ভূগোল ১ম পত্র • সমুদ্রস্রোত ও জোয়ার-ভাটা • Combined Board • ঢাকা, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, বরিশাল, সিলেট, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২২
ভূগোল ১ম পত্র প্রশ্ন
'ক' স্রোতটি ভারত মহাসাগরের বঙ্গোপসাগর সংলগ্ন অঞ্চলের উপকূল ভাগ দিয়ে প্রবাহিত হয়। নির্দিষ্ট একটি বায়ুপ্রবাহের কারণে ঐ স্রোতটির উৎপত্তি হয়।
- ক)(1)
মুখ্য জোয়ার কাকে বলে?
- খ)(2)
পৃথিবীর আবর্তন সমুদ্রস্রোতকে কীভাবে প্রভাবিত করে?
- গ)(3)
উদ্দীপকের 'ক' স্রোতটির বর্ণনা দাও।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত অঞ্চলের উপর জোয়ার-ভাটার প্রভাব বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
চাঁদের প্রত্যক্ষ বা সম্মুখ আকর্ষণে তার নিকটবর্তী জলভাগে যে শক্তিশালী জোয়ারের সৃষ্টি হয়, তাকে মুখ্য জোয়ার বা প্রত্যক্ষ জোয়ার বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পৃথিবীর আহ্নিক গতি বা নিজ অক্ষের ওপর পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে আবর্তনের ফলে কোরিওলিস বল (Coriolis force) বা বিক্ষেপক শক্তির সৃষ্টি হয়। এই শক্তির প্রভাবে সমুদ্রস্রোত সোজা পথে প্রবাহিত না হয়ে ফেরেলের সূত্রানুযায়ী উত্তর গোলার্ধে ডান দিকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বাম দিকে বেঁকে প্রবাহিত হয়। এভাবে পৃথিবীর আবর্তন গতি সমুদ্রস্রোতের দিক পরিবর্তনে প্রত্যক্ষ প্রভাব বিস্তার করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে নির্দেশিত ভারত মহাসাগরের বঙ্গোপসাগর সংলগ্ন উপকূল দিয়ে প্রবাহিত 'ক' স্রোতটি হলো মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে সৃষ্ট 'মৌসুমি স্রোত' (Monsoon Current)।
ভারত মহাসাগরের উত্তর অংশে স্থলভাগের সান্নিধ্যের কারণে মৌসুমি বায়ুর গতিপথ পরিবর্তনের সাথে সাথে সমুদ্রস্রোতের দিকও পরিবর্তিত হয়। গ্রীষ্মকালে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু প্রবাহিত হওয়ার সময় বঙ্গোপসাগর ও আরব সাগরের জলরাশি ঘড়ির কাঁটার দিকে (দক্ষিণ-পশ্চিম থেকে উত্তর-পূর্বে) প্রবাহিত হয়ে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি স্রোতের সৃষ্টি করে। পক্ষান্তরে, শীতকালে উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে এই স্রোত বিপরীত দিকে, অর্থাৎ ঘড়ির কাঁটার বিপরীত দিকে (উত্তর-পূর্ব থেকে দক্ষিণ-পশ্চিমে) প্রবাহিত হয়ে উত্তর-পূর্ব মৌসুমি স্রোতে রূপ নেয়। এভাবেই ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে 'ক' স্রোতটির গতিমুখ ও বৈশিষ্ট্য নির্ধারিত হয়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত অঞ্চলটি হলো বঙ্গোপসাগর সংলগ্ন উপকূলবর্তী অঞ্চল, যার একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছে বাংলাদেশ। এ অঞ্চলের মানবজীবন ও অর্থনীতির ওপর জোয়ার-ভাটার গভীর প্রভাব রয়েছে। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো:
১. নৌ-চলাচল ও বন্দর পরিচালনা: জোয়ারের সময় সমুদ্রের জলস্ফীতি ঘটে বলে চট্টগ্রাম ও মোংলা সমুদ্রবন্দরে এবং নদীবন্দরগুলোতে বড় বড় জাহাজ সহজে প্রবেশ করতে পারে এবং নোঙর করতে পারে। আবার ভাটার টানে জাহাজগুলো সাগরে ফিরে যায়।
২. পলি অপসারণ ও নদীর নাব্যতা রক্ষা: ভাটার সময় নদীর তীব্র স্রোত উপকূলীয় নদী ও মোহনার পলি সাগরে টেনে নিয়ে যায়, যা নদীগুলোর নাব্যতা বজায় রাখতে সহায়তা করে।
৩. কৃষি ও লবণাক্ততা: জোয়ারের অতিরিক্ত লোনা পানি উপকূলীয় সমভূমি ও কৃষিজমিতে প্রবেশ করলে জমির উর্বরতা নষ্ট হয় এবং সুপেয় পানির সংকট দেখা দেয়। তবে এ ক্ষতি রোধে উপকূলজুড়ে বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে।
৪. লবণ উৎপাদন ও মৎস্য চাষ: ভাটার সময় উপকূলীয় আবদ্ধ জমিতে সমুদ্রের লোনা পানি আটকে রেখে সূর্যের তাপে শুকিয়ে কক্সবাজার অঞ্চলে ব্যাপকভাবে বাণিজ্যিক লবণ তৈরি করা হয়। এছাড়া জোয়ারের পানির মাধ্যমে ঘেরে লোনা পানির মাছ ও চিংড়ি চাষ করা হয়।
৫. ম্যানগ্রোভ বন সংরক্ষণ: সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদের শ্বাসমূলীয় টিকে থাকার জন্য নিয়মিত জোয়ার-ভাটার মাধ্যমে মিষ্টি ও লোনা পানির মিশ্রণ অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
সুতরাং, উল্লিখিত বঙ্গোপসাগরীয় উপকূলীয় অঞ্চলের অর্থনীতি, যোগাযোগ এবং প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে জোয়ার-ভাটা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও