পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • মূল্যবোধ, আইন, স্বাধীনতা ও সাম্য • ঢাকা সিটি কলেজ • ঢাকা সিটি কলেজ টেস্ট পরীক্ষা ২০২৩
পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন
জন অস্টিনের মতে, আইনের উৎস একটি এবং তা হচ্ছে 'সার্বভৌমের আদেশ।' ওপেনহাইম 'জনমতকেও' আইনের উৎস বলে মনে করেছেন।
- ক)(1)
সাম্য, মৈত্রী, স্বাধীনতা কোন বিপ্লবের শ্লোগান ছিল?
- খ)(2)
মূল্যবোধ বলতে কী বোঝ?
- গ)(3)
উদ্দীপকে দু'জন দার্শনিক কর্তৃক উল্লেখিত আইনের উৎস আলোচনা করো।
- ঘ)(4)
উক্ত উৎসসমূহ ব্যতীত আইনের অন্যান্য উৎসসমূহ আলোচনা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'সাম্য, মৈত্রী, স্বাধীনতা' ১৭৮৯ সালের ফরাসি বিপ্লবের মূল শ্লোগান ছিল।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মূল্যবোধ হলো মানুষের আবেগ, চিন্তা ও আচরণের মানদণ্ড, যার ওপর ভিত্তি করে ব্যক্তি বা সমাজ কোনো বিষয়ের ভালো-মন্দ, ঠিক-বেঠিক বা ন্যায়-অন্যায় বিচার করে।
এটি মানুষের আচার-আচরণকে নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালিত করে। সততা, ন্যায়পরায়ণতা, সহনশীলতা, শৃঙ্খলাবোধ প্রভৃতি মানবিক গুণের সমন্বয়ে মূল্যবোধ গড়ে ওঠে, যা সমাজে শান্তি ও সংহতি বজায় রাখতে সহায়তা করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে জন অস্টিন ও ওপেনহাইম কর্তৃক উল্লিখিত আইনের উৎস দুটি হলো যথাক্রমে—'সার্বভৌমের আদেশ' এবং 'জনমত'।
১. সার্বভৌমের আদেশ: বিশিষ্ট আইনবিদ জন অস্টিনের মতে, আইন হলো সার্বভৌম কর্তৃপক্ষের আদেশ (Law is the command of the sovereign)। তাঁর মতে, রাষ্ট্রে আইন প্রণয়নের চূড়ান্ত ক্ষমতা কেবল সার্বভৌম শক্তির হাতে থাকে এবং রাষ্ট্র সেই আইন বলবৎ করার বাধ্যবাধকতা আরোপ করে।
২. জনমত: অধ্যাপক ওপেনহাইম জনমতকে আইনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎস বলে মনে করেন। আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে জনগণের সচেতন মতামত আইনের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। আইনসভা সাধারণত তীব্র জনমতের বিরুদ্ধে গিয়ে কোনো আইন তৈরি করে না, বরং প্রবল জনমতের প্রেক্ষিতেই অনেক সময় নতুন আইন প্রণয়ন বা পুরোনো আইনের সংশোধন করা হয়। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত সার্বভৌমের আদেশ ও জনমত ছাড়াও আইনের বহুবিধ গুরুত্বপূর্ণ উৎস রয়েছে। হল্যান্ড ও অন্যান্য রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদের মতে প্রধান উৎসগুলো নিম্নরূপ:
১. প্রথা: প্রাচীনকাল থেকে সমাজে প্রচলিত রীতিনীতি ও প্রথা কালক্রমে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পেয়ে আইনে পরিণত হয়েছে (যেমন—যুক্তরাজ্যের সাধারণ আইন)।
২. ধর্ম: প্রাচীন ও মধ্যযুগে আইন মূলত ধর্মের ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছিল। আধুনিক যুগেও মুসলিম আইন, হিন্দু আইন ইত্যাদি পারিবারিক ও উত্তরাধিকার সংক্রান্ত ক্ষেত্রে বলবৎ রয়েছে।
৩. বিচারকের রায়: প্রচলিত আইন যখন কোনো মামলার নিষ্পত্তিতে অপ্রতুল হয়, তখন বিচারকগণ নিজেদের প্রজ্ঞা ও ন্যায়নীতিবোধ দিয়ে নতুন ব্যাখ্যা দেন, যা পরবর্তীকালে আইনের মর্যাদা পায়।
৪. বিজ্ঞানসম্মত আলোচনা: প্রখ্যাত আইনবিদ ও পণ্ডিতদের গবেষণাধর্মী গ্রন্থ এবং আইনের যৌক্তিক ব্যাখ্যা অনেক ক্ষেত্রে আদালতের রায় প্রদানে বা আইন প্রণেতাদের নিকট আইন হিসেবে গৃহীত হয় (যেমন—কোক, ব্ল্যাকস্টোন প্রমুখের ব্যাখ্যা)।
৫. ন্যায়বোধ: কোনো ক্ষেত্রে স্পষ্ট আইন না থাকলে বিচারকগণ সততা ও ন্যায়নীতির ভিত্তিতে রায় দেন, যা পরবর্তীতে নতুন আইনের রূপ নেয়।
৬. আইনসভা: আধুনিক রাষ্ট্রে আইন প্রণয়নের সবচেয়ে প্রধান ও সক্রিয় উৎস হলো আইনসভা বা সংসদ, যেখানে যুগের চাহিদানুযায়ী জনগণের প্রতিনিধিদের মাধ্যমে আইন রচিত হয়।সুতরাং, উল্লিখিত উৎসগুলো সমাজের ক্রমবিকাশ ও শৃঙ্খলার তাগিদে আইনের বিকাশ ঘটিয়েছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও