সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র • Combined Board • কুমিল্লা, বরিশাল বোর্ড ২০১৯
সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন
- ক)(1)
'দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদ' তত্ত্বটি কোন সমাজবিজ্ঞানীর?
- খ)(2)
সভ্যতা বলতে কী বোঝ?
- গ)(3)
উদ্দীপকের '?' চিহ্নিত স্থানে সমাজজীবনের কোন উপাদানটি প্রযোজ্য হবে? ব্যাখ্যা করো ।
- ঘ)(4)
সমাজজীবনে উক্ত উপাদানটির প্রভাব মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদ' তত্ত্বটি জার্মান সমাজবিজ্ঞানী ও দার্শনিক কার্ল মার্কসের (Karl Marx)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সভ্যতা হলো সংস্কৃতির দৃশ্যমান, বস্তুগত ও প্রযুক্তিগত বিকাশ এবং মানবসমাজের উচ্চতর ও জটিলতর স্তর। সমাজবিজ্ঞানী ম্যাকাইভারের মতে, "আমরা যা ব্যবহার করি তা-ই আমাদের সভ্যতা" (Civilization is what we use)। মানুষের জীবনকে সহজ, উন্নত ও গতিশীল করার জন্য যেসব ভৌত কাঠামো, বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার, প্রযুক্তি ও প্রশাসনিক কলাকৌশল উদ্ভাবিত হয়েছে, সেগুলোর সামগ্রিক রূপই হলো সভ্যতা।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের '?' চিহ্নিত স্থানে সমাজজীবনের 'ভৌগোলিক বা প্রাকৃতিক উপাদান' (Geographical Environment/Element) প্রযোজ্য হবে।
ব্যাখ্যা: সমাজবিজ্ঞানে সমাজজীবনকে প্রভাবিত করার ক্ষেত্রে চারটি মূল উপাদান বিশেষভাবে স্বীকৃত— ১. ভৌগোলিক উপাদান, ২. জৈবিক উপাদান, ৩. সাংস্কৃতিক উপাদান এবং ৪. গোষ্ঠী বা সামাজিক উপাদান। উদ্দীপকে জৈবিক, সাংস্কৃতিক এবং গোষ্ঠী বা সামাজিক উপাদান উল্লেখ করা হয়েছে, কিন্তু সমাজজীবনের ভিত্তিস্বরূপ যে প্রাকৃতিক বা ভৌগোলিক উপাদান রয়েছে তা বাদ রাখা হয়েছে। ভৌগোলিক উপাদান বলতে কোনো অঞ্চলের জলবায়ু, ভূ-প্রকৃতি, মাটি, নদ-নদী, খনিজ সম্পদ ও অবস্থানকে বোঝায়। মানুষের বসবাস, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড, পেশা ও জীবনযাত্রার মান প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এই পরিবেশের ওপর নির্ভরশীল। তাই উদ্দীপকের '?' চিহ্নিত স্থানে ভৌগোলিক উপাদানটি সঠিকভাবে প্রযোজ্য।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সমাজজীবনে উদ্দীপকে নির্দেশিত 'ভৌগোলিক উপাদান'-এর প্রভাব অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী ও গভীর। নিম্নে তা মূল্যায়ন করা হলো:
১. মানুষের বসতি ও জনসংখ্যা বণ্টন: অনুকূল ভৌগোলিক পরিবেশ—যেমন সমতল ভূমি, উর্বর মাটি, পানির প্রাপ্যতা এবং সহনীয় আবহাওয়ায় ঘনবসতি গড়ে ওঠে। অন্যদিকে নদীভাঙন, মরুভূমি বা চরমভাবাপন্ন আবহাওয়ায় জনসংখ্যা খুবই কম থাকে।
২. পেশা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড: ভৌগোলিক পরিবেশ মানুষের জীবিকা নির্ধারণ করে। নদীর তীরবর্তী মানুষ মৎস্যজীবী, উর্বর অঞ্চলের মানুষ কৃষক এবং খনিজসমৃদ্ধ অঞ্চলের মানুষ খনি শ্রমিক বা শিল্প কারখানায় নিয়োজিত হয়। নদীমাতৃক দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অর্থনীতি ও কৃষিকাজ মূলত নদী ও আবহাওয়ার ওপর নির্ভরশীল।
৩. বাসস্থান ও পোশাক-পরিচ্ছদ: জলবায়ুর তারতম্যের ওপর মানুষের পোশাক ও ঘরের ধরন নির্ভর করে। শীতপ্রধান দেশের মানুষ গরম পশমি কাপড় এবং উষ্ণ অঞ্চলের মানুষ সুতি ও ঢিলেঢালা পোশাক পরে। তেমনিভাবে পাহাড়ি এলাকায় কাঠের বা মাচান ঘর এবং সমতলে ইট-কংক্রিটের ঘরবাড়ি নির্মিত হয়।
৪. স্বাস্থ্য, মনস্তত্ত্ব ও সমাজ কাঠামো: জলবায়ু মানুষের কর্মক্ষমতা ও শারীরিক গঠনে প্রভাব ফেলে। অনুকূল নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে মানুষ অধিক পরিশ্রমী হতে পারে। এছাড়া নদীপথ ও ভৌগোলিক অবস্থানের ভিত্তিতেই নগর ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র গড়ে ওঠে।
পরিশেষে বলা যায়, ভৌগোলিক উপাদান একচ্ছত্র একমাত্র উপাদান না হলেও মানুষের সংস্কৃতি, জীবনযাপন ও সমাজবিকাশের অন্যতম প্রধান নিয়ামক হিসেবে কাজ করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও