ইসলাম শিক্ষা ২য় পত্র • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২১
ইসলাম শিক্ষা ২য় পত্র প্রশ্ন
রিফা একটি নির্দিষ্ট মাসে সুবহি সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার ও অন্যান্য কাজ থেকে বিরত থাকে। আড়ালে-আবডালে গিয়েও কোনো কিছু খায় না। তার বন্ধু নিজা বছর শেষে সম্পদের একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অংশ নির্ধারিত ৮টি খাতে খরচ করে ।
- ক)(1)
‘হজ’-এর আক্ষরিক অর্থ কী?
- খ)(2)
ইমানের নিদর্শন হলো সালাত'- বুঝিয়ে লেখ ।
- গ)(3)
রিফা যে ইবাদাত পালন করে তার পরিচয় ও সামাজিক বর্ণনা কর ।
- ঘ)(4)
নিজার কর্মকাণ্ডে কোন ইবাদাতের পরিচয় ফুটে উঠেছে? দারিদ্র্য বিমোচনে উক্ত ইবাদাতের গুরুত্ব বিশ্লেষণ কর ।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'হজ' শব্দের আভিধানিক বা আক্ষরিক অর্থ হলো সংকল্প করা, ইচ্ছা করা বা জিয়ারত করা।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সালাত হলো মুমিনের প্রধান দৃশ্যমান পরিচয় ও ইমানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাস্তব বহিঃপ্রকাশ। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, 'বান্দা এবং কুফরের মধ্যে পার্থক্য হলো সালাত ত্যাগ করা।' অন্তরের বিশ্বাস বা ইমান দৈনন্দিন জীবনে সালাতের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়। যে ব্যক্তি সালাত কায়েম করে, সে আল্লাহ ও তাঁর বিধানে পূর্ণ বিশ্বাসী হিসেবে নিজেকে প্রকাশ করে। এজন্য সালাতকে ইমানের নিদর্শন ও দ্বীনের স্তম্ভ বলা হয়েছে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে রিফার কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে 'সাওম' বা রোজা পালনের পরিচয় পাওয়া যায়।
ইসলামের পরিভাষায়, আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত যাবতীয় পানাহার ও ইন্দ্রিয়তৃপ্তি থেকে বিরত থাকাকে সাওম বলে।
সাওমের সামাজিক গুরুত্ব অপরিসীম। সাওম ধনী-দরিদ্রের মধ্যকার ব্যবধান দূর করে এবং পারস্পরিক সহানুভূতি ও সহমর্মিতা শিক্ষা দেয়। দীর্ঘ সময় অনাহারে থাকার মাধ্যমে একজন সচ্ছল ব্যক্তি দরিদ্র ও অনাহারী মানুষের দুঃখ-কষ্ট গভীরভাবে উপলব্ধি করতে পারে। এর ফলে সমাজের অসহায় মানুষের প্রতি সাহায্য-সহযোগিতার মনোভাব জাগ্রত হয়, যা একটি সমতাভিত্তিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
নিজার কর্মকাণ্ডে ইসলামের অন্যতম মৌলিক স্তম্ভ 'যাকাত'-এর পরিচয় ফুটে উঠেছে। কারণ সে বছর শেষে নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্পদ থেকে নির্ধারিত আটটি খাতে ব্যয় করে।
দারিদ্র্য বিমোচনে যাকাতের গুরুত্ব অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ইসলামে যাকাত কোনো করুণা নয়, বরং ধনীদের সম্পদে দরিদ্রদের ন্যায্য অধিকার। সমাজে ধনীদের উদ্বৃত্ত সম্পদ যখন যাকাত হিসেবে দরিদ্র ও নিঃস্বদের মাঝে বণ্টন করা হয়, তখন তাদের মৌলিক চাহিদা পূরণ হয় এবং তারা অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ পায়। যাকাত অর্থকে নির্দিষ্ট কিছু মানুষের হাতে পুঞ্জীভূত হতে দেয় না, বরং তা সমাজের সর্বস্তরে পরিচালিত করে। পরিকল্পিতভাবে যাকাত ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করলে সমাজে বেকারত্ব দূর হয়, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পায় এবং ধীরে ধীরে সমাজ থেকে দারিদ্র্য চিরতরে নির্মূল হয়। সুতরাং, অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করে দারিদ্র্যমুক্ত সমাজ গঠনে যাকাতের ভূমিকা অনস্বীকার্য।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও