কৃষি শিক্ষা ১ম পত্র • ফল ও শাকসবজি প্রক্রিয়াজাতকরণ ও সংরক্ষণ • Combined Board • ঢাকা, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর, সিলেট বোর্ড ২০২৩
কৃষি শিক্ষা ১ম পত্র প্রশ্ন
রাহেলা বেগমের আঙ্গিনায় লাগানো পেয়ারা গাছগুলোতে এ বছর প্রচুর পেয়ারা ধরেছে। কিন্তু বাজারে দাম কম থাকায় সে চিন্তায় পড়লো। রাহেলা বেগমের মেয়ে সাবিনা মাকে বললো যে, সে কৃষিশিক্ষা ক্লাশে মুখরোচক খাদ্য তৈরির কৌশল শিখেছে। তারপর মা এবং মেয়ে একত্রে উক্ত খাদ্য তৈরি করে পেয়ারা সংরক্ষণ করলো।
- ক)(1)
সস কী?
- খ)(2)
কিউরিং করা হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত খাদ্যটি তৈরি পদ্ধতি ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
রাহেলা এবং সাবিনার গৃহীত উদ্যোগটি উদ্দীপকের আলোকে মূল্যায়ন করো ।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সস হলো পাকা টমেটোর বা অন্যান্য ফলের পাল্প বা মণ্ড, চিনি, লবণ, ভিনেগার এবং বিভিন্ন মশলা সহযোগে প্রস্তুতকৃত এক ধরনের ঘন ও মুখরোচক তরল খাদ্যদ্রব্য।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ফসল তোলার পর তার বাহ্যিক খোসা বা ত্বককে শক্ত ও শুকিয়ে দীর্ঘকাল সংরক্ষণের উপযোগী করার প্রক্রিয়াকে কিউরিং বলে। পেঁয়াজ, রসুন বা আদা জাতীয় ফসলের অতিরিক্ত আর্দ্রতা দূর করতে এবং রোগজীবাণুর আক্রমণ প্রতিরোধ করে পচন রোধ করার জন্য কিউরিং করা হয়। কিউরিংয়ের ফলে ফসলের ওজন হ্রাস ও গুণগত মান বজায় থাকে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে পেয়ারা দ্বারা তৈরি মুখরোচক খাদ্যটি হলো 'পেয়ারার জেলি'। পেয়ারার জেলি তৈরির পদ্ধতি নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:
১. ফল নির্বাচন ও প্রস্তুতি: পরিপক্ব ও কিছুটা শক্ত পেয়ারা ভালোভাবে ধুয়ে ছোট ছোট টুকরো করে কেটে নিতে হবে।
২. সেদ্ধকরণ ও নির্যাস সংগ্রহ: পেয়ারার টুকরোগুলো সমপরিমাণ পানি দিয়ে নরম না হওয়া পর্যন্ত জ্বাল দিতে হবে। এরপর পাতলা মসলিন কাপড়ে ঝুলিয়ে পেয়ারার পরিষ্কার রস বা পেকটিনযুক্ত নির্যাস ছেঁকে আলাদা করতে হবে।
৩. উপাদান মিশ্রণ: সংগৃহীত রসের সাথে সমপরিমাণ বা পরিমিত চিনি ও সাইট্রিক এসিড ভালোভাবে মিশিয়ে নিতে হবে।
৪. জ্বাল দেওয়া ও পরীক্ষা: মিশ্রণটিকে মাঝারি আঁচে জ্বাল দিতে হবে। চামচ থেকে ফোঁটা ফেলে বা পানিতে ফেলে জেলি জমার উপযুক্ত অবস্থা (শীট টেস্ট) পরীক্ষা করতে হবে।
৫. সংরক্ষণ: জেলি উপযুক্ত ঘনত্বে পৌঁছালে নামিয়ে গরম অবস্থাতেই জীবাণুমুক্ত কাচের বয়ামে ঢেলে ঠান্ডা করে মুখ ভালোভাবে বায়ুরোধী করে সংরক্ষণ করতে হবে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
রাহেলা এবং সাবিনার গৃহীত উদ্যোগটি ছিল অত্যন্ত সময়োপযোগী, লাভজনক ও প্রশংসনীয়। নিচে এর মূল্যায়ন করা হলো:
উদ্দীপকে দেখা যায়, রাহেলা বেগমের গাছে প্রচুর পেয়ারা ধরেছিল কিন্তু বাজারে দাম কম থাকায় তিনি আর্থিকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছিলেন। এ অবস্থায় মেয়ে সাবিনার পরামর্শে তারা পেয়ারা বিক্রি না করে তা প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে মুখরোচক খাদ্যে (জেলি) রূপান্তর করে সংরক্ষণ করে।
১. অপচয় রোধ: কাঁচা বা তাজা পেয়ারা দ্রুত পচনশীল। সঠিক সময়ে সংরক্ষণ না করলে তা পচে নষ্ট হয়ে যেত। জেলি তৈরির মাধ্যমে পেয়ারার সম্পূর্ণ অপচয় রোধ সম্ভব হয়েছে।
২. মূল্য সংযোজন (Value Addition): কাঁচা পেয়ারার চেয়ে প্রক্রিয়াজাতকৃত জেলি অত্যন্ত মুখরোচক এবং এর বাজারমূল্য অনেক বেশি। কম দামে পেয়ারা বিক্রি না করে জেলি তৈরি করায় অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
৩. পরিবারের পুষ্টি চাহিদা পূরণ ও দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহার: এভাবে তৈরি জেলি দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করে রাখা যায়, যা সারা বছর পরিবারের পুষ্টি ও ভিটামিন 'সি'-এর চাহিদা পূরণ করতে পারে।
৪. আত্মকর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা সৃষ্টি: সাবিনার বিদ্যালয়ের ব্যবহারিক শিক্ষার বাস্তব প্রয়োগ ঘটে যা তাদের ভবিষ্যৎ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী বা উদ্যোক্তা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে সহায়তা করতে পারে।
সুতরাং, ফসল অপচয় রোধ, পারিবারিক পুষ্টি নিশ্চিতকরণ এবং অর্থনৈতিক ক্ষতি এড়িয়ে মূল্য সংযোজনের দিক থেকে তাদের গৃহীত উদ্যোগটি অত্যন্ত বাস্তবসম্মত ও ইতিবাচক ভূমিকা পালন করেছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও