গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ২য় পত্র • নারায়নগঞ্জ কলেজ • নারায়নগঞ্জ কলেজ টেস্ট পরীক্ষা ২০২৬
গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
হালিমার বাগানে অনেক আম হয়েছে। পরিবারের সকল সদস্যদের চাহিদা মিটিয়ে পাড়াপড়শি, আত্মীয়স্বজনকে বিলিয়েও প্রচুর আম রয়ে গেছে। হালিমার মা হালিমাকে আমগুলো সংরক্ষণ করতে বললেন। হালিমা বুদ্ধি করে বিভিন্নভাবে আমগুলো সংরক্ষণ করল। যেমন- আচার, আমসত্ত্ব, জুস ও গোটা আমগুলো ধুয়ে ডিপ ফ্রিজে রেখে দিল। এভাবে হালিমা অনেক আম সংরক্ষণ করে রাখে।
- ক)(1)
খাদ্য সংরক্ষণ বলতে কী বোঝ?
- খ)(2)
খাদ্য নষ্ট হওয়ার কারণগুলো কী কী?
- গ)(3)
হালিমার খাদ্য সংরক্ষণের উদ্দেশ্যগুলো ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
খাদ্য সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা আছে কি? তোমার মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ভবিষ্যতে ব্যবহারের জন্য খাদ্যদ্রব্যকে ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক, এনজাইম ইত্যাদির ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করে উপযুক্ত পদ্ধতিতে গুণাগুণ অক্ষুণ্ণ রেখে জমা রাখাকে খাদ্য সংরক্ষণ বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
খাদ্য নষ্ট হওয়ার প্রধান কারণগুলো হলো:
১. জীবাণুর সংক্রমণ: ব্যাকটেরিয়া, ঈস্ট ও মোল্ড বা ছত্রাকের মতো অণুজীবের বৃদ্ধি ও ক্ষতিকর রাসায়নিক নিঃসরণ।
২. খাদ্যের নিজস্ব এনজাইম বা উৎসেচকের ক্রিয়া: খাদ্য অতিরিক্ত পেকে যাওয়া বা পচে যাওয়া।
৩. পরিবেশের প্রভাব: আর্দ্রতা, বাতাসের অক্সিজেন, অতিরিক্ত উত্তাপ বা আলোর উপস্থিতি।
৪. কীট-পতঙ্গ, ইঁদুর ও পোকামাকড়ের আক্রমণ। - গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে হালিমা তার বাগানের অতিরিক্ত আম নষ্ট হওয়ার হাত থেকে বাঁচাতে আচার, আমসত্ত্ব, জুস ও ডিপ ফ্রিজে সংরক্ষণের উদ্যোগ নেয়। হালিমার এ খাদ্য সংরক্ষণের প্রধান উদ্দেশ্যগুলো নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:
১. খাদ্যের অপচয় রোধ: মৌসুমে প্রচুর ফল উৎপাদিত হলে তা ব্যবহারের অভাবে পচে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। সংরক্ষণের মাধ্যমে অপচয় রোধ করা যায়।
২. অমৌসুমে প্রাপ্যতা নিশ্চিতকরণ: আম একটি মৌসুমি ফল। সংরক্ষণের ফলে সারা বছর ধরে আমের পুষ্টি ও স্বাদ গ্রহণ করা সম্ভব হয়।
৩. স্বাদ ও বৈচিত্র্য আনয়ন: আম দিয়ে আচার, আমসত্ত্ব বা জুস তৈরি করে খাদ্য তালিকায় বৈচিত্র্য ও নতুন স্বাদ আনা যায়।
৪. পুষ্টিগুণ ধরে রাখা: উপযুক্ত উপায়ে সংরক্ষণ করায় দীর্ঘদিন পর্যন্ত আমের প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজ উপাদান অক্ষুণ্ণ রাখা সম্ভব হয়। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হ্যাঁ, পারিবারিক ও জাতীয় উভয় প্রেক্ষাপটেই খাদ্য সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। নিচে এ বিষয়ে আমার মতামত তুলে ধরা হলো:
১. সারা বছর খাদ্যের জোগান: খাদ্যদ্রব্য সাধারণত নির্দিষ্ট ঋতুতে উৎপন্ন হয়। সংরক্ষণের মাধ্যমে মৌসুমি খাদ্যদ্রব্য (যেমন- আম, টমেটো, মাছ) সারা বছর সহজলভ্য থাকে।
২. পুষ্টির ঘাটতি পূরণ: খাদ্য সংরক্ষণের ফলে অমৌসুমেও প্রয়োজনীয় পুষ্টির সরবরাহ অব্যাহত রাখা সম্ভব হয়, যা অপুষ্টি রোধে সাহায্য করে।
৩. খাদ্যের অপচয় হ্রাস ও অর্থনৈতিক সাশ্রয়: অতিরিক্ত উৎপাদনের সময় পচনশীল খাদ্য সংরক্ষণ করলে তা নষ্ট হয় না, ফলে পরিবারের এবং দেশের আর্থিক সাশ্রয় হয়।
৪. জরুরি অবস্থা মোকাবেলা: বন্যা, খরা বা যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় সংরক্ষিত খাদ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
৫. বাণিজ্যিক ও কর্মসংস্থানের সুযোগ: আচার, জ্যাম, জুস ইত্যাদির মতো সংরক্ষিত খাদ্য বিক্রয় করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি কুটির শিল্প গড়ে তোলা এবং পারিবারিক আয় বৃদ্ধি করা যায়।অতএব, উদ্বৃত্ত খাদ্যের সঠিক ব্যবহার, পুষ্টি নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক সুবিধার জন্য খাদ্য সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও