পরিসংখ্যান ১ম পত্র • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, যশোর, বরিশাল, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৭
পরিসংখ্যান ১ম পত্র প্রশ্ন
জলবায়ু পরিবর্তন বাংলাদেশের জন্য একটি বড় সমস্যা। এ সমস্যা সমাধানের জন্য সরকারি, বেসরকারি, আধা-সরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহ কাজ করছে এবং তথ্য সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ করছে। বাংলাদেশের একজন পরিসংখ্যানবিদ বললেন যে "সংগৃহিত তথ্য যথাযথ হলে সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হতো।" তার সংগ্রহিত তথ্য কিছুটা ত্রুটিযুক্ত।
- ক)(1)
বাংলাদেশের প্রকাশিত পরিসংখ্যান কী?
- খ)(2)
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ভূমিকা ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকের পরিসংখ্যানবিদ কি ধরণের ভুলের কথা বলেছেন?-বর্ণনা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের আলোকে সরকারি, বেসরকারি, আধা- সরকারি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম তুলনা কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বাংলাদেশ সরকার বা বিভিন্ন সরকারি, বেসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা কর্তৃক পরিচালিত জরিপ বা গবেষণার ফলাফল যখন সাধারণ জনগণের ব্যবহার ও অবগতির জন্য পুস্তক, বুলেটিন, রিপোর্ট বা ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়, তখন তাকে বাংলাদেশের প্রকাশিত পরিসংখ্যান বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (BBS) হলো দেশের জাতীয় পরিসংখ্যান বিষয়ক কেন্দ্রীয় সরকারি সংস্থা, যা পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধীনে কাজ করে।
এর প্রধান ভূমিকাগুলো হলো:
১. জাতীয় পর্যায়ে অর্থনৈতিক, সামাজিক, জনমিতিক ও পরিবেশ সংক্রান্ত নির্ভরযোগ্য তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ, প্রক্রিয়াকরণ এবং নিয়মিত প্রকাশ করা।
২. আদমশুমারি, কৃষি শুমারি, অর্থনৈতিক শুমারি পরিচালনা এবং জাতীয় আয়ের হিসাব (জিডিপি, প্রবৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি ইত্যাদি) নিরূপণ করা, যা জাতীয় নীতি নির্ধারণ ও উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়নে দিকনির্দেশক হিসেবে ভূমিকা রাখে। - গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের পরিসংখ্যানবিদ মূলত তথ্য সংগ্রহ প্রক্রিয়ার "পরিসংখ্যানিক ভুল" বা ত্রুটির কথা বলেছেন। পরিসংখ্যানিক ভুল প্রধানত দুই ধরনের হতে পারে:
১. অনমুনাজ ভুল (Non-sampling Error): সমগ্রক থেকে পূর্ণাঙ্গ জরিপ বা নমুনা জরিপ উভয় ক্ষেত্রেই এ ভুল হতে পারে। যেমন- তথ্য সংগ্রাহকের অসতর্কতা বা অদক্ষতা, উত্তরদাতার ভুল বা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রদান, তথ্য লিপিবব্ধকরণে ভুল, প্রশ্নপত্রের ত্রুটি ইত্যাদি। উদ্দীপকে "সংগৃহীত তথ্য যথাযথ হলে... সংগৃহীত তথ্য কিছুটা ত্রুটিযুক্ত" দ্বারা তথ্য সংগ্রহের সময় সৃষ্ট ত্রুটিকে নির্দেশ করা হয়েছে।
২. নমুনাজ ভুল (Sampling Error): সমগ্রকের একটি অংশ বা নমুনা নিয়ে কাজ করার কারণে নমুনার মানের সাথে প্রকৃত সমগ্রকের মানের যে অমিল বা পার্থক্য সৃষ্টি হয়, তাকে নমুনাজ ভুল বলে।
যেহেতু সংগৃহীত তথ্যে ত্রুটির কারণে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ ব্যাহত হচ্ছে, তাই এটি মূলত অনুসন্ধান ও তথ্য সংগ্রহের ধাপসমূহে উদ্ভূত অনমুনাজ ও নমুনাজ ভুলের সমন্বিত রূপ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের আলোকে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা ও এ বিষয়ক তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে সরকারি, বেসরকারি ও আধা-সরকারি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমের তুলনামূলক আলোচনা নিম্নরূপ:
১. সরকারি প্রতিষ্ঠান: সরকারের সংস্থাগুলো (যেমন- BBS, আবহাওয়া অধিদপ্তর, পরিবেশ অধিদপ্তর ইত্যাদি) জাতীয় পর্যায়ে ব্যাপক পরিসরে নীতিনির্ধারণী উদ্দেশ্যে তথ্য সংগ্রহ করে। এদের কাজের আওতা বৃহৎ, তথ্য সংগ্রহের ভিত্তি সুনির্দিষ্ট বিধিমালা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত এবং প্রাপ্ত তথ্যের প্রাতিষ্ঠানিক গ্রহণযোগ্যতা সবচেয়ে বেশি। তবে আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে তথ্য সংগ্রহ ও প্রকাশে সময় বেশি লাগতে পারে।
২. বেসরকারি প্রতিষ্ঠান: বিভিন্ন এনজিও এবং আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা তৃণমূল পর্যায়ে ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর কাছ থেকে দ্রুত ও সুনির্দিষ্ট বিষয়ের ওপর তথ্য সংগ্রহ করে। এদের কাজের গতি বেশি এবং লক্ষ্য নির্দিষ্ট হলেও এদের অনুসন্ধানের আওতা তুলনামূলকভাবে সীমিত থাকে।
৩. আধা-সরকারি প্রতিষ্ঠান: স্বায়ত্তশাসিত বা আধা-সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো (যেমন- বিভিন্ন গবেষণা ইনস্টিটিউট বা বিশ্ববিদ্যালয়) বিশেষায়িত গবেষণার মাধ্যমে জলবায়ুর প্রভাব বিশ্লেষণ করে। এরা সরকারি কাঠামোর ভেতর থেকেই স্বাধীনভাবে বৈজ্ঞানিক তথ্য বিশ্লেষণ প্রদান করে।
তুলনা ও সিদ্ধান্ত: সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো সার্বিক নীতি বাস্তবায়নের ভিত্তি প্রদান করে, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো স্থানীয় পর্যায়ে দ্রুত সহায়তা ও বাস্তব চিত্র তুলে ধরে এবং আধা-সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো গভীর গবেষণাধর্মী ফলাফল সরবরাহ করে। জলবায়ু পরিবর্তনের মতো জাতীয় সংকট নিরসনে এই তিন ধরণের প্রতিষ্ঠানের সংগৃহীত তথ্যের যথাযথ সমন্বয় সাধন অত্যন্ত জরুরি।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও