ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র • প্রাক-ইসলামি আরব • Combined Board • ঢাকা, কুমিল্লা, দিনাজপুর বোর্ড ২০২৫
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র প্রশ্ন
জাভা দ্বীপে তখন কোনো কেন্দ্রীয় শাসন ছিল না। অধিবাসীরা রক্তের সম্পর্কের ভিত্তিতে সমাজ গঠন করে বসবাস করত। নিজেদের মধ্য থেকে নেতা নির্বাচন করে তারা পরিষদে পাঠাত। আর এভাবে সমাজের প্রতিনিধিদের দ্বারা গঠিত পরিষদ দ্বীপের প্রধান শহরের শান্তি-শৃঙ্খলা দেখভাল করতেন। দ্বীপবাসীর অর্থনৈতিক অবস্থাও ভালো ছিল না। কষ্টসাধ্য কিছু পেশার বাইরে অধিবাসীদের আয়ের উৎস ছিল সীমিত। বছরের নির্দিষ্ট একটি সময়ে দ্বীপের সৌন্দর্য দর্শনে আসা বাইরের দেশের পর্যটকদের ঘিরে কিছু মানুষ ব্যবসা-বাণিজ্য করে জীবন-জীবিকা নির্বাহ করত।
- ক)(1)
আস-সাবউল মুয়াল্লাকাত' কী?
- খ)(2)
'বেদুইন' কারা? ব্যাখ্যা দাও।
- গ)(3)
উদ্দীপকের জাভা দ্বীপের পরিষদ গঠনের সাথে প্রাক-ইসলামি মক্কার শাসন ব্যবস্থার সামঞ্জস্য ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের জাভাবাসীর অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের আলোকে আরবদের অর্থনৈতিক অবস্থা মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
‘আস-সাবউল মুয়াল্লাকাত’ হলো প্রাক-ইসলামি আরবে উকাজ মেলায় শ্রেষ্ঠ হিসেবে নির্বাচিত ও কাবা শরীফের দেওয়ালে ঝুলিয়ে রাখা সাতটি বিখ্যাত দীর্ঘ আরবি কবিতা।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
প্রাক-ইসলামি যুগের আরবের যাযাবর মরুচারী অধিবাসীদের 'বেদুইন' বলা হয়। তারা স্থায়ীভাবে বসবাস করত না, বরং পানির সন্ধান ও পশুচারণের সুবিধার্থে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে তাঁবু ফেলে ঘুরে বেড়াত। তাদের জীবনযাত্রা ছিল কঠোর, সাহসী এবং মূলত গোত্রীয় রীতিনীতির ওপর নির্ভরশীল।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের জাভা দ্বীপের পরিষদ গঠনের সাথে প্রাক-ইসলামি মক্কার গোত্রভিত্তিক শাসন পরিষদ 'মালা'র (Mala) সুস্পষ্ট সামঞ্জস্য রয়েছে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, জাভা দ্বীপে কোনো কেন্দ্রীয় শাসন ছিল না; রক্তের সম্পর্কের ভিত্তিতে সমাজ গঠিত হতো এবং সমাজের প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত পরিষদ শহরের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করত।
প্রাক-ইসলামি যুগে মক্কা নগরীতেও কোনো রাজতন্ত্র বা একক কেন্দ্রীয় শাসনব্যবস্থা ছিল না। সেখানে আরবরা রক্তের সম্পর্কের ভিত্তিতে বিভিন্ন গোত্রে বিভক্ত ছিল। প্রতিটি গোত্র থেকে একজন করে প্রবীণ ও প্রভাবশালী প্রতিনিধি বা গোত্রপ্রধানকে (শেখ) নিয়ে মক্কার একটি শাসন পরিষদ গঠিত হতো, যা ‘মালা’ নামে পরিচিত ছিল। এই ‘মালা’ মক্কার সামগ্রিক শান্তি-শৃঙ্খলা, বহিরাগতদের নিরাপত্তা ও সাধারণ সমস্যা সমাধান করত। কুরাইশদের এই পরিষদ 'দারুন নদওয়া' নামক ভবনে মিলিত হয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করত। জাভা দ্বীপের প্রতিনিধি পরিষদও ঠিক একইভাবে পরিচালিত হতো বলে এদের মধ্যে গভীর মিল রয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের জাভাবাসীর অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিবরণ প্রাক-ইসলামি আরবদের বাস্তব অর্থনৈতিক অবস্থাকে যথাযথভাবে প্রতিফলিত করে।
উদ্দীপকে উল্লেখিত জাভা দ্বীপবাসীর আয়ের উৎস ছিল সীমিত এবং তাদের অবস্থা ভালো ছিল না। তবে বছরের নির্দিষ্ট সময়ে বাইরে থেকে আসা পর্যটকদের কেন্দ্র করে কিছু ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালিত হতো।
ঐতিহাসিকভাবে প্রাক-ইসলামি আরবের ভৌগোলিক পরিবেশ ছিল শুষ্ক ও অনুর্বর মরুভূমি। ফলে কৃষি বা অন্যান্য স্বাভাবিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সেখানে খুবই সীমিত ছিল। বেদুইনরা পশুচারণ ও উটের মাধ্যমে কোনোমতে জীবিকা নির্বাহ করত। অন্যদিকে, মক্কার কুরাইশরা এবং আশপাশের মানুষ প্রধানত ব্যবসা-বাণিজ্যের ওপর নির্ভরশীল ছিল। বিশেষ করে প্রতি বছর হজের মৌসুমে এবং 'উকাজ' মেলার সময়ে দূর-দূরান্ত থেকে তীর্থযাত্রী ও ব্যবসায়ীরা মক্কায় আসতেন। এই নির্দিষ্ট সময়ে তীর্থযাত্রী ও পর্যটকদের ঘিরে মক্কার অধিবাসীরা বড় ধরনের কেনাবেচা ও ব্যবসা পরিচালনা করে বিপুল অর্থনৈতিক সুবিধা লাভ করত। শীত ও গ্রীষ্মকালীন বাণিজ্য কাফেলার মাধ্যমেও তারা বাণিজ্য করত।
সুতরাং দেখা যায়, উদ্দীপকে জাভাবাসীদের অনুর্বর সীমিত আয়ের উৎস এবং নির্দিষ্ট ঋতুতে আগত পর্যটকদের কেন্দ্র করে বাণিজ্যের যে চিত্র দেওয়া হয়েছে, তা প্রাক-ইসলামি আরবের তীর্থযাত্রাকেন্দ্রিক বাণিজ্য ও সামগ্রিক সীমিত অর্থনৈতিক ব্যবস্থার সাথে পুরোপুরি সাদৃশ্যপূর্ণ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও