ভূগোল ১ম পত্র • জলবায়ু অঞ্চল ও জলবায়ু পরিবর্তন • Combined Board • ঢাকা, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, বরিশাল, সিলেট, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২২
ভূগোল ১ম পত্র প্রশ্ন
'ক' একটি শিল্পোন্নত দেশ। দেশটির শিল্পকারখানায় পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা বাড়তে পারে এমন গ্যাসসমূহ প্রতিনিয়ত নির্গত
- ক)(1)
নিয়ত বায়ুপ্রবাহ কাকে বলে?
- খ)(2)
বায়ুপ্রাচীরজনিত বৃষ্টিপাত কীভাবে সংঘটিত হয়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত ঘটনাটির কারণ বর্ণনা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের ঘটনাটি তোমার দেশে কীরূপ প্রভাব ফেলেছে- বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পৃথিবীর প্রধান প্রধান স্থায়ী উচ্চচাপ বলয় থেকে নিম্নচাপ বলয়ের দিকে সারা বছর নিয়মিতভাবে নির্দিষ্ট দিকে প্রবাহিত বায়ুকে নিয়ত বায়ুপ্রবাহ বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
শীতল ও ভারী বায়ু এবং উষ্ণ ও আর্দ্র বায়ু পরস্পর বিপরীত দিক থেকে অগ্রসর হয়ে মুখোমুখি হলে এদের সংযোগস্থলে একটি সীমারেখা সৃষ্টি হয়, যাকে বায়ুপ্রাচীর (Front) বলে। ভারী শীতল বায়ু নিচে অবস্থান করে এবং হালকা উষ্ণ বায়ু শীতল বায়ুর ঢাল বেয়ে উপরে উঠে প্রসারিত ও ঘনীভূত হয়ে যে বৃষ্টিপাত ঘটায়, তাকে বায়ুপ্রাচীরজনিত বৃষ্টিপাত বা সীমান্ত বৃষ্টি বলে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত ঘটনাটি হলো বিশ্ব উষ্ণায়ন (Global Warming) এবং গ্রিনহাউস প্রতিক্রিয়া।
এ ঘটনার প্রধান কারণসমূহ নিচে বর্ণনা করা হলো:
১. জীবাশ্ম জ্বালানির দহন: শিল্পোন্নত দেশগুলোর কলকারখানা, যানবাহন এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে কয়লা, খনিজ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস পোড়ানোর ফলে বায়ুমণ্ডলে প্রচুর পরিমাণে কার্বন ডাই-অক্সাইড () নির্গত হয়।
২. অন্যান্য গ্রিনহাউস গ্যাসের নিঃসরণ: আধুনিক শিল্পায়নের ফলে বায়ুমণ্ডলে মিথেন (), ক্লোরোফ্লুরোকার্বন (CFC), নাইট্রাস অক্সাইড () ইত্যাদি তাপ শোষণকারী গ্যাসের ঘনত্ব ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
৩. অরণ্য নিধন বা নির্বিচার বৃক্ষকর্তন: কলকারখানা স্থাপন ও নগরায়ণের জন্য বিপুল পরিমাণ বনভূমি ধ্বংস করা হচ্ছে, যার ফলে উদ্ভিদের মাধ্যমে বায়ুমণ্ডলের কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণের প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হচ্ছে।
এসব গ্রিনহাউস গ্যাস বায়ুমণ্ডলে একটি চাদরের মতো স্তর তৈরি করে বিকিরিত তাপকে মহাশূন্যে ফিরে যেতে বাধা দেয়, ফলে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের ঘটনাটি হলো বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও এর ফলে সৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তন, যা আমাদের দেশ বাংলাদেশে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
বাংলাদেশে এর প্রভাব নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি: বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে মেরু অঞ্চলের বরফ গলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাংলাদেশ একটি নিম্নভূমি হওয়ায় দেশের দক্ষিণাঞ্চলের বিশাল উপকূলীয় এলাকা স্থায়ীভাবে নিমজ্জিত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
২. প্রাকৃতিক দুর্যোগের পৌনঃপুনিকতা: দেশে ঘূর্ণিঝড় (যেমন- সিডর, আইলা, রেমাল), জলোচ্ছ্বাস, অনাবৃষ্টি ও অতিবৃষ্টির তীব্রতা ও পুনরাবৃত্তি উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
৩. উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ততা বৃদ্ধি: সমুদ্রের পানির উচ্চতা বাড়ায় সুন্দরবনসহ দক্ষিণাঞ্চলের অভ্যন্তরীণ নদী ও কৃষিজমিতে লবণাক্ত পানি প্রবেশ করছে, যার ফলে মিঠা পানির সংকট দেখা দিচ্ছে এবং কৃষিজমির উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে।
৪. কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তায় বিপর্যয়: ঋতুচক্রের পরিবর্তনের ফলে অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, আকস্মিক বন্যা এবং খরায় ধানসহ অন্যান্য ফসলের উৎপাদন মারাত্মক ব্যাহত হচ্ছে।
৫. বাস্তুচ্যুতি ও জলবায়ু শরণার্থী: নদীভাঙন ও উপকূলীয় দুর্যোগের কারণে প্রতি বছর বিপুল সংখ্যক মানুষ বাস্তুহারা হয়ে ঢাকা ও অন্যান্য শহরে 'জলবায়ু শরণার্থী' হিসেবে আশ্রয় নিচ্ছে।অতএব, শিল্পোন্নত দেশগুলোর অতিরিক্ত গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণের কারণে সংঘটিত বৈশ্বিক উষ্ণায়ন বাংলাদেশের পরিবেশ, অর্থনীতি এবং জীবনযাত্রার ওপর এক ভয়াবহ সংকট তৈরি করেছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও