গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ২য় পত্র • নারায়নগঞ্জ কলেজ • নারায়নগঞ্জ কলেজ টেস্ট পরীক্ষা ২০২৬

গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

ডাক্তার মিথিলা সাপ্তাহিক ছুটির দিনে তার নিজ গ্রামে চিকিৎসাসেবা প্রদান করেন। তিনি প্রথম যে রোগী দেখেন তার পায়ের হাড় ধনুকের মতো বাঁকা, দ্বিতীয় যে রোগী দেখেন তার গলার সামনের অংশ কিছুটা ফোলা এবং তৃতীয় যে রোগী দেখেন সে রাতে ভালোভাবে দেখতে পায় না।

  1. ক)

    খাদ্য কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    জীবদেহে প্রোটিনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বুঝিয়ে লেখো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের প্রথম রোগী যে রোগে আক্রান্ত তার কারণ ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত ২য় ও ৩য় রোগীর রোগের প্রতিকার ও প্রতিরোধে করণীয় বিষয়গুলো বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যা জীবদেহের বৃদ্ধি, শক্তি উৎপাদন, রোগ প্রতিরোধ এবং ক্ষয়পূরণ করে সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনধারণে সাহায্য করে, তাকে খাদ্য বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    জীবদেহের গঠন ও কার্যকারিতা সচল রাখার জন্য প্রোটিনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রোটিন মানবদেহের কোষ ও কলার প্রধান উপাদান যা দেহের ক্ষয়পূরণ ও কোষ বৃদ্ধিতে সরাসরি কাজ করে। এছাড়া উৎসেচক, হরমোন ও অ্যান্টিবডি তৈরিতে প্রোটিন অংশ নেয় এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করে জীবনীশক্তি বজায় রাখে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের প্রথম রোগীর পায়ের হাড় ধনুকের মতো বাঁকা, যা মূলত শিশুদের 'রিকেটস' (Rickets) রোগের লক্ষণ।

    রিকেটস রোগটি মূলত শরীরে ভিটামিন 'ডি' এবং ক্যালসিয়াম ও ফসফরাসের অভাবে হয়ে থাকে। দেহে পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস থাকলেও ভিটামিন ডি-এর অভাবে তা সঠিকভাবে রক্তে শোষিত ও হাড়ে জমা হতে পারে না। ফলে হাড় নরম ও দুর্বল হয়ে যায় এবং শরীরের ভার বহন করতে গিয়ে পায়ের হাড় ধনুকের মতো বেঁকে যায়। এছাড়াও সূর্যালোকের স্বল্পতা ও সুষম পুষ্টিকর খাদ্যের অভাবে এ রোগ দেখা দেয়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত দ্বিতীয় রোগীটি 'গলগণ্ড' বা গয়টার (Goitre) এবং তৃতীয় রোগীটি 'রাতকানা' (Night Blindness) রোগে আক্রান্ত। নিম্নে এদের প্রতিকার ও প্রতিরোধে করণীয় বিষয়গুলো বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. দ্বিতীয় রোগীর (গলগণ্ড) ক্ষেত্রে করণীয়:

    • কারণ: এ রোগ আয়োডিনের অভাবে হয়।
    • প্রতিকার ও প্রতিরোধ: রান্নায় নিয়মিত আয়োডিনযুক্ত লবণ ব্যবহার করতে হবে। সামুদ্রিক মাছ, শ্যাওলা ও সামুদ্রিক খাবারে প্রচুর আয়োডিন থাকে, তাই এগুলো নিয়মিত খেতে হবে। প্রাথমিক অবস্থায় চিকিৎসা নিলে থাইরয়েড গ্রন্থির ফোলা কমে যায়, তবে জটিল আকার ধারণ করলে চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ বা অস্ত্রোপচার প্রয়োজন হয়।

    ২. তৃতীয় রোগীর (রাতকানা) ক্ষেত্রে করণীয়:

    • কারণ: এ রোগ ভিটামিন 'এ'-এর অভাবে হয়ে থাকে।
    • প্রতিকার ও প্রতিরোধ: ভিটামিন 'এ' সমৃদ্ধ খাবার যেমন—ছোট মাছ (মলা, ঢেলা), গাজর, পাকা আম, পাকা পেঁপে, মিষ্টি কুমড়া, পালংশাক ও অন্যান্য রঙিন শাকসবজি পর্যাপ্ত পরিমাণে গ্রহণ করতে হবে। এছাড়া শিশুদের নিয়মিত ভিটামিন 'এ' ক্যাপসুল খাওয়ানো নিশ্চিত করতে হবে।

    সুতরাং, পুষ্টিসমৃদ্ধ সুষম খাদ্য গ্রহণ এবং সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে ২য় ও ৩য় রোগীর রোগ প্রতিকার ও প্রতিরোধ করা সম্ভব।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন