ইসলাম শিক্ষা ২য় পত্র • Combined Board • ঢাকা, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, বরিশাল, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৩

ইসলাম শিক্ষা ২য় পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    الفقه (আল-ফিকহ) বলতে কী বোঝায়?

    (1)
  2. খ)

    ইমাম আবু হানিফা ফিকহশাস্ত্রের পথিকৃৎ- ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    প্রথম চিত্রে শূন্যস্থানে কোন বিষয়টি প্রতিস্থাপিত হবে? ব্যাখ্যা কর ।

    (3)
  4. ঘ)

    শেষ চিত্রে শূন্যস্থানে প্রতিস্থাপিত বিষয়টি চিহ্নিত করে এর গ্রহণযোগ্যতা সম্পর্কে আলেমদের মতামত ব্যক্ত কর ।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'আল-ফিকহ' (الفقه) শব্দের আভিধানিক অর্থ কোনো বিষয়ের অন্তর্নিহিত ভাব জানা, গভীর জ্ঞান বা সূক্ষ্ম উপলব্ধি। পারিভাষিক অর্থে, বিস্তারিত বা সুনির্দিষ্ট দলীল-প্রমাণের ভিত্তিতে শরিয়তের ব্যবহারিক বিধানাবলি জানার জ্ঞানকে ফিকহ বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ইমাম আবু হানিফা (রহ.) ফিকহশাস্ত্রের সংকলন, শ্রেণিবিন্যাস এবং প্রাতিষ্ঠানিক রূপদানে সর্বপ্রথম নিয়মতান্ত্রিক উদ্যোগ গ্রহণ করেন। তিনি তাঁর যোগ্যতম চল্লিশ জন প্রখ্যাত শিষ্যের সমন্বয়ে একটি ফিকহ বোর্ড বা একাডেমি গঠন করেছিলেন। এই বোর্ডে কুরআন, হাদিস, সাহাবিদের আমল ও যুক্তি-তর্কের ভিত্তিতে দীর্ঘ পর্যালোচনার মাধ্যমে মানবজীবনের প্রাত্যহিক বিভিন্ন সমস্যার শরয়ি সমাধান ও বিধানাবলি সুবিন্যস্তভাবে অধ্যায়ভিত্তিক সংকলন করা হয়। তাঁর এই মৌলিক অবদানের কারণেই তাঁকে ফিকহশাস্ত্রের পথিকৃৎ বা রূপকার বলা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    প্রথম চিত্রের (ছকের শীর্ষে অবস্থিত) শূন্যস্থানে 'ইজমা' (الإجماع) বিষয়টি প্রতিস্থাপিত হবে।

    ইসলামী শরিয়তের চারটি প্রধান উৎসের মধ্যে কুরআন ও সুন্নাহর পরেই তৃতীয় স্থান হলো 'ইজমা'। উদ্দীপকে প্রদর্শিত ছকে রুকন হিসেবে 'আজীমাত' ও 'রুখসাত' এবং প্রকারভেদের একটি হিসেবে 'স্পষ্ট ইজমা' (ইজমায়ে সরীহ) উল্লেখ রয়েছে। উসূলে ফিকহের নিয়মানুযায়ী এগুলো ইজমারই উপাদান ও প্রকারভেদ। সুতরাং শীর্ষ শূন্যস্থানে মূল বিষয়বস্তু হিসেবে 'ইজমা' বসবে। ইজমা হলো রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ওফাতের পর কোনো যুগে কোনো শরয়ি বিষয়ে মুসলিম উম্মাহর সকল মুজতাহিদ ফকীহগণের একমত বা ঐক্যমত্য হওয়া।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    শেষ চিত্রের শূন্যস্থানে প্রতিস্থাপিত বিষয়টি হলো 'অস্পষ্ট ইজমা' বা 'মৌন ইজমা' (إجماع سكوتي - ইজমায়ে সুকূতী)। ইজমার প্রকারভেদের মধ্যে প্রথমটি 'স্পষ্ট ইজমা' (ইজমায়ে সরীহ) হলে দ্বিতীয়টি স্বাভাবিকভাবেই 'মৌন ইজমা'।

    গ্রহণযোগ্যতা সম্পর্কে আলেমদের মতামত:
    ১. অধিকাংশ হানাফি ফকীহ: হানাফি মাযহাবের অধিকাংশ ইমামের মতে, মৌন ইজমা একটি গ্রহণযোগ্য প্রমাণ (হুজ্জাত)। কোনো বিষয়ে সমকালীন কোনো মুজতাহিদের মত প্রকাশের পর অন্য মুজতাহিদগণ তা জানার সুযোগ পেয়ে এবং চিন্তা-ভাবনার সময় পেয়েও যদি কোনো আপত্তি না জানিয়ে নীরব থাকেন, তবে তা সম্মতির লক্ষণ হিসেবে শরয়ি দলীল হিসেবে গণ্য হবে।
    ২. ইমাম শাফেয়ী (রহ.) ও শাফেয়ী মাযহাবের মত: ইমাম শাফেয়ী (রহ.)-এর প্রসিদ্ধ মত অনুযায়ী, মৌন ইজমা শরিয়তের চূড়ান্ত ও অকাট্য দলীল বা ইজমা হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ হিসেবে বলা হয়, নীরবতা কেবল সম্মতির কারণে নাও হতে পারে; ভয়, সম্মান, দ্বিধা বা বিরোধিতার অনীহার কারণেও নীরবতা সৃষ্টি হতে পারে।
    ৩. ইমাম মালিক ও ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল (রহ.): হাম্বলি মাযহাবে এটিকে শর্তসাপেক্ষে গ্রহণযোগ্য দলীল বলে গণ্য করা হয়েছে। মালেকি মাযহাবের একাংশ একে প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করলেও একে স্পষ্ট ইজমার সমান মর্যাদা দেননি।

    পরিশেষে, মৌন ইজমা সরাসরি স্পষ্ট ইজমার মতো অকাট্য না হলেও অধিকাংশ উসূলবিদ আলেমের দৃষ্টিতে এটি শরিয়তের অন্যতম শক্তিশালী ও কার্যকর প্রামাণিক ভিত্তি হিসেবে স্বীকৃত।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন