সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র • Combined Board • ঢাকা, কুমিল্লা, বরিশাল, সিলেট, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৫
সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন
মেহেরাবের বাবা প্রতিদিন মসজিদে যাওয়ার সময় মেহেরাবকে নিয়ে যায়। মেহেরাবও তার বাবার সাথে মসজিদে নামাজ আদায় করে। বড়দের সালাম দিতে শেখে। এভাবে মেহেরাব বড় হয়ে একজন আদর্শ মানুষ হয়ে গড়ে ওঠে।
- ক)(1)
সামাজিক পরিবর্তনের চক্রাকার তত্ত্বটি কার?
- খ)(2)
দাসরা ছিল মনিবের সম্পত্তি- বুঝিয়ে লেখো।
- গ)(3)
মেহেরাবের সামাজিকীকরণে কোন বাহনটি ভূমিকা রেখেছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
সামাজিকীকরণের ক্ষেত্রে উক্ত বাহনটির ভূমিকা ছাড়াও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বাহনের ভূমিকা রয়েছে- বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সামাজিক পরিবর্তনের চক্রাকার তত্ত্বটি প্রদান করেছেন সমাজবিজ্ঞানী আর্নল্ড টয়েনবি, ওসওয়াল্ড স্পেংলার ও ভিলফ্রেডো প্যারেটো প্রমুখ (মূল প্রবক্তাদের মধ্যে ওসওয়াল্ড স্পেংলার ও ভিলফ্রেডো প্যারেটো বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"দাসরা ছিল মনিবের সম্পত্তি" বলতে বোঝায় যে, প্রাচীন দাসপ্রথায় দাসদের কোনো নিজস্ব স্বাধীনতা বা মানবিক অধিকার ছিল না, বরং তাদের মনিবের অস্থাবর সম্পত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হতো।
দাস ব্যবস্থার আইন অনুযায়ী, মনিব যেভাবে তার গৃহপালিত পশু বা অন্যান্য জিনিসপত্র কেনাবেচা করতে পারত, ঠিক তেমনি দাসদেরও বাজারে ক্রয়-বিক্রয়, বন্ধক বা হস্তান্তর করতে পারত। মনিব দাসের জীবনের মালিক ছিল এবং শ্রম আদায়ে যে কোনো ধরনের শাস্তি দেওয়ার নিরঙ্কুশ ক্ষমতা রাখত। দাসদের কোনো রাজনৈতিক, সামাজিক বা ব্যক্তিস্বাধিকার ছিল না। ফলে দাসরা ছিল সম্পূর্ণরূপে মনিবের আইনি সম্পত্তি।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মেহেরাবের সামাজিকীকরণে 'ধর্ম' বা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান (মসজিদ) এবং সেই সাথে 'পরিবার' প্রধান ভূমিকা রেখেছে, তবে নির্দিষ্ট বাহন হিসেবে 'ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান' (বা ধর্ম) বিশেষভাবে উদ্দীপকে ফুটে উঠেছে।
সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়ায় যে উপাদান বা বাহন ব্যক্তির আচার-ব্যবহার, মূল্যবোধ ও নৈতিকতা গঠন করে, তার মধ্যে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও পরিবার অন্যতম। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালনের মধ্য দিয়ে ব্যক্তি পারস্পরিক সৌহার্দ্য, শৃঙ্খলা, শ্রদ্ধা এবং ন্যায়-অন্যায় বোধ অর্জন করে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, মেহেরাবের বাবা তাকে প্রতিদিন মসজিদে নিয়ে যান। সেখানে সে নামাজ আদায় করে এবং বড়দের সালাম দিতে ও সম্মান করতে শেখে। মসজিদ তথা ধর্মীয় আচার-অনুশীলনের মাধ্যমে তার মধ্যে নৈতিকতাবোধ ও আদর্শ নাগরিকের গুণাবলি বিকশিত হয়েছে। অতএব, মেহেরাবের সামাজিকীকরণে 'ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান' (মসজিদ) এবং পারিবারিক অনুশাসন মুখ্য বাহন হিসেবে ভূমিকা পালন করেছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে মেহেরাবের সামাজিকীকরণে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা দেখানো হলেও শিশুর পূর্ণাঙ্গ সামাজিকীকরণের ক্ষেত্রে উক্ত বাহন ছাড়াও অন্যান্য সামাজিকীকরণ বাহনের ভূমিকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ—উক্তিটি সম্পূর্ণ যথার্থ।
একটি শিশুর আদর্শ ও পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার পেছনে বহুমুখী বাহন কাজ করে। নিচে প্রধান বাহনসমূহ আলোচনা করা হলো:
১. পরিবার: সামাজিকীকরণের প্রথম ও প্রধানতম বাহন হলো পরিবার। পরিবারের স্নেহ-ভালোবাসা, শাসন এবং অভিভাবকদের আচরণের মধ্য দিয়েই শিশুর ভাষা শিক্ষা, শিষ্টাচার ও প্রাথমিক মানসিক বিকাশ ঘটে। উদ্দীপকেও বাবার ইতিবাচক ভূমিকাই মেহেরাবকে মসজিদে যাওয়ার অনুপ্রেরণা দিয়েছে।
২. খেলার সাথী ও সমবয়সী দল (Peer Group): সমবয়সীদের সাথে মেলামেশার মাধ্যমে শিশু নেতৃত্ব, সহমর্মিতা, সহযোগিতা, সহনশীলতা এবং পারস্পরিক আদান-প্রদানের মানসিকতা অর্জন করে।
৩. শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান: বিদ্যালয় ও প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা শিশুর মধ্যে নিয়মানুবর্তিতা, জ্ঞানার্জন, সামাজিক সচেতনতা এবং বৃহত্তর সমাজের উপযোগী মূল্যবোধ গড়ে তোলে।
৪. গণমাধ্যম: সংবাদপত্র, টেলিভিশন, ইন্টারনেট ও তথ্যপ্রযুক্তি বর্তমান যুগে শিশুর সামাজিকীকরণে বিরাট ভূমিকা রাখছে। এর মাধ্যমে শিশু দেশ-বিদেশের সংস্কৃতি ও তথ্যের সাথে পরিচিত হয়।
৫. সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিবেশ: ক্লাব, পাড়া-প্রতিবেশী এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন ব্যক্তির সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রসারিত করতে ভূমিকা রাখে।
সুতরাং বলা যায়, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান মেহেরাবের মধ্যে নৈতিকতা ও শৃঙ্খলাবোধ তৈরিতে সহায়তা করলেও ব্যক্তিকে সমাজে পরিপূর্ণভাবে অভিযোজিত হতে পরিবার, সমবয়সী দল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও গণমাধ্যমের মতো অন্যান্য বাহনের সমন্বিত প্রভাব অপরিহার্য।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও