সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র • Combined Board • ঢাকা, কুমিল্লা, যশোর, সিলেট বোর্ড ২০২৩

সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন

পৃথিবীতে মানুষ টিকে থাকার জন্য বিভিন্ন দ্রব্যের প্রয়োজন অনুভব করে। এই প্রয়োজন মেটাতে গিয়ে তারা নিজ হাতে যা কিছু সৃষ্টি করেছে তার দু'টি দিক আছে- একটি অন্তনির্হিত অন্যটি বাহ্যিক। প্রথমটির এক বিশেষ স্তর বা অগ্রগতির ফল দ্বিতীয়টি। মানুষ যান্ত্রিক ব্যবস্থা ও কলাকৌশলের মধ্য দিয়ে বাহ্যিক দিকটিকে উন্নত করে গড়ে তুলেছে।

  1. ক)

    সামাজিক শ্রেণি কী?

    (1)
  2. খ)

    মুখ্য দল ও গৌণ দল বলতে কী বোঝ?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে মানুষের সৃষ্টির অন্তর্নিহিত দিক কোনটি? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    তুমি কি মনে কর, উক্ত প্রত্যয় দু'টি পরস্পর সম্পর্কযুক্ত? বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    অর্থনৈতিক অবস্থান, মর্যাদা বা পেশার ভিত্তিতে সমাজের জনগোষ্ঠীর বিভাজনকে সামাজিক শ্রেণি বলা হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যে দলের সদস্যদের মধ্যে প্রত্যক্ষ, মুখোমুখি এবং গভীর আবেগীয় সম্পর্ক থাকে, তাকে মুখ্য দল (Primary Group) বলে; যেমন— পরিবার। অন্যদিকে, যে দলের সদস্যদের সম্পর্ক পরোক্ষ, আনুষ্ঠানিক এবং কোনো নির্দিষ্ট স্বার্থ বা উদ্দেশ্যের ভিত্তিতে গড়ে ওঠে, তাকে গৌণ দল (Secondary Group) বলে; যেমন— রাজনৈতিক দল বা শ্রমিক ইউনিয়ন।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে মানুষের সৃষ্টির অন্তর্নিহিত দিকটি হলো 'সংস্কৃতি' (Culture)।

    সমাজবিজ্ঞানী ম্যাকাইভারের মতে, "সংস্কৃতি হলো আমরা যা, আর সভ্যতা হলো আমাদের যা কিছু আছে।" মানুষ সমাজবদ্ধ জীব হিসেবে টিকে থাকার তাগিদে এবং নিজের আত্মিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশের জন্য যে মূল্যবোধ, বিশ্বাস, চিন্তাধারা, সাহিত্য, কলা ও রীতিনীতি সৃষ্টি করে—তা-ই সংস্কৃতি।

    উদ্দীপকে বলা হয়েছে, প্রয়োজন মেটাতে মানুষ যা কিছু সৃষ্টি করেছে তার দুটি দিক রয়েছে— একটি অন্তর্নিহিত এবং অন্যটি বাহ্যিক। এই অন্তর্নিহিত দিকটি মূলত অবস্তুগত রূপ বা সংস্কৃতি, যা মানুষের চিন্তা ও মানসিক অগ্রগতির প্রতিফলন ঘটায়। সুতরাং, উদ্দীপকে উল্লিখিত অন্তর্নিহিত দিকটি হলো সংস্কৃতি।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    হ্যাঁ, আমি মনে করি উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত প্রত্যয় দুটি (সংস্কৃতি ও সভ্যতা) পরস্পর গভীরভাবে সম্পর্কযুক্ত ও নির্ভরশীল।

    সংস্কৃতি হলো মানুষের জীবনাচরণ, মূল্যবোধ ও বিশ্বাসের অন্তর্নিহিত দিক; আর সভ্যতা হলো সেই সংস্কৃতিরই দৃশ্যমান, যান্ত্রিক ও বস্তুগত বিকাশ বা বাহ্যিক রূপ। সমাজবিজ্ঞানী ম্যাকাইভার এবং পেজের মতে, সভ্যতা হলো সংস্কৃতির বাহক বা মাধ্যম। সংস্কৃতির পরিবর্তন ও অগ্রগতির ওপর ভিত্তি করেই সভ্যতার সৌধ গড়ে ওঠে।

    সংস্কৃতি মানুষের আত্মিক ও মানসিক উৎকর্ষ সাধন করে, আর সভ্যতা সেই উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে বাহ্যিক প্রযুক্তি, যন্ত্রপাতি ও প্রাতিষ্ঠানিক সুযোগ-সুবিধা তৈরি করে। সভ্যতা সংস্কৃতি ছাড়া নিষ্ক্রিয় এবং সংস্কৃতিও কোনো বস্তুগত বা সভ্য রূপ ছাড়া টিকতে পারে না। সভ্যতার যন্ত্রপাতি ও কলাকৌশল যেমন মানুষের সংস্কৃতিকে ছড়িয়ে দিতে সাহায্য করে, তেমনি সংস্কৃতির মূল্যবোধ সভ্যতার আবিষ্কার ও ব্যবহারের দিকনির্দেশনা দেয়।

    অতএব, সংস্কৃতি ও সভ্যতা একে অপরের বিপরীত নয়, বরং একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ এবং তারা পরস্পরের ওপর অঙ্গাঙ্গিভাবে নির্ভরশীল।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন