ভূগোল ১ম পত্র • বায়ুমণ্ডল ও বায়ু দূষণ • Combined Board • ঢাকা, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, বরিশাল, সিলেট, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২২

ভূগোল ১ম পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    বায়ুমণ্ডল কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    থার্মোস্ফিয়ারের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত দূষণের কারণ বর্ণনা করো ।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত দূষণ রোধ করার জন্য পদক্ষেপসমূহ বিশ্লেষণ করো ।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যে গ্যাসীয় আবরণ পৃথিবীকে বেষ্টন করে আছে, তাকে বায়ুমণ্ডল বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মেসোপজের ওপর থেকে প্রায় ৫০০ কিমি উচ্চতা পর্যন্ত বিস্তৃত স্তরটি হলো থার্মোস্ফিয়ার বা তাপমণ্ডল। এর প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো হলো:
    ১. এই স্তরে উচ্চতা বৃদ্ধির সাথে সাথে তাপমাত্রা অত্যন্ত দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং তা প্রায় ১,২০০° সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছায়।
    ২. অতিবেগুনি ও রঞ্জনরশ্মির প্রভাবে এখানকার গ্যাসীয় অণুগুলো আয়নিত অবস্থায় থাকে।
    ৩. এই স্তরের নিম্ন অংশে (আয়নোস্ফিয়ার) বেতার তরঙ্গ প্রতিফলিত হয়ে পুনরায় পৃথিবীতে ফিরে আসে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে শিল্প কারখানা ও যানবাহন থেকে নির্গত কালো ধোঁয়ার মাধ্যমে 'ক দূষণ' তথা 'বায়ুদূষণ'-কে নির্দেশ করা হয়েছে। নিচে বায়ুদূষণের কারণসমূহ বর্ণনা করা হলো:

    ১. শিল্প কারখানা ও ইটভাটা: অনিয়ন্ত্রিত শিল্পায়ন ও ইটভাটার চিমনি থেকে নির্গত কালো ধোঁয়ায় প্রচুর পরিমাণে কার্বন ডাই-অক্সাইড, কার্বন মনোক্সাইড ও সালফার ডাই-অক্সাইড থাকে, যা বাতাসকে দূষিত করে।
    ২. যানবাহনের ধোঁয়া: পেট্রোল, ডিজেল প্রভৃতি জীবাশ্ম জ্বালানি চালিত ত্রুটিপূর্ণ যানবাহনের ধোঁয়া থেকে নির্গত ক্ষতিকর গ্যাস বায়ুমণ্ডলে মিশে বায়ুদূষণ ঘটায়।
    ৩. বন উজাড়করণ: অবাধে গাছপালা কেটে ফেলার ফলে প্রকৃতিতে উদ্ভিদের কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ ও অক্সিজেন নির্গমনের ভারসাম্য নষ্ট হয়।
    ৪. বর্জ্য ও জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানো: গৃহস্থালি ও কৃষিজাত আবর্জনা পোড়ানো এবং তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে কয়লা বা গ্যাস পোড়ানোর ফলে ক্ষতিকর গ্যাস ও ছাই বাতাসে মিশে বায়ুকে দূষিত করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত দূষণটি হলো 'বায়ুদূষণ'। এই দূষণ রোধ করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপসমূহ নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার হ্রাস: কয়লা, পেট্রোলিয়াম ইত্যাদির ব্যবহার কমিয়ে সৌরশক্তি, বায়ুশক্তি ও জলবিদ্যুতের মতো নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি করতে হবে।
    ২. আধুনিক প্রযুক্তির প্রয়োগ: কলকারখানা ও ইটভাটায় আধুনিক ফিল্টার ও উন্নত চিমনি স্থাপন করতে হবে, যাতে ক্ষতিকর গ্যাস ও ধোঁয়া সরাসরি বাতাসে মিশতে না পারে।
    ৩. পরিবেশবান্ধব যানবাহন চলাচল: ত্রুটিপূর্ণ ও পুরোনো যানবাহন নিষিদ্ধ করতে হবে এবং সিএনজি, এলপিজি বা বৈদ্যুতিক যানবাহনের ব্যবহার উৎসাহিত করতে হবে।
    ৪. ব্যাপক বৃক্ষরোপণ: গাছপালা কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্রহণ করে বায়ুকে বিশুদ্ধ রাখে; তাই বায়ুর গুণমান রক্ষায় পরিকল্পিতভাবে ব্যাপক বনায়ন ও সবুজায়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে হবে।
    ৫. বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও জনসচেতনতা: উন্মুক্ত স্থানে আবর্জনা না ফেলে বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে রিসাইক্লিং ও পুনঃব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে এবং পরিবেশ রক্ষায় আইনের কঠোর প্রয়োগ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে।

    সুতরাং, উল্লিখিত পদক্ষেপগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করলে বায়ুদূষণ অনেকাংশে রোধ করা সম্ভব।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন