ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র • স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদয় • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর, বরিশাল, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০২৩
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র প্রশ্ন
বসনিয়া ছিল একসময় সার্বিয়ার একটি প্রদেশ। বসনিয়ানরা রাষ্ট্রে বন্ধ্যাগরিষ্ঠ হলেও রাষ্ট্রক্ষমতা সার্বিয়ানদের হাতে ছিল। তার বসনিয়ানদের ওপর বৈষম্য ও শোষণনীতি গ্রহণ করলে বসনিয়াবাসী স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে গুরুত্বপূর্ণ কিছু দফা ঘোষণা করে আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ে। সার্বিয়া আন্দোলনকারীদের দমন করতে গেলে সেখানে গণআন্দোলনের সৃষ্টি হয়। শাসকগোষ্ঠীর হাতে বহু ছাত্রজনত হতাহত হয়। যার ফলশ্রুতিতে বসনিয়া স্বাধীনতা অর্জন করে।
- ক)(1)
মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশকে কতটি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিল?
- খ)(2)
১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ বিজয়ের কারণ ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকে বসনিয়ানদের স্বায়ত্তশাসন দাবির আন্দোলনের সাথে বাঙালির কোন আন্দোলনের সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের বসনিয়দের আন্দোলনের মতো বাঙালির উক্ত আন্দোলনও স্বাধীনতার পথ সুগম করেছিল- বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মুক্তিযুদ্ধের সময় সমগ্র বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিল।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ বিজয়ের প্রধান কারণ ছিল ১৯৬৬ সালের ঐতিহাসিক ছয় দফা কর্মসূচি ও এগারো দফা ভিত্তিক বাঙালিদের জাতীয়তাবাদী ঐক্য। পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর দীর্ঘ তেইশ বছরের অর্থনৈতিক শোষণ, রাজনৈতিক বৈষম্য এবং ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের ফলে পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের মনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বলিষ্ঠ নেতৃত্ব এবং আওয়ামী লীগের প্রতি জনগণের গভীর আস্থার ফলেই এ নির্বাচনে দলটি জাতীয় পরিষদ ও প্রাদেশিক পরিষদে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বসনিয়ানদের স্বায়ত্তশাসন দাবির আন্দোলনের সাথে বাঙালিদের ১৯৬৬ সালের ঐতিহাসিক 'ছয় দফা আন্দোলন'-এর সাদৃশ্য রয়েছে।
পাকিস্তানের মোট জনসংখ্যার সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ বাঙালি হওয়া সত্ত্বেও রাষ্ট্রক্ষমতা ছিল পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর হাতে। তারা পূর্ব পাকিস্তানের ওপর রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বৈষম্য চালিয়ে যায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান লাহোরে ঐতিহাসিক ছয় দফা দাবি পেশ করেন, যা বাঙালির 'ম্যাগনা কার্টা' বা মুক্তির সনদ নামে পরিচিত। ছয় দফার মূল লক্ষ্যই ছিল পূর্ব পাকিস্তানের জন্য পূর্ণ প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন অর্জন।
উদ্দীপকে দেখা যায়, বসনিয়ানরা সংখ্যাগরিষ্ঠ হওয়া সত্ত্বেও সার্বিয়ান শাসকগোষ্ঠী তাদের শোষণ ও বৈষম্যের শিকার করে। এর প্রতিবাদে তারা স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে গুরুত্বপূর্ণ কিছু দফা ঘোষণা করে আন্দোলনে নামে। ঠিক তেমনি, তৎকালীন পাকিস্তানে সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙালিরা স্বায়ত্তশাসনের জন্য ছয় দফার দাবিতে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। তাই উদ্দীপকের ঘটনাটি বাঙালির ছয় দফা আন্দোলনের সাথে সম্পূর্ণ সাদৃশ্যপূর্ণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের বসনিয়ানদের আন্দোলনের মতোই বাঙালির ছয় দফা আন্দোলন বাংলাদেশের স্বাধীনতার পথ সুগম করেছিল—উক্তিটি যথার্থ।
১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঘোষিত ছয় দফা ছিল মূলত স্বায়ত্তশাসনের দাবি হলেও তা বাঙালির মনে স্বাধীনতার বীজ বপন করে। পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী এই ন্যায়সঙ্গত দাবি মেনে না নিয়ে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের গ্রেফতার করে এবং আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করে কঠোর দমননীতি চালায়। এর ফলে পূর্ব পাকিস্তানে ১৯৬৯ সালের প্রবল গণঅভ্যুত্থান ঘটে, যা আইয়ুব খানের পতন নিশ্চিত করে।
ছয় দফার ভিত্তিতেই ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে বাঙালিরা আওয়ামী লীগকে নিরঙ্কুশ বিজয় উপহার দেয়। এই বিজয়ের মাধ্যমে ছয় দফা বাঙালির অস্তিত্বের ম্যান্ডেটে পরিণত হয়। কিন্তু শাসকগোষ্ঠী ক্ষমতা হস্তান্তরে অস্বীকৃতি জানিয়ে ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ রাতে নির্বিচারে গণহত্যা শুরু করলে বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার ঘোষণা দেন এবং নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়।
উদ্দীপকেও দেখা যায়, স্বায়ত্তশাসনের দফাসমূহ দমন করতে গিয়ে সার্বিয়ানদের হাতে ছাত্রজনতা হতাহত হয় এবং সৃষ্টি হয় গণআন্দোলনের, যা শেষ পর্যন্ত বসনিয়ার স্বাধীনতা এনে দেয়। একইভাবে ছয় দফা আন্দোলন দমন করতে গিয়ে পাকিস্তানি জান্তা বাঙালির জাতীয়তাবাদী চেতনাকে স্বাধীনতা সংগ্রামে রূপ দেয়। সুতরাং, ছয় দফা ভিত্তিক স্বায়ত্তশাসনের আন্দোলনই কার্যত বাঙালি জাতির স্বাধীনতার পথ সুগম করেছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও