সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র • Combined Board • কুমিল্লা, বরিশাল বোর্ড ২০১৯
সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন
মানব শিশু যখন জন্মগ্রহণ করে তখন অন্যান্য প্রাণী শাবকের সাথে তার মৌলিক পার্থক্য খুব কম থাকে। কিন্তু শিশুটি যত বড় হতে থাকে অন্যান্য প্রাণী থেকে তার মধ্যে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য এবং পার্থক্য ক্রমশ প্রকট হয়ে ওঠে। এ পার্থক্যের মূলে সামাজিক শিক্ষা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সমাজই তাকে সামাজিক করে তোলে। আর তাই এটি জন্ম থেকে শুরু হয়ে বিরামহীনভাবে ব্যক্তির মৃত্যু পর্যন্ত চলে।
- ক)(1)
সমাজবিজ্ঞানের অন্যতম কেন্দ্রীয় প্রত্যয় কোনটি?
- খ)(2)
প্রতিষ্ঠান বলতে কী বোঝ?
- গ)(3)
উদ্দীপকে সমাজবিজ্ঞানের কোন প্রক্রিয়াটির ইঙ্গিত রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
"এটি এমন এক প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে মানবশিশু সমাজের একজন কাঙ্ক্ষিত পূর্ণাঙ্গ সদস্য হিসেবে গড়ে ওঠে"।-বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সমাজবিজ্ঞানের অন্যতম কেন্দ্রীয় প্রত্যয় হলো ‘সমাজ’ (Society)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
প্রতিষ্ঠান বলতে সমাজে মানুষের মৌলিক প্রয়োজন পূরণ ও পারস্পরিক সম্পর্ক পরিচালনার জন্য গড়ে ওঠা বিধিবদ্ধ নিয়ম-কানুন, রীতি-নীতি ও কর্মপদ্ধতিকে বোঝায়। সমাজবিজ্ঞানী ম্যাকাইভার ও পেজের মতে, প্রতিষ্ঠান হলো সামষ্টিক কার্যকলাপের সুপ্রতিষ্ঠিত রূপ বা কার্যপ্রণালী। যেমন—পরিবার, বিবাহ, শিক্ষা ইত্যাদি সামাজিক প্রতিষ্ঠান।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে সমাজবিজ্ঞানের ‘সামাজিকীকরণ’ (Socialization) প্রক্রিয়ার ইঙ্গিত রয়েছে।
সামাজিকীকরণ হলো এমন একটি জীবনব্যাপী শিক্ষণ প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে একজন ব্যক্তি সমাজের সংস্কৃতি, মূল্যবোধ, আদর্শ, নিয়ম-কানুন ও আচরণবিধি আয়ত্ত করে সমাজের একজন কার্যকর সদস্য হিসেবে গড়ে ওঠে।
উদ্দীপকে উল্লেখ করা হয়েছে যে, জন্মের সময় মানবশিশুর সাথে অন্যান্য প্রাণীর মৌলিক পার্থক্য কম থাকলেও সামাজিক শিক্ষার মাধ্যমে সে সমাজের সাথে খাপ খাইয়ে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য অর্জন করে। সমাজই তাকে সামাজিক করে তোলে এবং এ প্রক্রিয়া জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্নভাবে চলে। উদ্দীপকের এই বক্তব্যটি সমাজবিজ্ঞানের সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়ার মূল ধারণাকেই নির্দেশ করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত উক্তিটি সামাজিকীকরণের তাৎপর্যকে যথাযথভাবে তুলে ধরে। সামাজিকীকরণ এমন এক নিরবচ্ছিন্ন প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে মানবশিশু সমাজের কাঙ্ক্ষিত ও পূর্ণাঙ্গ সদস্য হিসেবে রূপান্তরিত হয়।
একটি মানবশিশু জন্মের সময় শুধুমাত্র একটি জৈবিক সত্তা (Biological Being) হিসেবে জন্মগ্রহণ করে। সমাজের বিভিন্ন বাহন যেমন—পরিবার, খেলার সাথি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও গণমাধ্যমের সংস্পর্শে এসে সে ভাষা, আচার-আচরণ, রীতিনীতি, নৈতিক মূল্যবোধ এবং কাঙ্ক্ষিত ভূমিকা পালন করতে শেখে। এ প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই জৈবিক মানবশিশু ধীরে ধীরে একটি সামাজিক সত্তায় (Social Being) পরিণত হয়।
সামাজিকীকরণ ব্যতিরেকে মানুষ সমাজের প্রত্যাশিত আচরণ করতে পারে না এবং সমাজে উপযুক্ত স্থান করে নিতে ব্যর্থ হয়। উদ্দীপকের ভাষায়, সামাজিক শিক্ষার প্রভাবেই ব্যক্তি অন্যান্য প্রাণী থেকে আলাদা ও বিশিষ্ট হয়ে ওঠে। অতএব, সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়াই ব্যক্তিকে সমাজের আদর্শ, দায়িত্বশীল ও পূর্ণাঙ্গ সদস্য হিসেবে গড়ে তোলে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও