ইসলাম শিক্ষা ২য় পত্র • Combined Board • ঢাকা, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, বরিশাল, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৩
ইসলাম শিক্ষা ২য় পত্র প্রশ্ন
জনাব মঞ্জুরুল হক একজন বিশিষ্ট শিল্পপতি। তিনি নিয়মিত যাকাত আদায় ছাড়াও এলাকার উন্নয়নে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করেন। এতে তার সহযোগী শিল্পপতি জনাব আনোয়ারুল হক ঈর্ষান্বিত ও প্রতিযোগী মনোভাবাপন্ন হয়ে এলাকায় রাস্তাঘাট নির্মাণ করেন। তাদের এলাকার একজন ধর্মপ্রাণ চাল ব্যবসায়ী জনাব নুরুল হক দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির সময় নামমাত্র লাভে চাল বিক্রি করেন। তিনি চিকন চালের সাথে মোট চাল মেশান না এবং ক্রেতাকে ওজনেও কম দেন না। তিনি ইসলামি পন্থায় ব্যবসা করাকে ফরজের পরে ফরজ মনে করেন।
- ক)(1)
লজ্জাশীলতা কী?
- খ)(2)
“নিশ্চয়ই মুসলমানগণ পরস্পর ভাই ভাই।”- ব্যাখ্যা কর ।
- গ)(3)
জনাব আনোয়ারুল হকের কর্মকাণ্ডে কোন বিশেষ গুণটি প্রকাশ পায়? হাদিসের আলোকে ব্যাখ্যা কর ।
- ঘ)(4)
জনাব নুরুল হকের মনোভাবটি হাদিসের আলোকে বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
লজ্জাশীলতা বা হায়া হলো একটি প্রশংসনীয় চারিত্রিক গুণ, যা মানুষকে যাবতীয় মন্দ ও অশ্লীল কাজ থেকে বিরত রাখে এবং সৎ ও উত্তম কাজের দিকে পরিচালিত করে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"নিশ্চয়ই মুসলমানগণ পরস্পর ভাই ভাই"— এটি পবিত্র কুরআনের সূরা আল-হুজুরাতের ১০ নম্বর আয়াতের অংশ।
ইসলামের দৃষ্টিতে সকল মুসলমান বংশ, বর্ণ, ভাষা ও ভৌগোলিক সীমারেখার ঊর্ধ্বে উঠে ঈমানের ভিত্তিতে একটি অভিন্ন ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ। একে ইসলামি ভ্রাতৃত্ব বা 'উখুওয়াত' বলা হয়। রক্তীয় সম্পর্কের মতো ঈমানি সম্পর্কও অত্যন্ত দৃঢ়। এই ভ্রাতৃত্ববোধের কারণে এক মুসলমান অন্য মুসলমানের প্রতি সহানুভূতিশীল, ব্যথিতের সমব্যথী এবং পারস্পরিক সাহায্য-সহযোগিতায় এগিয়ে আসতে বাধ্য থাকে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জনাব আনোয়ারুল হকের কর্মকাণ্ডে 'গিবতাহ্' বা প্রশংসনীয় প্রতিযোগিতার মনোভাব প্রকাশ পেয়েছে।
সাধারণত অন্যের উন্নতি বা সম্পদ দেখে ধ্বংস কামনা করাকে হিংসা বা 'হাসাদ' বলা হয়, যা ইসলামে সম্পূর্ণ হারাম। কিন্তু অন্যের কল্যাণকর বা সওয়াবের কাজ দেখে হিংসা না করে নিজে ধ্বংস কামনা ব্যতীত সেরূপ ভালো কাজ করার আকাঙ্ক্ষা করাকে 'গিবতাহ্' (ঈর্ষা বা সুস্থ প্রতিযোগিতা) বলা হয়। ইসলামে সৎ কাজে প্রতিযোগিতা করার নির্দেশ রয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন, "তোমরা সৎকর্মে একে অন্যের সাথে প্রতিযোগিতা করো" (সূরা আল-বাকারা: ১৪৮)।
হাদিস শরিফে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "কেবল দুই ব্যক্তির ক্ষেত্রেই ঈর্ষা (গিবতাহ্) করা যায়— এক ব্যক্তি, যাকে আল্লাহ ধন-সম্পদ দান করেছেন এবং তা সত্য ও ন্যায়ের পথে ব্যয় করার তাওফিক দিয়েছেন; অন্যজন সে, যাকে আল্লাহ হিকমত বা জ্ঞান দান করেছেন এবং সে তদনুসারে ফায়সালা করে ও তা শিক্ষা দেয়।" (সহিহ বুখারি)।
উদ্দীপকে জনাব মঞ্জুরুল হককে এলাকার উন্নয়নে অর্থ ব্যয় করতে দেখে জনাব আনোয়ারুল হক অনুপ্রাণিত হয়ে প্রতিযোগী মনোভাব নিয়ে রাস্তাঘাট নির্মাণ করেছেন। তার এ মনোভাব কাউকে ক্ষতি করার জন্য নয়, বরং ভালো কাজে অংশ নেওয়ার একটি ইতিবাচক প্রয়াস, যা হাদিসের আলোকে অনুমোদিত ও প্রশংসনীয়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জনাব নুরুল হকের মনোভাবটি সততা, বিশ্বস্ততা ও হালাল উপার্জনের প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ, যা হাদিসের শিক্ষার সাথে সম্পূর্ণরূপে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
ইসলামে সততা ও ন্যায়ের সাথে ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা করা অত্যন্ত পুণ্যের কাজ। হাদিস শরিফে রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন: "ফরজ ইবাদতের পর হালাল রুজি অন্বেষণ করা একটি ফরজ ইবাদত" (শুআবুল ঈমান, বায়হাকি)। জনাব নুরুল হক ব্যবসায় ইসলামি পন্থা অবলম্বন করাকে 'ফরজের পরে ফরজ' মনে করে এই হাদিসের শিক্ষারই বাস্তবায়ন করেছেন।
এছাড়া ব্যবসায় ভেজাল মেশানো এবং ওজনে কম দেওয়া ইসলামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। অন্য একটি হাদিসে এসেছে, "যে ব্যক্তি ধোঁকা দেয়, সে আমার উম্মতের অন্তর্ভুক্ত নয়" (সহিহ মুসলিম)। জনাব নুরুল হক চিকন চালের সাথে মোটা চাল মেশান না এবং ওজনে কম দেন না, যার মাধ্যমে তিনি ধোঁকা ও প্রতারণা থেকে মুক্ত থেকেছেন। উপরন্তু, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির সময় তিনি নামমাত্র লাভে চাল বিক্রি করেন, যা ইসলামি ভ্রাতৃত্ব ও পরোপকারের উৎকৃষ্ট দৃষ্টান্ত। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "সত্যবাদী ও বিশ্বস্ত ব্যবসায়ী কিয়ামতের দিন নবী, সিদ্দিক ও শহীদগণের সাথে থাকবে" (সুনান আত-তিরমিযী)।
অতএব, জনাব নুরুল হকের ব্যবসায়িক নীতি ও মনোভাব পুরোপুরি হাদিসের নির্দেশনার বাস্তব প্রতিফলন, যা ইহকালীন কল্যাণ এবং পরকালীন মুক্তির অন্যতম মাধ্যম।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও