ইসলাম শিক্ষা ২য় পত্র • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২১
ইসলাম শিক্ষা ২য় পত্র প্রশ্ন
মহানবি (সা.) বলেছেন, 'আমি তোমাদের মাঝে দুটি জিনিস রেখে যাচ্ছি, যতদিন তোমরা সে দুটিকে আঁকড়ে ধরে থাকবে ততদিন পথভ্রষ্ট হবে না।
- ক)(1)
হাদিস কাকে বলে?
- খ)(2)
তিনি ওহি ব্যতীত কোনো কথাই বলেন না।'-- ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
'দুটি জিনিস'-এর দ্বিতীয়টির গুরুত্ব বর্ণনা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উদ্দীষ্ট প্রথম বিষয়টির পরিচয় দাও এবং মানবজীবনেএর গুরুত্ব বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ইসলামি পরিভাষায় রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কথা, কাজ এবং মৌন সম্মতিকে হাদিস বলা হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্ধৃত কথাটি মহানবি (সা.)-এর পবিত্র বাণীর উৎস নির্দেশ করে। সূরা আন-নাজমের ৩ ও ৪ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেন, নবি করিম (সা.) নিজের খেয়ালখুশি মতো কোনো কথা বলেন না, তিনি যা বলেন তা কেবল তাঁর প্রতি প্রেরিত ওহি। অর্থাৎ নবিজি (সা.)-এর প্রতিটি নির্দেশ, উপদেশ ও শরিয়তের বিধান আল্লাহর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ওহির ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত। ফলে তাঁর সব কথা ও নির্দেশ অভ্রান্ত এবং উম্মতের জন্য অবশ্য পালনীয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বিদায় হজের ভাষণে মহানবি (সা.) যে দুটি জিনিস আঁকড়ে ধরার নির্দেশ দিয়েছেন, তার দ্বিতীয়টি হলো 'সুন্নাতে রাসুল' বা নবি করিম (সা.)-এর সুন্নাহ (হাদিস)।
ইসলামের বিধিবিধান প্রয়োগে দ্বিতীয় উৎসের গুরুত্ব অপরিসীম:
১. কুরআনের ব্যাখ্যা: আল-কুরআনের অনেক আদেশ সংক্ষেপে বা নীতিগতভাবে এসেছে (যেমন—সালাত কায়েম করা, জাকাত প্রদান ইত্যাদি)। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহর মাধ্যমেই সেগুলোর বিস্তারিত নিয়ম ও পদ্ধতি স্পষ্ট হয়।
২. আমলি নমুনা: রাসুলুল্লাহ (সা.) ছিলেন জীবন্ত কুরআন। তাঁর সুন্নাহ অনুসরণের মাধ্যমেই একজন মুসলিম কুরআনের নির্দেশনাবলি দৈনন্দিন জীবনে বাস্তবায়ন করতে পারে।
৩. পথভ্রষ্টতা থেকে রক্ষা: সুন্নাহ ত্যাগ করলে দীন বিকৃত হয়ে পড়ে। তাই বিভ্রান্তি ও বিদআত থেকে মুক্ত থেকে সঠিক পথে অবিচল থাকার জন্য সুন্নাহ আঁকড়ে ধরা অপরিহার্য। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উদ্দীষ্ট প্রথম বিষয়টি হলো 'কিতাবুল্লাহ' বা পবিত্র আল-কুরআন। এটি মহান আল্লাহর বাণী, যা মানবজাতির হেদায়েতের জন্য জিবরাইল (আ.)-এর মাধ্যমে শেষ নবি মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর দীর্ঘ ২৩ বছরে অবতীর্ণ হয়েছে।
মানবজীবনে আল-কুরআনের গুরুত্ব নিম্নে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. হেদায়েতের মূল উৎস: আল-কুরআন হলো মানবজীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ পথপ্রদর্শক। এটি সত্য ও মিথ্যার পার্থক্যকারী (ফুরকান) এবং মানুষকে অজ্ঞতার অন্ধকার থেকে আলোর পথে নিয়ে আসে।
২. পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান: এটি কেবল কিছু ধর্মীয় রীতিনীতির গ্রন্থ নয়, বরং মানুষের ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক, বিচারিক ও আন্তর্জাতিক জীবনের যাবতীয় বিধানের মৌলিক রূপরেখা এতে সন্নিবেশিত রয়েছে।
৩. নৈতিক ও আত্মিক পরিশুদ্ধি: কুরআন অধ্যয়ন ও অনুসরণের মাধ্যমে মানুষের অন্তরের রোগ দূর হয়, চরিত্র উন্নত হয় এবং মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জিত হয়।
৪. বিভ্রান্তি থেকে মুক্তি ও পরকালীন শান্তি: পার্থিব জীবনে চরম বিপর্যয় ও বিভ্রান্তি থেকে বাঁচতে এবং আখিরাতে জান্নাত লাভের জন্য কুরআনের বিধানকে আঁকড়ে ধরা অপরিহার্য।
অতএব, মানবজীবনের সার্বিক কল্যাণ ও মুক্তির একমাত্র নিশ্চিত পথ হলো কুরআনের যথাযথ অনুসরণ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও