মনোবিজ্ঞান ২য় পত্র • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৭

মনোবিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

রিফাত ও সিফাত দুইজন দুই প্রকৃতির। রিফাত অনেকটা আত্মকেন্দ্রিক ও রক্ষণশীল। সে সহজে অন্যের সাথে মিশতে পারে না। সিফাত খুবই সক্রিয় ও স্বাধীনচেতা। সে সকল কাজেই অংশ নিতে চায়। অন্যের প্রয়োজনে সে ঝুঁকি নিতেও প্রস্তুত।

  1. ক)

    ব্যক্তিত্বের সংজ্ঞা দাও।

    (1)
  2. খ)

    ব্যক্তিত্বের সংলক্ষণ বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    প্রক্ষেপণমূলক ও অপ্রক্ষেপণমূলক ব্যক্তিত্ব অভীক্ষার মধ্যে তিনটি পার্থক্য লেখ।

    (3)
  4. ঘ)

    রিফাত ও সিফাতের আচরণগত পার্থক্যের মনোবৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ব্যক্তিত্ব হলো ব্যক্তির শারীরিক, মানসিক, আবেগীয় ও আচরণগত বৈশিষ্ট্যের এক গতিশীল ও সমন্বিত রূপ, যা পরিবেশের সাথে তার অনন্য অভিযোজন নির্ধারণ করে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ব্যক্তিত্বের সংলক্ষণ (Personality Trait) বলতে ব্যক্তির এমন সব তুলনামূলকভাবে স্থায়ী ও স্থিতিশীল আচরণগত বৈশিষ্ট্যকে বোঝায়, যা বিভিন্ন পরিস্থিতিতে তার চিন্তাভাবনা ও প্রতিক্রিয়ার ধারাবাহিকতা বজায় রাখে। যেমন—সততা, ধৈর্য, আত্মবিশ্বাস ইত্যাদি হলো সংলক্ষণের উদাহরণ।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    প্রক্ষেপণমূলক (Projective) ও অপ্রক্ষেপণমূলক (Non-projective) ব্যক্তিত্ব অভীক্ষার মধ্যে তিনটি প্রধান পার্থক্য নিচে দেওয়া হলো:
    ১. উদ্দীপকের প্রকৃতি: প্রক্ষেপণমূলক অভীক্ষায় অস্পষ্ট, দ্ব্যর্থবোধক বা অসংগঠিত উদ্দীপক ব্যবহার করা হয় (যেমন: কালির ছাপ); অন্যদিকে অপ্রক্ষেপণমূলক অভীক্ষায় সুস্পষ্ট, সুনির্দিষ্ট ও কাঠামোগত প্রশ্নমালা ব্যবহৃত হয়।
    ২. অবচেতন মনের পরিমাপ: প্রক্ষেপণমূলক অভীক্ষা ব্যক্তির অবচেতন মনের আবেগ, দ্বন্দ্ব ও অনুভূতি উদ্ঘাটনে কার্যকর; পক্ষান্তরে অপ্রক্ষেপণমূলক অভীক্ষায় সচেতন মনের বৈশিষ্ট্য ও তথ্য পরিমাপ করা হয়।
    ৩. নির্ভরযোগ্যতা ও বস্তুনিষ্ঠতা: প্রক্ষেপণমূলক অভীক্ষার ফলাফল মূল্যায়ন বহুলাংশে পরীক্ষকের দক্ষতার ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় এতে ব্যক্তিনিষ্ঠতা দেখা দিতে পারে; কিন্তু অপ্রক্ষেপণমূলক অভীক্ষার স্কোরিং সুনির্দিষ্ট হওয়ায় এটি অধিকতর বস্তুনিষ্ঠ ও নির্ভরযোগ্য।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে রিফাত ও সিফাতের আচরণগত পার্থক্যকে মনোবিজ্ঞানী কার্ল ইয়ুং (Carl Jung)-এর ব্যক্তিত্বের শ্রেণিবিভাগ তত্ত্বের আলোকে বিশ্লেষণ করা যায়। ইয়ুং ব্যক্তিত্বকে মূলত দুটি ধরনে ভাগ করেছেন—অন্তর্মুখী (Introvert) এবং বহির্মুখী (Extrovert)।

    ১. রিফাত—অন্তর্মুখী ব্যক্তিত্ব: রিফাত আত্মকেন্দ্রিক, রক্ষণশীল এবং অন্যের সাথে সহজে মিশতে পারে না। অন্তর্মুখী ব্যক্তিদের মনোযোগ ও মানসিক শক্তি ভেতরের দিকে নিবদ্ধ থাকে। তারা একা থাকতে পছন্দ করে, লাজুক প্রকৃতির হয় এবং সামাজিক জনসমাগম এড়িয়ে চলে। তাদের চিন্তা ও অনুভূতির জগত অত্যন্ত গভীর হলেও তা বাইরে সহজে প্রকাশ করতে চায় না।

    ২. সিফাত—বহির্মুখী ব্যক্তিত্ব: অন্যদিকে, সিফাত অত্যন্ত সক্রিয়, স্বাধীনচেতা, সব কাজে অংশ নিতে আগ্রহী এবং অন্যের প্রয়োজনে ঝুঁকি নিতে প্রস্তুত। বহির্মুখী ব্যক্তিত্বের বৈশিষ্ট্য হলো তারা সামাজিক, বন্ধুবৎসল, উদ্যোগী এবং বাইরের জগতের কর্মকাণ্ডে স্বতঃস্ফূর্তভাবে যুক্ত হতে ভালোবাসে। সিফাতের ঝুঁকি নেওয়ার প্রবণতা ও পরোপকারী মনোভাব তার উচ্চ সামাজিক অভিযোজন ক্ষমতার নির্দেশক।

    পরিশেষে, রিফাত ও সিফাত বিপরীতমুখী ব্যক্তিত্ব সংলক্ষণের অধিকারী, যা ইয়ুং-এর অন্তর্মুখিতা বনাম বহির্মুখিতা তত্ত্বকে পুরোপুরি সমর্থন করে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন