবিনোদনের গুরুত্ব নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. মানসিক ক্লান্তি ও একঘেয়েমি দূরীকরণ: একটানা কাজ বা পড়াশোনা মানুষের মনে অবসাদ এনে দেয়। চিত্তবিনোদন মানুষের মনকে সতেজ করে এবং মানসিক ক্লান্তি দূর করে কাজে নতুন উদ্দীপনা জোগায়।
২. শারীরিক ও মানসিক বিকাশ: খেলাধুলা ও গঠনমূলক বিনোদনমূলক কার্যক্রম শারীরিক সুস্থতা বৃদ্ধির পাশাপাশি মানসিক প্রশান্তি ও মেধার বিকাশ ঘটায়।
৩. সামাজিকীকরণ ও সামাজিক বন্ধন দৃঢ়করণ: দলগত খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড বা পরিবারের সাথে ভ্রমণ মানুষের সামাজিকীকরণে ভূমিকা রাখে এবং পারস্পরিক সম্পর্ক দৃঢ় করে।
৪. অপরাধপ্রবণতা হ্রাস: উপযুক্ত চিত্তবিনোদনের সুযোগ না থাকলে তরুণ প্রজন্ম মাদকাসক্তি, কিশোর অপরাধ ও বিভিন্ন অসামাজিক কাজে জড়িয়ে পড়তে পারে। স্বাস্থ্যকর বিনোদনের সুযোগ যুবসমাজকে বিপদগামী হওয়া থেকে রক্ষা করে।
৫. কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি: প্রফুল্ল মন মানুষের মনোযোগ ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করে।
পরিশেষে বলা যায়, কেবল অন্ন, বস্ত্র ও বাসস্থানের মতো জৈবিক চাহিদাই নয়, পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে সুস্থ ও সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার জন্য চিত্তবিনোদনের গুরুত্ব অপরিসীম।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও