সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র • Combined Board • কুমিল্লা, বরিশাল বোর্ড ২০১৯

সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন

⇒\Rightarrow জন্মঃ ১৮৫৮ খ্রিঃ ফ্রান্স ⇒\Rightarrow বিখ্যাত গ্রন্থঃ “The Suicide”⇒\Rightarrow জনকঃ ক্রিয়াবাদ

  1. ক)

    ‘The Communist Manifesto’ বইটি কার লেখা ?

    (1)
  2. খ)

    সমাজবিজ্ঞান বলতে কী বোঝ ?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে কোন সমাজবিজ্ঞানীর কথা বলা হয়েছে ? তার পরিচয় বর্ণনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উক্ত সমাজবিজ্ঞানীর ‘আত্মহত্যা’ সম্পর্কিত মতবাদটি বিশ্লেষোন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'The Communist Manifesto' বইটি কার্ল মার্ক্স (Karl Marx) ও ফ্রেডরিখ এঙ্গেলস (Friedrich Engels)-এর লেখা।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সমাজবিজ্ঞান হলো এমন একটি সামাজিক বিজ্ঞান যা মানবসমাজ, সামাজিক সম্পর্ক, সামাজিক প্রতিষ্ঠান এবং মানব আচরণের সামগ্রিক ও সুশৃঙ্খল বৈজ্ঞানিক পাঠ নিয়ে আলোচনা করে। সমাজবিজ্ঞানী অগাস্ট কোঁতের মতে, সমাজবিজ্ঞান হলো সামাজিক স্থিতি ও সামাজিক গতির বিজ্ঞান। এটি সমাজের গঠন, প্রক্রিয়া এবং পরিবর্তনকে বিজ্ঞানসম্মতভাবে বিশ্লেষণ করে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে ফরাসি সমাজবিজ্ঞানী এমিল ডুর্খেইম (Émile Durkheim)-এর কথা বলা হয়েছে।

    এমিল ডুর্খেইম ১৮৫৮ সালের ১৫ এপ্রিল ফ্রান্সের লোরেন প্রদেশের এপিনালে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি সমাজবিজ্ঞানকে একটি স্বতন্ত্র ও পূর্ণাঙ্গ বৈজ্ঞানিক মর্যাদা প্রদানে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। তাকে সমাজবিজ্ঞানে 'ক্রিয়াবাদের' (Functionalism) মূল প্রবক্তা হিসেবে গণ্য করা হয়। ডুর্খেইম সামাজিক ঘটনাবলিকে 'সামাজিক ঘটনা' (Social Facts) হিসেবে বিবেচনা করে বস্তুনিষ্ঠ বিশ্লেষণের ওপর জোর দিয়েছিলেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনাবলির মধ্যে রয়েছে 'The Division of Labour in Society' (১৮৯৩), 'The Rules of Sociological Method' (১৮৯৫), 'Suicide' (১৮৯৭) এবং 'The Elementary Forms of the Religious Life' (১৯১২)। ১৯১৭ সালের ১৫ নভেম্বর এই মহান তাত্ত্বিক মৃত্যুবরণ করেন।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত সমাজবিজ্ঞানী এমিল ডুর্খেইমের আত্মহত্যা সম্পর্কিত মতবাদটি সমাজবিজ্ঞানের একটি অন্যতম যুগান্তকারী তত্ত্ব। ডুর্খেইম ১৮৯৭ সালে প্রকাশিত তাঁর বিখ্যাত 'Suicide' গ্রন্থে আত্মহত্যাকে সম্পূর্ণ মনস্তাত্ত্বিক বা ব্যক্তিগত কোনো বিষয় না হিসেবে দেখে বরং এটিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ 'সামাজিক ঘটনা' (Social Fact) হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

    ডুর্খেইমের মতে, ব্যক্তির সাথে সমাজের সংহতি ও সংহতিহীনতার ওপর ভিত্তি করেই আত্মহত্যার হার হ্রাস-বৃদ্ধি পায়। তিনি সমাজ ও ব্যক্তির সম্পর্কের ওপর ভিত্তি করে আত্মহত্যার চারটি ধরন উল্লেখ করেছেন:
    ১. অহংবোধমূলক বা আত্মকেন্দ্রিক আত্মহত্যা (Egoistic Suicide): যখন ব্যক্তি সমাজের সাথে নিবিড় সম্পর্ক বা সামাজিক বন্ধন বিচ্ছিন্ন মনে করে এবং অতিরিক্ত ব্যক্তিকেন্দ্রীক হয়ে পড়ে, তখন এ ধরনের আত্মহত্যা ঘটে।
    ২. পরার্থমূলক আত্মহত্যা (Altruistic Suicide): সমাজে ব্যক্তির সংহতি বা সম্পৃক্ততা যখন মাত্রাতিরিক্ত রূপ ধারণ করে এবং সমাজ বা দলের জন্য ব্যক্তি নিজের জীবন বিসর্জন দেয়, তখন তাকে পরার্থমূলক আত্মহত্যা বলে (যেমন: আত্মঘাতী বোমা হামলা বা জাপানি কামিকাজে পাইলটদের আচরণ)।
    ৩. নৈরাজ্যমূলক বা নিয়মহীনতাজনিত আত্মহত্যা (Anomic Suicide): সমাজে যখন হঠাৎ সংকট বা দ্রুত পরিবর্তনের ফলে সামাজিক রীতিনীতি ও মূল্যবোধ ভেঙে পড়ে (নৈরাজ্য দেখা দেয়), তখন হতাশায় নিমজ্জিত হয়ে মানুষ যে আত্মহত্যা করে তা-ই নিয়মহীনতাজনিত আত্মহত্যা।
    ৪. নিয়তিবাদী আত্মহত্যা (Fatalistic Suicide): সমাজে যখন অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ বা পীড়নমূলক অনুশাসন থাকে, যার ফলে ব্যক্তি নিজেকে সম্পূর্ণ নিরুপায় ও স্বাধীনতাশূন্য মনে করে, তখন এই ধরনের আত্মহত্যা ঘটে (যেমন: ক্রীতদাসদের আত্মহত্যা)।

    সুতরাং, ডুর্খেইম পরিসংখ্যানগত ও সমাজতাত্ত্বিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে প্রমাণ করেছেন যে, আত্মহত্যার নেপথ্যে মূল ভূমিকা পালন করে সমাজের সংহতি এবং নিয়ন্ত্রণ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন