‍ইতিহাস ১ম পত্র • বাংলায় ইংরেজ আধিপত্য প্রতিষ্ঠা • Combined Board • ঢাকা, কুমিল্লা, দিনাজপুর বোর্ড ২০২৫

‍ইতিহাস ১ম পত্র প্রশ্ন

উইলিয়াম জেমস একজন দুঃসাহসী নাবিক ছিলেন। তিনি এক নতুন জলপথ আবিষ্কার করেন। আবিষ্কৃত জলপথটি ক ও খ উপমহাদেশের মধ্যে বাণিজ্যিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে নবযুগের সূচনা করে। এ পথ ধরেই পরবর্তীতে অন্যান্য জাতি খ দেশটিতে আসে এবং ব্যবসা বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ব্যাপক প্রসার ঘটে।

  1. ক)

    দ্বৈতশাসন ব্যবস্থা কে প্রবর্তন করেন?

    (1)
  2. খ)

    অন্ধকূপ হত্যা সম্পর্কে টীকা লেখো।

    (2)
  3. গ)

    উইলিয়াম জেমস এর সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন ব্যক্তির কর্মের সাদৃশ্য রয়েছে? বিবরণ দাও।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত বিভিন্ন জাতির আগমনের ফলে খ দেশের স্বাধীনতা ক্রমান্বয়ে বিপন্ন হয়-পাঠ্যবইয়ের আলোকে বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    লর্ড রবার্ট ক্লাইভ ১৭৬৫ সালে দ্বৈতশাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'অন্ধকূপ হত্যা' (Black Hole Tragedy) হলো ব্রিটিশ ঐতিহাসিক জে. জেড. হলওয়েল কর্তৃক প্রচারিত একটি বহুল বিতর্কিত ঘটনা। তাঁর বর্ণনা অনুযায়ী, ১৭৫৬ সালে নবাব সিরাজউদ্দৌলা কলকাতা আক্রমণের পর ১৪৬ জন ইংরেজ সেনাকে ১৮ ফুট দীর্ঘ ও ১৪ ফুট ১০ ইঞ্চি প্রশস্ত একটি অন্ধকার ও ক্ষুদ্র কামরায় বন্দি করে রাখা হয়। সেখানে তীব্র গরমে ও শ্বাসকষ্টে ১২৩ জন মারা যায় বলে তিনি দাবি করেন। তবে আধুনিক ঐতিহাসিকদের মতে, এই ঘটনাটি অতিরঞ্জিত ও নবাবের চরিত্রহননের উদ্দেশ্যে রচিত একটি অসত্য প্রচারণা মাত্র।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের উইলিয়াম জেমসের সাথে পাঠ্যবইয়ের পর্তুগিজ নাবিক ভাস্কো-দা-গামার কর্মের সাদৃশ্য রয়েছে।

    ১৪৯৮ খ্রিষ্টাব্দে পর্তুগিজ দুঃসাহসী নাবিক ভাস্কো-দা-গামা ইউরোপ থেকে আফ্রিকা মহাদেশের উত্তমাশা অন্তরীপ হয়ে ভারতের কালিকট বন্দরে পৌঁছানোর এক নতুন জলপথ আবিষ্কার করেন। তাঁর এ আবিষ্কারের ফলে প্রাচ্যের সাথে পাশ্চাত্যের সরাসরি সমুদ্রবাণিজ্য এবং জলপথে সরাসরি যোগাযোগের এক নতুন যুগের সূচনা হয়। এর সূত্র ধরেই পরবর্তীতে অন্যান্য ইউরোপীয় জাতিসমূহ ভারতে আসার পথ খুঁজে পায়।

    উদ্দীপকে উল্লেখিত নাবিক উইলিয়াম জেমস নতুন জলপথ আবিষ্কারের মাধ্যমে দুটি উপমহাদেশের মধ্যে বাণিজ্যিক নবযুগের সূচনা করেন এবং অন্যদের পথপ্রদর্শক হন, যা ঐতিহাসিক নাবিক ভাস্কো-দা-গামার কর্মকাণ্ডের সাথে সম্পূর্ণভাবে সাদৃশ্যপূর্ণ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত বিভিন্ন ইউরোপীয় জাতির ভারতে আগমনের ফলে এদেশের স্বাধীনতা ক্রমান্বয়ে বিপন্ন হয়—এই বক্তব্যটি ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ থেকে সম্পূর্ণ যথার্থ।

    জলপথ আবিষ্কারের পর ভাস্কো-দা-গামার পথ অনুসরণ করে ভারতীয় উপমহাদেশে পর্তুগিজ, ওলন্দাজ, দিনেমার, ফরাসি এবং ইংরেজসহ বিভিন্ন ইউরোপীয় বণিক দল বাণিজ্য করতে আসে। এদের মধ্যে ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ও ফরাসি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি সর্বাধিক প্রভাবশালী হয়ে ওঠে। তারা প্রাথমিক পর্যায়ে কেবলমাত্র ব্যবসার উদ্দেশ্যে আগমন করলেও ধীরে ধীরে উপমহাদেশের অভ্যন্তরীণ দুর্বলতা, অনৈক্য ও রাজনৈতিক অস্থিরতাকে পুঁজি করে ক্ষমতার দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ে।

    ইউরোপীয় বণিকদের মধ্যে বাণিজ্যের কর্তৃত্ব নিয়ে সংঘাতের ফলে উপমহাদেশে প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্র আকার ধারণ করে। অবশেষে ইংরেজ কোম্পানি ফরাসিদের পরাজিত করে একক আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করে এবং স্থানীয় শাসকদের সার্বভৌমত্বকে হুমকি মুখে ফেলে। ১৭৫৭ সালের ২৩শে জুন পলাশীর যুদ্ধে নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে পরাজিত ও হত্যার মাধ্যমে ইংরেজরা বাংলায় তাদের রাজনৈতিক আধিপত্যের সূচনা করে। পরবর্তীতে ১৭৬৪ সালের বক্সারের যুদ্ধ ও ১৭৬৫ সালের দেওয়ানি লাভের মাধ্যমে বাংলার সার্বভৌমত্ব পুরোপুরি বিপন্ন হয় এবং প্রায় দুইশত বছরের জন্য ভারত ব্রিটিশদের ঔপনিবেশিক পরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ হয়।

    সুতরাং বলা যায়, ইউরোপীয় বিভিন্ন জাতির আগমনের ফলেই ভারতবর্ষ তথা খ দেশটির রাজনৈতিক স্বাধীনতা ক্রমান্বয়ে বিপন্ন ও শেষ পর্যন্ত ভূলুণ্ঠিত হয়েছিল।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন