সমাজকর্ম ২য় পত্র • সামাজিক আইন • Combined Board • কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর, বরিশাল বোর্ড ২০২৫
সমাজকর্ম ২য় পত্র প্রশ্ন
"T" একটি সামাজিক আইন। এটি নারী ও শিশু কল্যাণমূলক আইন। আইনটির আরো কতিপয় ধারা রয়েছে যেমন— উত্তরাধিকার নিশ্চিত করা, বহুবিবাহ রোধ করা, তালাককে নিরুৎসাহিত করা এবং বাধ্যতামূলক দেনমোহর প্রদানের বিধান ইত্যাদি।
- ক)(1)
দেনমোহর কী?
- খ)(2)
সামাজিক আইনের একটি উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে বাংলাদেশের কোন সামাজিক আইনের কথা বলা হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
নারীর অধিকার রক্ষায় উক্ত আইনের ভূমিকা মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মুসলিম পারিবারিক আইন অনুযায়ী বিবাহের সময় স্বামী কর্তৃক স্ত্রীকে বাধ্যতামূলকভাবে প্রদেয় বা দেওয়ার জন্য অঙ্গীকারবদ্ধ নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ বা সম্পত্তিকে দেনমোহর বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সামাজিক আইনের একটি অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য হলো সমাজের দুর্বল, অনগ্রসর ও শোষিত শ্রেণির (বিশেষ করে নারী, শিশু ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর) মৌলিক মানবাধিকার ও স্বার্থ সুরক্ষা করা। সামাজিক আইন সমাজে বিদ্যমান কুপ্রথা, বৈষম্য ও শোষণ দূর করে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং ইতিবাচক সামাজিক পরিবর্তন আনতে সাহায্য করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বাংলাদেশের '১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ' (Muslim Family Laws Ordinance, 1961)-এর কথা বলা হয়েছে।
তৎকালীন পাকিস্তানে নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা ও বৈষম্য দূরীকরণের লক্ষ্যে ১৯৬১ সালে এই অধ্যাদেশ জারি করা হয়, যা স্বাধীন বাংলাদেশেও কার্যকর রয়েছে।
উদ্দীপকের 'T' আইনটির বৈশিষ্ট্যে উল্লেখ করা হয়েছে— এটি নারী ও শিশু কল্যাণমূলক এবং এর মাধ্যমে উত্তরাধিকার নিশ্চিত করা, বহুবিবাহ নিয়ন্ত্রণ, তালাককে নিরুৎসাহিত করা এবং বাধ্যতামূলক দেনমোহর প্রদানের বিধান রাখা হয়েছে। ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশে সালিসি পরিষদের অনুমতি ব্যতীত বহুবিবাহ নিষিদ্ধ করা হয়েছে, নোটিশ ও সালিসের মাধ্যমে তালাককে নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে, এতিম পৌত্র-পৌত্রীদের দাদার সম্পত্তিতে উত্তরাধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে এবং দেনমোহর পরিশোধ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। অতএব, উদ্দীপকের 'T' আইনটি নিশ্চিতভাবেই ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বাংলাদেশের সমাজে নারীর আইনি ও পারিবারিক অধিকার সুরক্ষায় ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সুদূরপ্রসারী। নিম্নে এ আইনের ভূমিকা মূল্যায়ন করা হলো:
১. বহুবিবাহ নিয়ন্ত্রণ: এ আইনের ফলে কোনো পুরুষ বর্তমান স্ত্রীর অনুমতি ও সালিসি পরিষদের লিখিত অনুমোদন ছাড়া দ্বিতীয় বিবাহ করতে পারে না। এটি যথেচ্ছ বহুবিবাহ রোধ করে স্ত্রীর মর্যাদা রক্ষা করেছে।
২. তালাক নিয়ন্ত্রণ: পূর্বে তাৎক্ষণিক মৌখিক তালাকের কারণে নারীরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগত। এ আইনের অধীনে তালাকের নোটিশ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানকে দেওয়া এবং ৯০ দিনের সমঝোতা প্রক্রিয়ার বিধান থাকায় হুট করে তালাক দেওয়া বন্ধ হয়েছে।
৩. দেনমোহর নিশ্চিতকরণ: এ আইনে দেনমোহর পরিশোধের বিষয়টি সুনির্দিষ্ট ও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, যা বিবাহবিচ্ছেদ বা স্বামীর মৃত্যুর পর নারীর অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।
৪. এতিম নাতি-নাতনির উত্তরাধিকার: পিতা পূর্বে মারা গেলেও তার সন্তানরা দাদার সম্পত্তিতে পিতার অংশের উত্তরাধিকারী হতে পারে, যার ফলে কন্যাশিশুসহ অনাথরা সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হওয়া রোধ হয়েছে।
৫. আইনি সচেতনতা ও ক্ষমতায়ন: এ আইন নারীদের নিজেদের অধিকার আদায়ে সচেতন ও সক্রিয় ভূমিকা পালনে উদ্বুদ্ধ করেছে।
পরিশেষে বলা যায়, সনাতন পিতৃতান্ত্রিক সমাজে নারীদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া বৈষম্য ও অবিচার দূর করে পারিবারিক ও সামাজিক নিরাপত্তা বিধানে ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন এক যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করে আসছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও