সমাজকর্ম ১ম পত্র • সমাজকর্ম সম্পর্কিত প্রত্যয়সমূহ • Combined Board • ঢাকা, কুমিল্লা, যশোর, সিলেট বোর্ড ২০২৩
সমাজকর্ম ১ম পত্র প্রশ্ন
নাজনীন এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। পনেরো বছর বয়সে মুক্তমনের শিক্ষিত ব্যবসায়ী তৌফিকের সাথে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর স্বামীর অনুপ্রেরণায় তিনি পড়াশোনা করেন। স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি বিপুল সম্পত্তির মালিক হন এবং নিজ এলাকায় মেয়েদের জন্য একটি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করে নারী শিক্ষার প্রসারে অবদান রাখেন।
- ক)(1)
ধর্মগোলা কী?
- খ)(2)
সমাজসেবা বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকের নাজনীনের সাথে উপমহাদেশের কোন মহিয়সী নারীর সাদৃশ্য পাওয়া যায়? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
নারী শিক্ষার প্রসারে উক্ত মহিয়সী নারীর অবদান বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ধর্মগোলা হলো ভারতীয় উপমহাদেশে দুর্ভিক্ষ বা অভাবের সময় গ্রামীণ দরিদ্র মানুষকে খাদ্য সহায়তা দেওয়ার উদ্দেশ্যে গড়ে তোলা শস্যব্যাংক বা সমবায়ভিত্তিক ঐতিহ্যবাহী সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সমাজসেবা বলতে সাধারণত সমাজের মানুষের সার্বিক কল্যাণ ও উন্নয়নের উদ্দেশ্যে পরিচালিত নিঃস্বার্থ সেবামূলক কার্যক্রমকে বোঝায়। এটি কোনো ব্যক্তি, দল বা সমগ্র সম্প্রদায়ের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে সহায়তা করে। সমাজসেবা মূলত মানবপ্রেম ও ধর্মীয় মূল্যবোধ দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে স্বেচ্ছায় দুস্থ, অসহায় ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়ানোর প্রক্রিয়া।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের নাজনীনের সাথে ভারতীয় উপমহাদেশের নারী জাগরণের অগ্রদূত মহীয়সী নারী বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের জীবনের সাদৃশ্য পাওয়া যায়।
বেগম রোকেয়া ১৮৮০ সালে রংপুরের পায়রাবন্দের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তৎকালীন সমাজব্যবস্থায় নারী শিক্ষার সুযোগ অত্যন্ত সীমিত ছিল। ১৮৯৮ সালে মাত্র ষোল বছর বয়সে ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ সাখাওয়াত হোসেনের সাথে তাঁর বিবাহ হয়। তাঁর স্বামী ছিলেন অত্যন্ত মুক্তমনা ও আধুনিক চিন্তাধারার মানুষ। স্বামীর উৎসাহ ও অনুপ্রেরণাতেই রোকেয়া দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ভাষায় শিক্ষা লাভ করেন এবং জ্ঞানচর্চায় অগ্রসর হন। ১৯০৯ সালে স্বামীর মৃত্যুর পর তাঁর রেখে যাওয়া অর্থ দিয়ে রোকেয়া নারী শিক্ষার প্রসারে ভাগলপুরে 'সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গার্লস স্কুল' প্রতিষ্ঠা করেন।
উদ্দীপকের নাজনীনও সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারের সন্তান, যিনি মুক্তমনা শিক্ষিত স্বামীর অনুপ্রেরণায় বিয়ের পর পড়াশোনা করেন এবং স্বামীর মৃত্যুর পর তাঁর রেখে যাওয়া সম্পদ দিয়ে নিজ এলাকায় মেয়েদের বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করে নারী শিক্ষায় অবদান রাখেন। জীবনের এই দিকগুলোর কারণে নাজনীনের সাথে বেগম রোকেয়ার গভীর সাদৃশ্য পরিলক্ষিত হয়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উপমহাদেশে নারী শিক্ষার প্রসারে উক্ত মহীয়সী নারী অর্থাৎ বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের অবদান ছিল অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী ও অবিস্মরণীয়।
বিশ শতকের শুরুতে তৎকালীন রক্ষণশীল ও কূপমণ্ডূক মুসলিম সমাজে নারীদের শিক্ষার অধিকার ছিল প্রায় অবরুদ্ধ। পর্দার আড়ালে নারীদের গৃহবন্দী করে রাখা হতো। এ প্রতিকূল পরিস্থিতিতে বেগম রোকেয়া উপলব্ধি করেন যে, নারী সমাজের মুক্তি ও সার্বিক উন্নয়ন ছাড়া সমাজের অগ্রগতি অসম্ভব এবং এর একমাত্র চাবিকাঠি হলো শিক্ষা।
তিনি নারী শিক্ষার প্রসারে নিম্নলিখিত ভূমিকা পালন করেন:
১. প্রতিষ্ঠান স্থাপন: স্বামীর মৃত্যুর পর ১৯০৯ সালে তিনি ভাগলপুরে মাত্র পাঁচজন ছাত্রী নিয়ে 'সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গার্লস স্কুল' প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তীতে পারিবারিক প্রতিকূলতার কারণে ১৯১১ সালে কলকাতায় এই বিদ্যালয়টি পুনরায় চালু করেন এবং আমৃত্যু তা পরিচালনা করেন।
২. বাড়ি বাড়ি গিয়ে ছাত্রী সংগ্রহ: রক্ষণশীল অভিভাবকদের বোঝাতে তিনি নিজে পর্দা মেনে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ছাত্রীদের স্কুলে পাঠাতে উৎসাহিত করতেন।
৩. সাহিত্যচর্চা ও সামাজিক সচেতনতা: তিনি তাঁর লেখনী (যেমন: 'সুলতানার স্বপ্ন', 'অবরোধবাসিনী', 'মতিচূর') দিয়ে সমাজের অন্ধবিশ্বাস, কুসংস্কার ও নারীদের প্রতি বৈষম্যের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানান এবং নারী শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
৪. প্রাতিষ্ঠানিক আন্দোলন: ১৯১৬ সালে তিনি 'আঞ্জুমানে খাওয়াতিনে ইসলাম' বা মুসলিম মহিলা সমিতি গঠন করেন, যার মাধ্যমে পিছিয়ে পড়া নারীদের শিক্ষা ও স্বাবলম্বী করার উদ্যোগ নেন।পরিশেষে বলা যায়, চরম বৈরী সামাজিক পরিবেশেও বেগম রোকেয়ার সাহসিকতা ও নিরলস প্রচেষ্টা তৎকালীন মুসলিম সমাজে নারী শিক্ষার ভিত্তি স্থাপন করেছিল এবং উপমহাদেশের নারীদের আধুনিক জীবনের পথে এগিয়ে নিয়েছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও