মনোবিজ্ঞান ১ম পত্র • Combined Board • ঢাকা, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর, সিলেট বোর্ড ২০২৩
মনোবিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন
দৃশ্যকল্প-১: প্রতিবেশীর বাড়িতে ডাকাতির ঘটনায় ভীত। সন্ত্রস্ত তুহিন ঘন ঘন শ্বাস-প্রশ্বাস ফেলে এবং তার মুখ শুকিয়ে যায়। দৃশ্যকল্প-২: কক্সবাজার বেড়াতে এসে মুনতাহা কিছু বখাটে ছেলের কবলে পড়ে। এরপর থেকে সে আর একাকী কোথাও বের হয় না।
- ক)(1)
আবেগ কী?
- খ)(2)
অনুভূতি এবং আবেগ এক নয় কেন?
- গ)(3)
দৃশ্যকল্প-২ এ উল্লেখিত মুনতাহার প্রেষণাটি ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
দৃশ্যকল্প-১ এ প্রদত্ত তুহিনের অনুভূত দৈহিক পরিবর্তনগুলো ছাড়া আরও চারটি দৈহিক পরিবর্তন পর্যালোচনা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আবেগ হলো এমন একটি আলোড়িত বা উত্তেজিত মানসিক ও দৈহিক অবস্থা, যা ব্যক্তির অনুভূতি, শারীরিক পরিবর্তন এবং বাহ্যিক আচরণের সমন্বয়ে প্রকাশিত হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
অনুভূতি এবং আবেগ এক নয়, কারণ অনুভূতি হলো কোনো উদ্দীপকের প্রতি ব্যক্তির ব্যক্তিগত ভালো লাগা বা মন্দ লাগার একটি প্রাথমিক ও মৃদু মানসিক অবস্থা। অন্যদিকে, আবেগ হলো অনুভূতির চেয়ে অনেক বেশি তীব্র, আলোড়িত এবং দীর্ঘস্থায়ী অবস্থা, যার সাথে সুস্পষ্ট শারীরিক ও শারীরবৃত্তীয় পরিবর্তন জড়িত থাকে। সহজ কথায়, অনুভূতির তীব্র ও আলোড়িত রূপই হলো আবেগ।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দৃশ্যকল্প-২ এ উল্লেখিত মুনতাহার মধ্যে 'নিরাপত্তার প্রেষণা' (Safety/Security Motive) বা 'ভীতিজনিত আত্মরক্ষার প্রেষণা' পরিলক্ষিত হয়েছে।
মনোবিজ্ঞানে নিরাপত্তার প্রেষণা হলো একটি গুরুত্বপূর্ণ জৈবিক ও মনস্তাত্ত্বিক প্রেষণা। মানুষ যেকোনো শারীরিক বা মানসিক ক্ষতি, বিপদ কিংবা হুমকি থেকে নিজেকে মুক্ত ও সুরক্ষিত রাখতে চায়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, মুনতাহা কক্সবাজার বেড়াতে এসে বখাটে ছেলেদের হয়রানির মুখে পড়ে। এই নেতিবাচক ও ভীতিকর অভিজ্ঞতা তার মধ্যে তীব্র নিরাপত্তাহীনতাবোধ ও ভয়ের সঞ্চার করে। ফলে ভবিষ্যতে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত বিপদ এড়ানোর উদ্দেশ্যে তার মধ্যে নিরাপত্তার প্রেষণা তীব্রভাবে জাগ্রত হয়। এই প্রেষণার কারণেই মুনতাহা পরবর্তীতে আর একা কোথাও বের না হওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়, যা আত্মরক্ষামূলক আচরণের প্রতিফলন।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দৃশ্যকল্প-১ এ ভীত-সন্ত্রস্ত তুহিনের মধ্যে ঘন ঘন শ্বাস-প্রশ্বাস ফেলা এবং মুখ শুকিয়ে যাওয়া—এই দুটি দৈহিক পরিবর্তন দেখা গেছে। আবেগের (বিশেষ করে ভয়) সময় স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুতন্ত্রের সহানুভূতিশীল (Sympathetic) শাখার ক্রিয়ায় শরীরে নানাবিধ পরিবর্তন ঘটে। এর বাইরে আরও চারটি প্রধান অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক দৈহিক পরিবর্তন নিচে পর্যালোচনা করা হলো:
১. হৃৎপিণ্ডের ক্রিয়া বা রক্ত সঞ্চালনের পরিবর্তন: তীব্র ভয়ের সময় হৃৎপিণ্ডের স্পন্দন দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং ধমনি সংকুচিত হয়ে রক্তচাপ বেড়ে যায়। ফলে সারা দেহে দ্রুত রক্ত প্রবাহিত হয় যা আপৎকালীন পরিস্থিতিতে ব্যক্তিকে লড়াই করতে বা পালিয়ে যেতে প্রস্তুত করে।
২. চোখের তারার প্রসারণ: ভীতিকর বা তীব্র আবেগের পরিস্থিতিতে চোখের মণি বা তারা (pupil) প্রসারিত হয়। এর ফলে চোখে বেশি আলো প্রবেশ করে এবং দৃষ্টিশক্তি সাময়িকভাবে তীক্ষ্ণ হয়, যা বিপদ পর্যবেক্ষণ করতে সাহায্য করে।
৩. ঘাম নিঃসরণ বৃদ্ধি: আবেগের সময় ঘর্মগ্রন্থির কার্যকারিতা বেড়ে যায়। বিশেষ করে হাতের তালু ও কপালে প্রচুর ঘাম নিঃসৃত হয় এবং ত্বকের বৈদ্যুতিক প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস পায় (GSR বা Galvanic Skin Response)।
৪. পরিপাক ক্রিয়া ব্যাহত হওয়া: ভয়ের সময় পরিপাকতন্ত্রের স্বাভাবিক ক্রিয়া এবং পাকস্থলী ও অন্ত্রের পেশির নড়াচড়া সাময়িকভাবে বন্ধ বা হ্রাস পায়। পাচক রস ক্ষরণ কমে যায়, কারণ তখন দেহের সমুদয় শক্তি জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় পেশিগুলোতে সঞ্চালিত হয়।
অতএব, আবেগের মুহূর্তে মানবদেহে সমন্বিতভাবে এই সমস্ত শারীরবৃত্তীয় পরিবর্তন ঘটে থাকে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও