সমাজকর্ম ১ম পত্র • সমাজকর্মের মূল্যবোধ ও নীতিমালা • Combined Board • ঢাকা, কুমিল্লা, বরিশাল, সিলেট, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৫
সমাজকর্ম ১ম পত্র প্রশ্ন
- ক)(1)
মূল্যবোধ কী?
- খ)(2)
পেশা ও বৃত্তির মধ্যে দুটি পার্থক্য লেখো।
- গ)(3)
উদ্দীপক কাঠামোতে '?' চিহ্নিত স্থান সমাজকর্মের কোন দিককে নির্দেশ করেছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
সমাজকর্ম পেশার ক্ষেত্রে-উদ্দীপকে উল্লিখিত দিকগুলোর গুরুত্ব ব্যাখ্যা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী বিশ্বাস, আদর্শ ও মানদণ্ড, যা সমাজ বা ব্যক্তির ভালো-মন্দ, ন্যায়-অন্যায় নির্ধারণে সহায়তা করে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পেশা ও বৃত্তির মধ্যে দুটি পার্থক্য নিচে দেওয়া হলো:
১. পেশার জন্য নির্দিষ্ট তাত্ত্বিক জ্ঞান, উচ্চতর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের প্রয়োজন হয়; কিন্তু বৃত্তির জন্য এমন বিশেষায়িত প্রাতিষ্ঠানিক উচ্চশিক্ষা বা প্রশিক্ষণের আবশ্যকতা থাকে না।
২. সকল পেশাই বৃত্তি, কিন্তু সকল বৃত্তি পেশা নয়। কারণ বৃত্তি কেবল জীবিকা অর্জনের উপায়, অন্যদিকে পেশা হলো জনকল্যাণমূলক ও সুনির্দিষ্ট নীতিমালা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত জীবিকা অর্জনের উপায়। - গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপক কাঠামোতে '?' চিহ্নিত স্থানটি সমাজকর্মের 'মূল্যবোধ' (বা পেশাগত মূল্যবোধ)-কে নির্দেশ করেছে।
সমাজকর্ম একটি সাহায্যকারী ও বৈজ্ঞানিক পেশা, যা কিছু সুনির্দিষ্ট মানবিক ও পেশাগত মূল্যবোধের ওপর প্রতিষ্ঠিত। উদ্দীপকে প্রদর্শিত উপাদানগুলো হলো—ব্যক্তির মূল্য ও মর্যাদার স্বীকৃতি, আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার, গোপনীয়তা এবং ব্যক্তি স্বাধীনতা। এগুলোর প্রতিটিই সমাজকর্মের অন্যতম মৌলিক মূল্যবোধ হিসেবে স্বীকৃত।
সমাজকর্মে সেবাগ্রহীতাকে কেবল সমস্যার শিকার হিসেবে না দেখে একজন মর্যাদাশীল মানুষ হিসেবে দেখা হয় এবং তার সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকার ও তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষা করা হয়। তাই এই সার্বিক উপাদানগুলো একত্রিত হয়ে সমাজকর্মের মূল্যবোধকেই নির্দেশ করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সমাজকর্ম পেশার ক্ষেত্রে উদ্দীপকে উল্লিখিত মূল্যবোধগুলোর গুরুত্ব অপরিসীম।
উদ্দীপকে উল্লেখিত দিকগুলো হলো—ব্যক্তির মূল্য ও মর্যাদার স্বীকৃতি, আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার, গোপনীয়তা এবং ব্যক্তি স্বাধীনতা। এগুলো সমাজকর্মের পেশাগত অনুশীলনে নিচের কারণে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ:
১. ব্যক্তির মূল্য ও মর্যাদার স্বীকৃতি: প্রতিটি মানুষ সমাজে অনন্য ও মর্যাদাপূর্ণ। সমাজকর্মী সেবাগ্রহীতাকে কোনো প্রকার বৈষম্য না করে পূর্ণ শ্রদ্ধা ও মর্যাদা দিয়ে তার সমস্যা সমাধানে উৎসাহিত করেন।
২. আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার: সমাজকর্ম সাহায্যার্থীকে পরনির্ভরশীল না করে স্বাবলম্বী করতে চায়। তাই সমস্যা সমাধানের উপায় নির্ধারণে সাহায্যার্থীর নিজস্ব মতামত ও সিদ্ধান্তের অধিকারকে প্রাধান্য দেওয়া হয়।
৩. গোপনীয়তা রক্ষা: সফল সমাজকর্মের পূর্বশর্ত হলো সাহায্যার্থীর সাথে বিশ্বাসযোগ্য সম্পর্ক (র্যাপো) স্থাপন। সেবাগ্রহীতার তথ্য ও সমস্যা গোপন রাখা পেশাগত দায়িত্ব, যা সেবাদান প্রক্রিয়াকে ফলপ্রসূ করে।
৪. ব্যক্তি স্বাধীনতা: প্রতিটি ব্যক্তির চিন্তা ও মতামতের স্বাধীনতা প্রদান করলে সে সমস্যা সমাধানে সক্রিয় অংশীদার হতে পারে।সুতরাং, এই মানবিক ও পেশাগত মূল্যবোধগুলো চর্চার মাধ্যমেই সমাজকর্ম একটি উন্নত ও আধুনিক পেশা হিসেবে সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তনে ভূমিকা পালন করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও