কৃষি শিক্ষা ১ম পত্র • মাঠ ও উদ্যান ফসল উৎপাদন • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, বরিশাল, সিলেট বোর্ড ২০১৭
কৃষি শিক্ষা ১ম পত্র প্রশ্ন
যশোরের গদখালীর সবুজ মিয়া ফুল চাষকে একটি পেশা হিসেবে নিয়েছেন। তার বাগানে ডালিয়া, চন্দ্রমল্লিকাসহ অনেক ফুলের সমাহার। দেশে ও বিদেশে এসব ফুলের অনেক চাহিদা আছে। সবুজ মিয়া ফুল বিক্রি করে ধীরে ধীরে আর্থিক সফলতা অর্জন করেছেন। তা দেখে এখন গ্রামের অধিকাংশ কৃষক ফুল চাষের সাথে জড়িয়ে পড়েছেন।
- ক)(1)
কিউরিং কী?
- খ)(2)
ডাল গরিবের মাংস- ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
পেশা হিসেবে সবুজ মিয়া ফুল চাষকে বেছে নিলেন কেন? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের সবুজ মিয়ার কর্মকান্ডটি মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পেঁয়াজ, রসুন বা তামাক ইত্যাদি ফসল তোলার পর নির্দিষ্ট আর্দ্রতা ও তাপমাত্রায় সংরক্ষণ উপযোগী করে শুকিয়ে নেওয়ার বিশেষ প্রক্রিয়াকে কিউরিং (Curing) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মাংসে প্রচুর পরিমাণ আমিষ থাকে যা মানবদেহের গঠন ও বৃদ্ধির জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। কিন্তু নিম্ন আয়ের বা দরিদ্র মানুষের পক্ষে মাছ-মাংস কিনে আমিষের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হয় না। অন্যদিকে ডাল তুলনামূলকভাবে কম মূল্যের হলেও এতে প্রায় ২০-২৫% উদ্ভিজ্জ আমিষ থাকে, যা দেহের পুষ্টি চাহিদা মেটাতে কার্যকর ভূমিকা রাখে। সহজলভ্য ও পুষ্টিগুণের দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় ডালকে 'গরিবের মাংস' বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি এবং দেশ-বিদেশে ব্যাপক চাহিদার কারণে সবুজ মিয়া পেশা হিসেবে ফুল চাষকে বেছে নিয়েছেন।
ফুল চাষ বর্তমানে অত্যন্ত লাভজনক একটি বাণিজ্যিক কৃষি কার্যক্রম। উদ্দীপকে দেখা যায়, সবুজ মিয়া যশোরের গদখালীতে ডালিয়া, চন্দ্রমল্লিকাসহ নানা জাতের ফুলের চাষ শুরু করেন। ঐতিহ্যগত ফসলের তুলনায় ফুল চাষে অল্প সময়ে এবং স্বল্প জমিতে বেশি লাভ অর্জন সম্ভব হয়। বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক, জাতীয় উৎসব ছাড়াও দৈনন্দিন প্রয়োজনে অভ্যন্তরীণ বাজারে ফুলের বিপুল চাহিদা রয়েছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারেও বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদিত তাজা ফুলের ব্যাপক চাহিদা তৈরি হয়েছে। সবুজ মিয়া এসব বাজার সম্ভাব্যতা ও অধিক মুনাফার সুযোগ বিবেচনা করে ফুল চাষকে নিজের প্রধান পেশা হিসেবে গ্রহণ করেন।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের সবুজ মিয়ার ফুল চাষের উদ্যোগটি শুধু তাঁর ব্যক্তিগত আর্থিক উন্নয়নই ঘটায়নি, বরং গ্রামীণ অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানে একটি অনুকরণীয় ও রূপান্তরমূলক ভূমিকা রেখেছে।
সবুজ মিয়া সনাতন চাষাবাদের গণ্ডি পেরিয়ে ফুল চাষকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করে দূরদর্শী চিন্তার পরিচয় দিয়েছেন। তিনি পরিকল্পিতভাবে ডালিয়া ও চন্দ্রমল্লিকার মতো বাণিজ্যিকভাবে চাহিদাসম্পন্ন ফুলের চাষ করে ধীরে ধীরে আর্থিকভাবে সফল হয়েছেন। তাঁর এই সাফল্য স্থানীয় কৃষকদের চিন্তাভাবনায় ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে। সবুজ মিয়াকে দেখে গ্রামের অধিকাংশ কৃষক সনাতন কৃষি ছেড়ে লাভজনক ফুল চাষের সাথে যুক্ত হয়েছেন। এর ফলে এলাকায় বেকারত্ব হ্রাস পেয়েছে, মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং জীবনযাত্রার মান উন্নত হয়েছে।
সুতরাং, সবুজ মিয়ার এ কর্মকাণ্ডটি কৃষি বহুমুখীকরণ, গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালীকরণ এবং স্থানীয় কৃষক সমাজকে স্বাবলম্বী করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত প্রশংসনীয় ও কার্যকর একটি পদক্ষেপ হিসেবে মূল্যায়ন করা যায়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও