ইতিহাস ১ম পত্র • শাসনতান্ত্রিক সংস্কার ও জাতীয় আন্দোলন • Combined Board • ঢাকা, কুমিল্লা, দিনাজপুর বোর্ড ২০২৫
ইতিহাস ১ম পত্র প্রশ্ন
ফুলপুর বাংলাদেশের অন্যতম একটি বড় উপজেলা। প্রশাসনিক কারণে এ বৃহৎ উপজেলাকে ভেঙে ১০টি ইউনিয়ন নিয়ে ফুলপুর, বাকী ৯টি ইউনিয়ন নিয়ে তারাকান্দা উপজেলা গঠিত হয়। ফলে উক্ত অঞ্চলের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নয়নের সুযোগ ঘটে।
- ক)(1)
ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি কে ছিলেন?
- খ)(2)
মুসলিম লীগ গঠনের উদ্দেশ্য কী ছিল?
- গ)(3)
উদ্দীপকের সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন ঘটনার সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উক্ত সিদ্ধান্ত ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসে সুদূরপ্রসারী প্রভাব বিস্তার করেছিল-পাঠ্যবইয়ের আলোকে তোমার মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন উমেশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় (W. C. Bonnerjee)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯০৬ সালে ঢাকায় মুসলিম লীগ গঠিত হয়েছিল মূলত ব্রিটিশ ভারতে ভারতীয় মুসলমানদের রাজনৈতিক স্বার্থ সংরক্ষণ, সাংবিধানিক অধিকার রক্ষা এবং ব্রিটিশ সরকারের কাছে মুসলমানদের আশা-আকাঙ্ক্ষা ও দাবি-দাওয়া নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে তুলে ধরার উদ্দেশ্যে। এ ছাড়া অন্যান্য সম্প্রদায়ের প্রতি কোনো বিরূপ মনোভাব পোষণ না করে মুসলমানদের সামগ্রিক অগ্রগতি নিশ্চিত করাও এর অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের বর্ণনার সাথে আমাদের পাঠ্যবইয়ের ১৯০৫ খ্রিষ্টাব্দের 'বঙ্গভঙ্গ' (বাংলা বিভাজন) ঘটনার সাদৃশ্য রয়েছে।
তৎকালীন বাংলা প্রেসিডেন্সি ছিল একটি বিশাল প্রদেশ (বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যা সমন্বয়ে গঠিত), যার জনসংখ্যা ও ভৌগোলিক আয়তন এতই বেশি ছিল যে একজন গভর্নরের পক্ষে সুষ্ঠু শাসনকাজ পরিচালনা করা অত্যন্ত দুরূহ হয়ে পড়েছিল। প্রশাসনিক সুবিধার কথা বলে লর্ড কার্জন ১৯০৫ সালে এই প্রদেশ ভেঙে 'পূর্ববঙ্গ ও আসাম' নামে নতুন প্রদেশ গঠন করেন।
উদ্দীপকে দেখা যায়, বৃহত্তর ফুলপুর উপজেলাকে প্রশাসনিক কাজের সুবিধার জন্য ভেঙে ফুলপুর ও তারাকান্দা নামে দুটি পৃথক প্রশাসনিক ইউনিটে রূপ দেওয়া হয়, যার ফলে সার্বিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়। একইভাবে ব্রিটিশ সরকারও বিশাল বাংলাকে ভেঙে পূর্ববঙ্গ ও আসাম গঠন করেছিল, যা উদ্দীপকের ঘটনার সাথে পুরোপুরি সাদৃশ্যপূর্ণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ সিদ্ধান্ত ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসে সুদূরপ্রসারী রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব বিস্তার করেছিল। নিম্নে এর প্রভাব বিশ্লেষণ করা হলো:
১. পূর্ববঙ্গের মুসলমানদের উন্নয়ন ও জাগরণ: বঙ্গভঙ্গের ফলে গঠিত নতুন প্রদেশের রাজধানী হয় ঢাকা। ফলে ঢাকা কেন্দ্রিক প্রশাসনিক কাঠামো, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, যোগাযোগ ব্যবস্থার বিস্তার এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটে। দীর্ঘদিনের অবহেলিত পূর্ববঙ্গের মুসলিম সমাজ আর্থসামাজিক ও শিক্ষাক্ষেত্রে দ্রুত এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পায়।
২. মুসলিম জাতীয়তাবাদের বিকাশ: বঙ্গভঙ্গের ফলেই বাঙালি মুসলিমদের মধ্যে স্বাতন্ত্র্যবোধ জাগ্রত হয়। এই প্রেক্ষাপটেই ১৯০৬ সালে ঢাকায় সর্বভারতীয় মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়, যা পরবর্তীকালে মুসলমানদের পৃথক আবাসভূমির ধারণাকে ভিত্তি প্রদান করে।
৩. হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিক্রিয়া ও স্বদেশি আন্দোলন: বর্ণহিন্দু জমিদার, আইনজীবী ও ব্যবসায়ী শ্রেণি বঙ্গভঙ্গের তীব্র বিরোধিতা করে একে 'মাতৃভূমি অঙ্গচ্ছেদ' হিসেবে গণ্য করে। এর প্রতিবাদে তারা বঙ্গভঙ্গ বিরোধী স্বদেশি আন্দোলন ও বয়কট আন্দোলন শুরু করে, যা ব্রিটিশবিরোধী জাতীয়তাবাদী আন্দোলনকে তীব্র রূপ দেয়।
৪. সাম্প্রদায়িক মেরুকরণ: বঙ্গভঙ্গকে কেন্দ্র করে হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে রাজনৈতিক স্বার্থের বৈপরীত্য সুস্পষ্ট হয়ে ওঠে। এর ফলে হিন্দু-মুসলিম সম্পর্কের টানাপোড়েন শুরু হয়, যা শেষ পর্যন্ত দ্বিজাতিতত্ত্বের পথ সুগম করে।
সুতরাং, ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ ভারতীয় রাজনীতির গতিপথ নাটকীয়ভাবে বদলে দিয়েছিল এবং এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব শেষ পর্যন্ত ১৯৪৭ সালের দেশভাগ পর্যন্ত গড়ায়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও