ইসলাম শিক্ষা ২য় পত্র • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২১
ইসলাম শিক্ষা ২য় পত্র প্রশ্ন
“যারা আল্লাহর সাথে অঙ্গীকারে আবদ্ধ হওয়ার পর তা ভঙ্গ করে এবং আল্লাহ যা অক্ষুণ্ণ রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন তা ছিন্ন করে; আর ।। পৃথিবীর বুকে অশান্তি সৃষ্টি করে, তারাই ক্ষতিগ্রস্ত।”
- ক)(1)
খলিফা ( خَلِيفَةٌ) অর্থ কী?
- খ)(2)
وأُولَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ (তারাই সফলকাম) — ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকের আলোকে ক্ষতিগ্রস্ত কারা? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের দ্বিতীয় আয়াতের আলোকে মানবজীবনের পরিবর্তিত স্তরগুলো ব্যাখ্যা কর ।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'খলিফা' (خَلِيفَةٌ) শব্দের অর্থ প্রতিনিধি, উত্তরাধিকারী বা স্থলাভিষিক্ত।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আয়াতাংশটি সূরা আল-বাকারার ৫ নম্বর আয়াতের শেষাংশ। এর দ্বারা মুত্তাকি বা আল্লাহভীরুদের চরম সাফল্যের সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে। যারা গায়েবের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে, সালাত কায়েম করে, আল্লাহর দেওয়া রিজিক থেকে ব্যয় করে এবং কুরআন ও পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের প্রতি পূর্ণ বিশ্বাস রাখে, তারা তাদের প্রতিপালকের সঠিক পথের ওপর প্রতিষ্ঠিত। তারাই দুনিয়াতে শান্তি এবং পরকালে জাহান্নাম থেকে মুক্তি ও জান্নাত লাভের মাধ্যমে প্রকৃত সফলতা অর্জন করবে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের আয়াতটি (সূরা বাকারা: ২৭) অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিরা হলো ফাসিক বা অবাধ্য সম্প্রদায়, যাদের তিনটি প্রধান বৈশিষ্ট্য এখানে উল্লেখ করা হয়েছে:
১. তারা আল্লাহর সাথে কৃত অঙ্গীকার (রূহুর জগতের 'আলাস্তু' চুক্তি বা কিতাবের বিধান মানার অঙ্গীকার) দৃঢ় করার পর তা ভঙ্গ করে।
২. আল্লাহ তায়ালা যেসব সম্পর্ক (যেমন আত্মীয়তার সম্পর্ক, মানবীয় ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন) অক্ষুণ্ণ বা অটুট রাখার নির্দেশ দিয়েছেন, তা ছিন্ন করে।
৩. তারা সৎকাজের পরিবর্তে অন্যায়, জুলুম ও অবাধ্যতার মাধ্যমে পৃথিবীতে ফ্যাসাদ বা অশান্তি-বিপর্যয় সৃষ্টি করে।
এসব বৈশিষ্ট্যের কারণে তারা পার্থিব জীবনে মানুষের আস্থা হারায় এবং পরকালে আল্লাহর রহমত থেকে বঞ্চিত হয়ে চরম ক্ষতিগ্রস্ত ও শাস্তিপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের সাথে সংশ্লিষ্ট কুরআনিক প্রেক্ষাপটে পরবর্তী আয়াত অর্থাৎ সূরা বাকারার ২৮ নম্বর আয়াতে (“তোমরা কিরূপে আল্লাহকে অস্বীকার করো? অথচ তোমরা ছিলে প্রাণহীন, অতঃপর তিনি তোমাদেরকে জীবন দান করেছেন, পুনরায় তিনি তোমাদের মৃত্যু ঘটাবেন এবং আবার তোমাদেরকে জীবিত করবেন, অতঃপর তাঁরই দিকে তোমরা প্রত্যাবর্তিত হবে।”) মানবজীবনের পরিবর্তিত স্তরগুলো স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে।
মানবজীবনের এই চারটি প্রধান স্তর নিম্নরূপ:
১. অস্তিত্বহীন বা প্রাণহীন অবস্থা: মানুষ সৃষ্টির পূর্বে একসময় সম্পূর্ণ নির্জীব বা মৃত অবস্থায় ছিল, যার কোনো স্বাধীন অস্তিত্ব বা চেতনা ছিল না। আল্লাহ মানবদেহে রুহ ফুঁকে দিয়ে তাকে অস্তিত্ব দান করেন।
২. পার্থিব জীবন: আল্লাহ তায়ালা মানুষকে মাতৃগর্ভ থেকে দুনিয়ার জীবনে আনয়ন করেন। এই স্তরটি পরীক্ষা ও সৎকাজ সম্পাদনের ক্ষেত্র।
৩. শারীরিক মৃত্যু ও বারযাখ জীবন: পার্থিব জীবনের নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষে প্রত্যেক মানুষকে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হয়। মৃত্যুর মাধ্যমে সে কবরের বা বারযাখের জগতে প্রবেশ করে।
৪. পুনরুত্থান ও পরকালীন অনন্ত জীবন: কিয়ামতের দিন আল্লাহ সকল মানুষকে পুনরায় জীবিত করবেন এবং হাশরের ময়দানে হিসাব-নিকাশের পর তাঁর দিকেই শেষ প্রত্যাবর্তন ঘটবে।
এভাবে মানুষ চারটি সুস্পষ্ট পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করে আল্লাহর সামনে চূড়ান্ত জওয়াবদিহিতায় উপনীত হবে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও