সমাজকর্ম ১ম পত্র • সমাজকর্ম সম্পর্কিত প্রত্যয়সমূহ • Combined Board • ঢাকা, কুমিল্লা, বরিশাল, সিলেট, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৫
সমাজকর্ম ১ম পত্র প্রশ্ন
'ম' একটি মুসলিম দেশ। এদেশের সরকার নিজস্ব আয়, জনগণের-দান, সদকা থেকে একটি রাষ্ট্রীয় কোষাগার গঠন করে। বিনাসুদে দরিদ্রদের ঋণ দান এবং দরিদ্র জনগণের কল্যাণ ও সামাজিক নিরাপত্তায় এর ভূমিকা অতুলনীয়। এ ব্যবস্থাটি খোলাফায়ে রাশেদীনের সময়েও ইসলামি রাষ্ট্রকে বিশ্বের প্রথম কল্যাণ রাষ্ট্রে পরিণত করেছিল।
- ক)(1)
দানশীলতার ইংরেজি রূপ কী?
- খ)(2)
সনাতন সমাজকল্যাণের একটি সীমাবদ্ধতা ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের রাষ্ট্রীয় কোষাগার কোন ঐতিহ্যগত সমাজকল্যাণ প্রতিষ্ঠান? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
ইসলামি রাষ্ট্রে এর গুরুত্ব আলোচনা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দানশীলতার ইংরেজি রূপ হলো Charity (বা Philanthropy)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সনাতন সমাজকল্যাণের অন্যতম প্রধান সীমাবদ্ধতা হলো এটি সমস্যার মূল কারণ উদ্ঘাটন ও স্থায়ী সমাধান না করে সাময়িক বা তাৎক্ষণিক ত্রাণ প্রদানে বিশ্বাসী। এছাড়া এটি কোনো বিজ্ঞানসম্মত জ্ঞান, সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি বা পেশাদার কৌশলের ওপর প্রতিষ্ঠিত নয়, বরং কেবল ধর্মীয় অনুভূতি ও ব্যক্তিগত দয়া-দাক্ষিণ্যের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় সমস্যার পুনরাবৃত্তি রোধ করতে পারে না।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত রাষ্ট্রীয় কোষাগারটি ঐতিহ্যগত সমাজকল্যাণ প্রতিষ্ঠান 'বাইতুলমাল'-কে নির্দেশ করে।
ইসলামি শাসনব্যবস্থায় বাইতুলমাল হলো রাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় কোষাগার বা অর্থ তহবিল, যা জনগণের কল্যাণ ও সামাজিক নিরাপত্তার উদ্দেশ্যে পরিচালিত হতো। এর মূল উৎস ছিল যাকাত, সদকা, উশর, জিযিয়া, খারাজ এবং যুদ্ধলব্ধ সম্পদ ইত্যাদি।
উদ্দীপকের 'ম' দেশের সরকার নিজস্ব আয়, জনগণের দান-সদকা নিয়ে একটি রাষ্ট্রীয় কোষাগার গঠন করেছে যা দরিদ্রদের সুদমুক্ত ঋণ দেয় এবং তাদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। খোলাফায়ে রাশেদীনের আমলে প্রবর্তিত এই রাষ্ট্রীয় কোষাগারই হলো বাইতুলমাল, যা সমাজকল্যাণের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী প্রাতিষ্ঠানিক রূপ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ইসলামি রাষ্ট্রে বাইতুলমালের গুরুত্ব অপরিসীম। এটি কেবল একটি আর্থিক তহবিল নয়, বরং একটি আদর্শ কল্যাণ রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ভিত্তি ও সামাজিক নিরাপত্তার মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে।
প্রথমত, বাইতুলমাল রাষ্ট্রের পিছিয়ে পড়া, অসহায়, এতিম, বিধবা ও প্রতিবন্ধীদের জন্য নিয়মিত ভাতা ও আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা করে দারিদ্র্য বিমোচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। দ্বিতীয়ত, এটি সম্পদ বণ্টনের বৈষম্য হ্রাস করে ধনী-দরিদ্রের ব্যবধান কমায়। উদ্দীপকে যেমনটি বলা হয়েছে, বাইতুলমাল থেকে দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে বিনাসুদে ঋণ প্রদান করা হতো, যা তাদের স্বাবলম্বী হতে সাহায্য করত। এছাড়া প্রাকৃতিক দুর্যোগ, মহামারি বা দুর্ভিক্ষে এটি তাৎক্ষণিক ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করত।
খোলাফায়ে রাশেদীনের আমলে, বিশেষ করে হযরত ওমর (রা.)-এর খেলাফতকালে, বাইতুলমালের সুষম ব্যবস্থাপনার মাধ্যমেই ইসলামি রাষ্ট্র বিশ্বের প্রথম কল্যাণ রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছিল। এমনকি সেই যুগে যাকাত নেওয়ার মতো দরিদ্র মানুষ খুঁজে পাওয়া যেত না। পরিশেষে বলা যায়, অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং সামাজিক নিরাপত্তা বিধানে ইসলামি রাষ্ট্রে বাইতুলমালের গুরুত্ব অনস্বীকার্য।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও