গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ২য় পত্র • Combined Board • ঢাকা, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, বরিশাল, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৩
গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
ছক-১: রক্তের চর্বির পরিমাণ বেড়ে যাওয়া; স্বল্প কাজে পরিশ্রান্ত হওয়া।
ছক-২: মাথায় ও ঘাড়ে যন্ত্রণা, দুর্বল অনুভূত হওয়া।
ছক-৩: পরিপাকে সমস্যা, প্রস্রাবের রং পরিবর্তন।
- ক)(1)
পথ্যপরিকল্পনা কাকে বলে?
- খ)(2)
“পথ্য পরিকল্পনা রোগীর সুস্থতায় সহায়ক।”— ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
ছক-১ এ কোন রোগ নির্দেশ করে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
“ছক ২ ও ৩ এ নির্দেশিত রোগে প্রয়োজন ভিন্ন ধরনের পথ্য পরিকল্পনা।”— বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
রোগীর শারীরিক অবস্থা, রোগের লক্ষণ ও পুষ্টির চাহিদা বিবেচনা করে বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে পথ্য বা খাবার নির্বাচনের সুপরিকল্পিত রূপরেখাকে পথ্যপরিকল্পনা বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
রোগ নিরাময়ে ওষুধের পাশাপাশি উপযুক্ত পথ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। রোগভেদে পুষ্টি উপাদানের চাহিদা পরিবর্তিত হয়; যেমন— ডায়াবেটিস রোগীর শর্করা নিয়ন্ত্রণ করতে হয়, আবার জন্ডিস বা যকৃতের রোগে চর্বি নিয়ন্ত্রণ করতে হয়। সঠিক পথ্যপরিকল্পনা রোগীর পুষ্টির অভাব পূরণ করে, ক্ষয়রোধ করে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং জটিলতা কমিয়ে রোগীকে দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠতে সক্রিয়ভাবে সাহায্য করে। তাই পথ্য পরিকল্পনা রোগীর সুস্থতায় সহায়ক।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ছক-১ এ রক্তে চর্বির পরিমাণ বৃদ্ধি ও অল্প পরিশ্রমে ক্লান্ত হয়ে পড়া মূলত হৃদরোগ বা রক্তে অতিরিক্ত কোলেস্টেরল/লিপিডের আধিক্যজনিত শারীরিক সমস্যাকে (যেমন— অ্যাথেরোস্ক্লেরোসিস বা উচ্চ কোলেস্টেরল) নির্দেশ করে।
রক্তে চর্বির (কোলেস্টেরল ও ট্রাইগ্লিসারাইড) মাত্রা বেড়ে গেলে রক্তনালির প্রাচীরে চর্বি জমা হয়ে রক্ত চলাচলে বাধার সৃষ্টি হয়। এর ফলে হৃৎপিণ্ড ও শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে পর্যাপ্ত অক্সিজেন ও পুষ্টি পৌঁছাতে অতিরিক্ত চাপ পড়ে। ফলে ব্যক্তি অল্প কাজেই দ্রুত ক্লান্ত ও পরিশ্রান্ত হয়ে পড়েন। এটি দীর্ঘমেয়াদে করোনারি হৃদরোগ এবং হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বহুলাংশে বাড়িয়ে দেয়। উপযুক্ত পথ্য নিয়ন্ত্রণ ও জীবনযাত্রার পরিবর্তনের মাধ্যমে এ রোগ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ছক-২ এবং ছক-৩ এ বর্ণিত লক্ষণগুলো ভিন্ন ভিন্ন রোগকে নির্দেশ করে, যার কারণে এদের পথ্য পরিকল্পনাও সম্পূর্ণ আলাদা হতে হবে— বক্তব্যটি যথার্থ।
ছক-২ এ উল্লেখিত ‘মাথায় ও ঘাড়ে যন্ত্রণা এবং দুর্বলতা অনুভব করা’ মূলত উচ্চ রক্তচাপের (Hypertension) অন্যতম প্রধান লক্ষণ। অন্যদিকে, ছক-৩ এ ‘পরিপাকে সমস্যা ও প্রস্রাবের রং পরিবর্তন’ জন্ডিস বা যকৃতের (লিভার) রোগকে নির্দেশ করে।
উভয় রোগের চিকিৎসায় পথ্য পরিকল্পনার পার্থক্য নিম্নরূপ:
১. উচ্চ রক্তচাপের (ছক-২) পথ্য পরিকল্পনা:- খাদ্যতালিকায় সোডিয়াম বা লবণের পরিমাণ কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে (পাচারের লবণ বর্জন)।
- চর্বি ও অতিরিক্ত ক্যালরিযুক্ত খাবার পরিহার করে পটাশিয়াম ও ম্যাগনেশিয়াম সমৃদ্ধ ফলমূল ও শাকসবজি বাড়াতে হবে।
- খাদ্যতালিকায় ফাইবার বা আঁশের পরিমাণ বাড়াতে হবে।
২. জন্ডিস বা যকৃত রোগের (ছক-৩) পথ্য পরিকল্পনা:
- জন্ডিস আক্রান্ত রোগীর যকৃতে চর্বি বিপাক ব্যাহত হওয়ায় রান্নায় তেল ও চর্বির ব্যবহার একেবারেই সীমিত বা বন্ধ রাখতে হবে।
- সহজে হজমযোগ্য শর্করা (যেমন— নরম ভাত, গ্লুকোজ, ফলের রস, বার্লি) বেশি করে দিতে হবে।
- যকৃতের ক্ষতি মেরামত করতে সহজে পরিপাকযোগ্য উদ্ভিজ্জ বা লঘুপাক প্রোটিন নিশ্চিত করতে হবে। মসলাযুক্ত ও গুরুপাক খাদ্য সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
অতএব, দেখা যায় যে ছক-২ (উচ্চ রক্তচাপ) ও ছক-৩ (জন্ডিস/যকৃতের রোগ) এর শারীরিক জটিলতা ও ক্ষতিগ্রস্ত অঙ্গ সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাই উভয় রোগের জন্য পুষ্টি উপাদান ও খাদ্যের ধরন বিবেচনায় স্বতন্ত্র ও ভিন্ন পথ্য পরিকল্পনা গ্রহণ করা আবশ্যক।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও