ইতিহাস ২য় পত্র • হিটলার ও মুসোলিনির উত্থান এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর, বরিশাল, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০২৩
ইতিহাস ২য় পত্র প্রশ্ন
এশিয়ার একটি দেশে দুটি শক্তিশালী বোমা হামলা করা হয়। এরই ফলশ্রুতিতে দেশটি যুদ্ধ পরিত্যাগ করে মিত্রপক্ষের নিকট আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়। উক্ত যুদ্ধটি ছিল ভয়াবহ।
- ক)(1)
কোন দেশ আক্রমণের মাধ্যমে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সূচনা হয়?
- খ)(2)
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কোন অবস্থার প্রেক্ষিতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে অংশ নেয়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে বর্ণিত আত্মসমর্পণকারী দেশটির সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন দেশের মিল আছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
বর্ণিত ভয়াবহ যুদ্ধের ফলাফল বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯৩৯ সালের ১ সেপ্টেম্বর জার্মানি কর্তৃক পোল্যান্ড আক্রমণের মাধ্যমে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সূচনা হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯৪১ সালের ৭ ডিসেম্বর জাপান অতর্কিতভাবে প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের পার্ল হারবার (হাওয়াই) নৌঘাঁটি আক্রমণ করে বিপুল ক্ষয়ক্ষতি সাধন করে। এই অপ্রত্যাশিত ও বিধ্বংসী আক্রমণের প্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্র নিরপেক্ষতা ভেঙে ৮ ডিসেম্বর জাপানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে সরাসরি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে অংশ নেয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত আত্মসমর্পণকারী দেশটির সাথে আমার পাঠ্যবইয়ের 'জাপান' দেশটির মিল রয়েছে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষ পর্যায়ে অক্ষশক্তির অন্যান্য দেশ (জার্মানি ও ইতালি) পরাজিত হলেও এশীয় অঞ্চলে জাপান যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছিল। যুদ্ধের ইতি টানতে মিত্রশক্তির পক্ষ থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ১৯৪৫ সালের ৬ আগস্ট জাপানের হিরোশিমা শহরে প্রথম পারমাণবিক বোমা ('লিটল বয়') এবং ৯ আগস্ট নাগাসাকি শহরে দ্বিতীয় পারমাণবিক বোমা ('ফ্যাট ম্যান') নিক্ষেপ করে। এই দুটি শক্তিশালী পারমাণবিক বোমার ভয়াবহতা ও ধ্বংসলীলার মুখে জাপান সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে এবং ১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়। উদ্দীপকের ঘটনাটি হুবহু জাপানের ওপর পারমাণবিক বোমাবর্ষণ ও আত্মসমর্পণের ঐতিহাসিক ঘটনার প্রতিফলন।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত ভয়াবহ যুদ্ধটি হলো 'দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ' (১৯৩৯–১৯৪৫)। মানব ইতিহাসের সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী ও বিধ্বংসী এই যুদ্ধের সুদূরপ্রসারী ফলাফল নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. জীবন ও সম্পদের বিপুল ক্ষতি: এ যুদ্ধে প্রায় ৫ থেকে ৬ কোটি মানুষ প্রাণ হারায় এবং কয়েক কোটি মানুষ পঙ্গু ও গৃহহীন হয়। হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে আণবিক বোমার ব্যবহার পারমাণবিক যুগের সূচনা করে এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ঘটায়।
২. ফ্যাসিবাদের পতন: জার্মানির নাৎসি দল ও ইতালির ফ্যাসিবাদী একনায়কতন্ত্রের চূড়ান্ত পতন ঘটে। জাপানও চরম বিপর্যয়ের মুখে আত্মসমর্পণ করে এবং সামরিক আধিপত্য হারায়।
৩. পরাশক্তির উত্থান ও স্নায়ুযুদ্ধ: যুদ্ধের পর ইউরোপের চিরাচরিত আধিপত্য হ্রাস পায় এবং বিশ্বমঞ্চে দুটি নতুন পরাশক্তি—মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (পুঁজিবাদী ব্লক) এবং সোভিয়েত ইউনিয়ন (সমাজতান্ত্রিক ব্লক)-এর উত্থান ঘটে। এর ফলে বিশ্বব্যাপী দীর্ঘস্থায়ী 'স্নায়ুযুদ্ধ' (Cold War)-এর সূচনা হয়।
৪. জাতিসংঘের প্রতিষ্ঠা: বিশ্বকে যুদ্ধের বিভীষিকা থেকে স্থায়ীভাবে রক্ষা ও শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ১৯৪৫ সালের ২৪ অক্টোবর 'জাতিসংঘ' (United Nations) গঠিত হয়।
৫. উপনিবেশবাদের অবসান: যুদ্ধের কারণে ব্রিটিশ, ফরাসি ও ডাচদের অর্থনৈতিক ও সামরিক শক্তি দুর্বল হয়ে পড়ে, যার ফলে ভারত, পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়াসহ এশিয়া ও আফ্রিকার বহু দেশ দ্রুত স্বাধীনতা অর্জন করে।
পরিশেষে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ বিশ্বের ভূরাজনীতি, বিজ্ঞান, অস্ত্রপ্রযুক্তি এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক যুগান্তকারী পরিবর্তনের সূচনা করেছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও