‍পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • সরকার কাঠামো ও সরকারের অঙ্গসমূহ • ঢাকা সিটি কলেজ • ঢাকা সিটি কলেজ টেস্ট পরীক্ষা ২০২৩

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন

সরকারের তিনটি বিভাগের একটি বিভাগের ব্যক্তিবর্গকে নিয়োগ দেন রাষ্ট্রপতি। তাদের বিজ্ঞতা, সাহসিকতা ও সততার উপর উক্ত বিভাগের স্বাধীনতা নির্ভর করে। সেই সাথে প্রয়োজন তাদের জন্য উপযুক্ত বেতন, ভাতাদি, পদোন্নতি এবং সামাজিক মর্যাদা। আইনগতভাবে ক্ষমতার স্বতন্ত্রীকরণ না থাকলে উক্ত বিভাগ ব্যক্তি স্বাধীনতা ও ন্যায়বিচার সংরক্ষণ করতে পারে না।

  1. ক)

    শাসনবিভাগ কয়টি অংশ নিয়ে গঠিত?

    (1)
  2. খ)

    ক্ষমতার স্বতন্ত্রীকরণ নীতি বলতে কী বোঝ?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে সরকারের যে বিভাগকে ইঙ্গিত করা হয়েছে তার সদস্যদের নিয়োগ পদ্ধতি বর্ণনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উক্ত বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণে কোন কোন রক্ষাকবচ অত্যাবশ্যক?

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    শাসনবিভাগ মূলত দুটি অংশ নিয়ে গঠিত: রাজনৈতিক অংশ (যেমন- রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভা) এবং অরাজনৈতিক বা স্থায়ী অংশ (প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও কর্মচারী/আমলাতন্ত্র)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ক্ষমতার স্বতন্ত্রীকরণ নীতি বলতে বোঝায় সরকারের প্রধান তিনটি অঙ্গ—আইনবিভাগ, শাসনবিভাগ ও বিচারবিভাগ—একে অন্যের থেকে পৃথক ও স্বতন্ত্র থাকবে এবং প্রত্যেকে নিজস্ব সাংবিধানিক সীমার মধ্যে স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালন করবে, কেউ কারও কাজে হস্তক্ষেপ করবে না। ফরাসি দার্শনিক মন্টেস্কু এই তত্ত্বের প্রধান প্রবক্তা।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে সরকারের 'বিচার বিভাগ'কে ইঙ্গিত করা হয়েছে। বিচার বিভাগের সদস্যদের অর্থাৎ বিচারপতিদের প্রধান প্রধান নিয়োগ পদ্ধতি নিচে আলোচনা করা হলো:
    ১. শাসনবিভাগ বা রাষ্ট্রপ্রধান কর্তৃক নিয়োগ: অধিকাংশ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বিচারকদের শাসনবিভাগের প্রধান (যেমন রাষ্ট্রপতি) কর্তৃক নিয়োগ দেওয়া হয়। বাংলাদেশের সংবিধানেও প্রধান বিচারপতি ও অন্যান্য বিচারপতিদের রাষ্ট্রপতি নিয়োগ দিয়ে থাকেন।
    ২. আইনসভা কর্তৃক নির্বাচন: কিছু রাষ্ট্রে আইনসভার সদস্যদের ভোটে বিচারপতি নির্বাচিত হন (যেমন- সুইজারল্যান্ড)।
    ৩. জনগণ কর্তৃক প্রত্যক্ষ নির্বাচন: কিছু দেশে বা অঙ্গরাজ্যে (যেমন- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কিছু অঙ্গরাজ্য) স্থানীয় বিচারকগণ সরাসরি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হন।
    ৪. বিচার বিভাগীয় কমিশন বা কাউন্সিলের সুপারিশে নিয়োগ: অনেক দেশে একটি স্বাধীন কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে রাষ্ট্রপ্রধান বিচারপতি নিয়োগ দিয়ে থাকেন।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে নিম্নলিখিত রক্ষাকবচসমূহ অত্যাবশ্যক:
    ১. উপযুক্ত নিয়োগ পদ্ধতি: রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থেকে মেধা, সততা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে বিচারপতি নিয়োগ দিতে হবে।
    ২. চাকুরির নিশ্চয়তা ও নির্দিষ্ট মেয়াদ: বিচারপতিদের খেয়ালখুশিমতো অপসারণ করা যাবে না; অপসারণের জন্য সুনির্দিষ্ট সাংবিধানিক বা বিচারিক কাউন্সিল পদ্ধতি থাকতে হবে।
    ৩. পর্যাপ্ত বেতন, ভাতা ও মর্যাদা: বিচারপতিদের আর্থিক প্রলোভনের ঊর্ধ্বে রাখতে পর্যাপ্ত বেতন-ভাতা এবং উচ্চ সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করতে হবে, যা তাদের মেয়াদকালে কমানো যাবে না।
    ৪. শাসন ও আইনবিভাগ থেকে পৃথকীকরণ: বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে সম্পূর্ণরূপে আলাদা রাখতে হবে যাতে বিচার কাজে কোনো প্রশাসনিক চাপ না থাকে।
    ৫. বিচারকার্যে স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণের পরিবেশ: আইন ও সংবিধান অনুযায়ী নিরপেক্ষভাবে রায় দেওয়ার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও আইনি সুরক্ষা প্রদান অপরিহার্য।

    এসব রক্ষাকবচ নিশ্চিত হলেই কেবল বিচার বিভাগ স্বাধীনভাবে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে পারে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন