সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র • Combined Board • কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর, বরিশাল বোর্ড ২০২৫
সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
দৃশ্যপট-১: সমাজবিজ্ঞান ক্লাসে স্যার মানব সমাজের ইতিহাস নিয়ে আলোচনা করছিলেন। তিনি বলেন যে, লিখন-পূর্ব মানব সমাজ ছিল যাযাবর। হাতিয়ার ছিল অমসৃণ ও ভোতা। সে যুগের মানুষ আগুনের ব্যবহার, পোষাক পরিধান শিখলেও উৎপাদন ব্যবস্থা ছিল সংগ্রহমূলক।দৃশ্যকল্প-২: পরের দিন স্যার আরেকটি যুগের বৈশিষ্ট্য পড়াচ্ছিলেন। যেখানে কৃষির উদ্ভব, হাতিয়ার আবিষ্কার, সাংস্কৃতিক বিকাশ, পরিবারের উৎপত্তিসহ ধর্মীয় জীবন শুরুর মধ্যদিয়ে সমাজ এগিয়ে যায়।
- ক)(1)
নৃগোষ্ঠী কী?
- খ)(2)
"লৌহ যুগ আধুনিক সভ্যতার ভিত্তি"- বুঝিয়ে লেখো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে দৃশ্যপট-১-এ স্যার কোন যুগ সম্পর্কে ছাত্রদের পড়াচ্ছিলেন? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
"দৃশ্যপট-২ যুগটির সমাজ ও সভ্যতা বিকাশের ক্ষেত্রে অবদান অনস্বীকার্য"- মতামতসহ বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
নৃগোষ্ঠী (Ethnic group) হলো একই জৈবিক ও শারীরিক বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন এবং সাধারণ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও আত্মপরিচয়ে ঐক্যবদ্ধ একদল মানব সমষ্টি।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
লৌহ আবিষ্কারের মধ্য দিয়ে মানব সভ্যতার প্রযুক্তিগত ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে যুগান্তকারী পরিবর্তন সাধিত হয়। লৌহ যুগের শক্ত ও টেকসই হাতিয়ার কৃষিকাজে গভীর কর্ষণ সম্ভব করে এবং উৎপাদন বিপুল পরিমাণে বৃদ্ধি করে। এছাড়া যুদ্ধাস্ত্র, যানবাহন, নির্মাণকৌশল ও নগর সভ্যতার বিকাশে লোহার বহুমুখী ব্যবহার আধুনিক শিল্পবিপ্লব ও বর্তমান উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর সমাজ বিনির্মাণের পথ উন্মোচন করেছে। তাই লৌহ যুগকে আধুনিক সভ্যতার ভিত্তি বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের দৃশ্যপট-১ এ শিক্ষক ছাত্রদের 'প্রাচীন প্রস্তর যুগ' (Paleolithic Age) সম্পর্কে পড়াচ্ছিলেন।
প্রাচীন প্রস্তর যুগে মানব সমাজ ছিল যাযাবর এবং তাদের ব্যবহৃত হাতিয়ারগুলো ছিল অমসৃণ, ভোঁতা ও অমার্জিত পাথরের তৈরি। এ যুগে মানুষ খাদ্য উৎপাদন করতে পারত না, তাদের অর্থনীতি ছিল মূলত শিকার ও বুনো ফলমূল সংগ্রহের ওপর নির্ভরশীল। তারা চামড়ার পোশাক পরিধান ও আগুনের ব্যবহার শিখলেও প্রকৃতির প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই করে দলবদ্ধভাবে শিকারি হিসেবে বেঁচে থাকত।
উদ্দীপকের দৃশ্যপট-১ এ দেখা যায়—লিখন-পূর্ব সমাজের মানুষ যাযাবর ছিল, হাতিয়ার ছিল অমসৃণ ও ভোঁতা, আগুনের ব্যবহার ও পোশাক পরিধান শিখলেও উৎপাদন ব্যবস্থা ছিল খাদ্য সংগ্রহমূলক। এসব বৈশিষ্ট্য হুবহু প্রাচীন প্রস্তর যুগের সাথে সংগতিপূর্ণ হওয়ায় বলা যায় স্যার প্রাচীন প্রস্তর যুগের কথাই বলছিলেন।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের দৃশ্যপট-২ এ বর্ণিত যুগটি হলো 'নব্য প্রস্তর যুগ' (Neolithic Age), যার সমাজ ও সভ্যতা বিকাশে অবদান অনস্বীকার্য—উক্তিটি যথার্থ।
নব্য প্রস্তর যুগে মানব ইতিহাসের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তন ঘটে, যাকে ঐতিহাসিক গর্ডন চাইল্ড 'নব্যপ্রস্তর বিপ্লব' (Neolithic Revolution) হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। এ যুগে মানুষ খাদ্য সংগ্রহকারী থেকে খাদ্য উৎপাদনকারীতে রূপান্তরিত হয়, অর্থাৎ কৃষির সূচনা ঘটে। কৃষিকাজের সুবিধার্থে যাযাবর জীবনের অবসান ঘটে এবং মানুষ স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করে, যা গ্রামীণ সমাজ ও পারিবারিক কাঠামোর ভিত্তি স্থাপন করে।
এ যুগে পাথরের হাতিয়ার মার্জিত, মসৃণ ও তীক্ষ্ণ রূপ পায়। এছাড়া মৃৎপাত্রের ব্যবহার, বস্ত্রবয়ন, চাকার আবিষ্কার এবং নৌকা তৈরির মাধ্যমে যোগাযোগ ও বাণিজ্যের প্রসার ঘটে। খাদ্য উদ্বৃত্ত থাকার ফলে সমাজে শ্রমবিভাজন, ব্যক্তিগত মালিকানার ধারণা এবং ধর্ম বিশ্বাস ও রীতিনীতির প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করে। এই যুগের কৃষি ও সামাজিক স্থিতিশীলতার ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তীকালের তাম্র-ব্রোঞ্জ যুগ ও প্রাচীন নদীমাতৃক নগর সভ্যতাসমূহের বিকাশ ঘটেছিল।
সুতরাং, কৃষির উদ্ভব, পরিবারের সূচনা এবং সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় রীতিনীতির প্রসারের মাধ্যমে নব্য প্রস্তর যুগ মানবসমাজকে অগ্রগতির এক নতুন ধাপে নিয়ে যায়। অতএব, সমাজ ও সভ্যতার ক্রমবিকাশে নব্য প্রস্তর যুগের অবদান নিঃসন্দেহে অনস্বীকার্য।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও