কৃষি শিক্ষা ১ম পত্র • মাঠ ও উদ্যান ফসল উৎপাদন • Combined Board • ঢাকা, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর, সিলেট বোর্ড ২০২৩
কৃষি শিক্ষা ১ম পত্র প্রশ্ন
বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় প্রতিটি জেলায় কম বেশি কুলের চাষ হয়। এতে প্রচুর পরিমাণে খনিজ এবং ভিটামিন এ ও সি আছে। কৃষি প্রযুক্তির মাধ্যমে দেশি টক জাতীয় কুলের গাছ থেকে অতি সহজেই ভালো জাতের কুল পাওয়া যায়। বর্তমানে অনেকেই বাণিজ্যিকভাবে কুল চাষ করে লাভবান হচ্ছে এবং দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।
- ক)(1)
সেরিকালচার কী?
- খ)(2)
পানি নিকাশ কেন করা হয়? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত ফলটির ছাঁটাইকরণের পদ্ধতি ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে বর্ণিত শেষ উক্তিটির যথার্থতা বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
রেশম পোকা পালন এবং এর থেকে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে রেশম সুতা উৎপাদনের বিজ্ঞানসম্মত কৌশলকে সেরিকালচার (Sericulture) বা রেশম চাষ বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জমির ক্ষতিকর অতিরিক্ত পানি বাইরে বের করে দেওয়ার প্রক্রিয়াকে পানি নিকাশ বলে। উদ্ভিদের শিকড় বেঁচে থাকার জন্য মাটিতে অক্সিজেনের উপস্থিতি অপরিহার্য। জমিতে অতিরিক্ত পানি জমে থাকলে মাটির রন্ধ্রগুলো পানিতে পূর্ণ হয়ে বায়ু চলাচল বন্ধ হয়ে যায়, ফলে শিকড় পচে গাছ মারা যেতে পারে। এছাড়া নিকাশ না করলে রোগবালাইয়ের আক্রমণ ও ক্ষতিকর উপাদানের আধিক্য ঘটে। তাই শিকড়ের অবাধ শ্বাসপ্রশ্বাস ও সুস্থ বৃদ্ধির জন্য জমিতে পানি নিকাশ করা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত ফলটি হলো কুল। কুলের ফলন বৃদ্ধির জন্য ছাঁটাইকরণ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কৃষিতাত্ত্বিক পরিচর্যা। কুলের ছাঁটাইকরণ পদ্ধতি নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:
১. ছাঁটাইকরণের সময়: ফল সংগ্রহের পরপরই অর্থাৎ ফাল্গুন-চৈত্র (ফেব্রুয়ারি-মার্চ) মাসে কুলের ডাল ছাঁটাই করতে হয়।
২. শাখা নির্বাচন ও কর্তন: বয়োবৃদ্ধ, রোগাক্রান্ত, শুকনা ও ঘন হয়ে থাকা ডালপালা ধারালো প্রুনিং সিয়ার্স বা করাত দিয়ে ছাঁটাই করতে হয়। প্রধান কাণ্ডের ১-১.৫ মিটার উপরে মূল ডালগুলোর গোড়ার অংশ কিছুটা রেখে বাকি অপ্রয়োজনীয় শাখা কেটে ফেলতে হয়।
৩. কাটা অংশের যত্ন: ডাল কাটার পর কাটা অংশে ছত্রাকনাশকের প্রলেপ (যেমন- বোর্দো পেস্ট) লাগিয়ে দিতে হয়, যাতে কাটা মুখে রোগজীবাণুর আক্রমণ না ঘটে।
৪. নতুন কুঁড়ি ব্যবস্থাপনা: ছাঁটাইয়ের পর প্রচুর নতুন শাখা গজায়। নতুন ডালপালাগুলোতেই মূলত পরবর্তী মৌসুমে প্রচুর ফুল ও ফল ধরে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের শেষ উক্তিটি হলো—"বর্তমানে অনেকেই বাণিজ্যিকভাবে কুল চাষ করে লাভবান হচ্ছে এবং দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে"—উক্তিটি অত্যন্ত যথার্থ।
কুল বা বরই বাংলাদেশের একটি জনপ্রিয় ও পুষ্টিকর ফল। বর্তমানে উন্নত জাতের কুল (যেমন- বাউ কুল, থাই কুল, আপেল কুল, ভারত সুন্দরী ইত্যাদি) গ্রাফটিং বা জোড় কলম প্রযুক্তির মাধ্যমে চাষ করা হচ্ছে। এসব জাতের কুল গাছ খুব দ্রুত এবং প্রচুর ফলন দেয়।
বাণিজ্যিক কুল চাষে লাভবান হওয়া ও অর্থনীতিতে অবদান রাখার কারণসমূহ:
১. দ্রুত লাভজনক: কুল চাষে অল্প সময়ে এবং কম পুঁজিতে ভালো মুনাফা অর্জন করা যায়। রোপণের প্রথম বছরেই ফলন পাওয়া যায়।
২. পতিত জমির সঠিক ব্যবহার: চরাঞ্চল, বরেন্দ্র অঞ্চল এবং বসতবাড়ির আশপাশের অনুর্বর জমিতেও কুলের বাণিজ্যিক চাষ করা সম্ভব হচ্ছে।
৩. কর্মসংস্থান সৃষ্টি: কুল চাষ, চারা তৈরি, সংগ্রহ, প্যাকেজিং এবং বাজারজাতকরণের সাথে বহু বেকার যুবক ও গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে।
৪. পুষ্টি নিরাপত্তা: দেশীয় চাহিদার পুষ্টি, বিশেষ করে ভিটামিন এ ও সি এবং খনিজের জোগান দিয়ে জাতীয় স্বাস্থ্য রক্ষা করছে।
৫. অর্থনৈতিক উন্নয়ন: কৃষক ও তরুণ উদ্যোক্তারা বাণিজ্যিকভাবে কুল বিক্রি করে আর্থিকভাবে সচ্ছল হচ্ছেন, যা গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করছে।সুতরাং, উল্লিখিত দিকগুলো বিবেচনা করলে দেখা যায় কুল চাষ বাস্তবিক অর্থেই উদ্যোক্তাদের লাভবান করছে এবং দেশের জাতীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও