মনোবিজ্ঞান ১ম পত্র • Combined Board • ঢাকা, কুমিল্লা বোর্ড ২০২২
মনোবিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন
- ক)(1)
আচরণ কী?
- খ)(2)
কথা বলাকে ঐচ্ছিক আচরণ বলা হয় কেন ?
- গ)(3)
দৃশ্যকল্প-১ এ প্রদর্শিত 'A' কে ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
দৃশ্যকল্প-২ এ প্রদর্শিত 'C' এবং 'E' এর বিবরণ দাও ।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পরিবেশের কোনো উদ্দীপকের প্রতি প্রাণী বা মানুষের সামগ্রিক প্রতিক্রিয়া বা বাহ্যিক কার্যকলাপকে আচরণ বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যেসব আচরণ মানুষ বা প্রাণী নিজের ইচ্ছা বা সচেতন নিয়ন্ত্রণে সম্পাদন করে, সেগুলোকে ঐচ্ছিক আচরণ বলে।
কথা বলা একটি সচেতন ও ইচ্ছাকৃত প্রক্রিয়া। ব্যক্তি কখন কথা বলবে, কার সাথে বলবে, কী কথা বলবে কিংবা চুপ থাকবে—তা সম্পূর্ণরূপে তার নিজস্ব ইচ্ছা ও মস্তিষ্কের সচেতন নিয়ন্ত্রণের ওপর নির্ভর করে। অনৈচ্ছিক বা প্রতিবর্ত ক্রিয়ার মতো এটি স্বতঃস্ফূর্তভাবে কোনো নিয়ন্ত্রণ ছাড়া ঘটে না। তাই কথা বলাকে ঐচ্ছিক আচরণ বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দৃশ্যকল্প-১ এ প্রদর্শিত 'A' চিহ্নিত অংশটি হলো 'আচরণ' (Behavior)। কারণ আধুনিক সংজ্ঞানুযায়ী মনোবিজ্ঞানের প্রধান বিষয়বস্তু দুটি—আচরণ ও মানসিক প্রক্রিয়া।
আচরণের ব্যাখ্যা:
উদ্দীপকের উপস্থিতিতে প্রাণী যে বাহ্যিক ও পর্যবেক্ষণযোগ্য প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে, তাকে আচরণ বলে। এটি মনোবিজ্ঞানের অন্যতম প্রধান পর্যবেক্ষণযোগ্য বিষয়বস্তু। আচরণকে বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে শ্রেণিভুক্ত করা যায়, যেমন:
১. সামগ্রিক ও খণ্ড আচরণ: কোনো কাজের সামগ্রিক রূপ (যেমন- সাইকেল চালানো) হলো সামগ্রিক আচরণ এবং এর অন্তর্গত পেশির সূক্ষ্ম সঞ্চালন হলো খণ্ড আচরণ।
২. ঐচ্ছিক ও অনৈচ্ছিক আচরণ: ইচ্ছাধীন আচরণ (যেমন- হাঁটা, কথা বলা) হলো ঐচ্ছিক এবং অনিচ্ছাকৃত বা স্বয়ংক্রিয় আচরণ (যেমন- চোখের পলক ফেলা, হৃৎস্পন্দন) হলো অনৈচ্ছিক আচরণ।
৩. বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ আচরণ: বাইরে থেকে সরাসরি পর্যবেক্ষণযোগ্য আচরণ (যেমন- হাসা, দৌড়ানো) হলো বাহ্যিক আচরণ এবং বাইরে থেকে সরাসরি দেখা যায় না এমন শারীরবৃত্তীয় পরিবর্তন (যেমন- রক্তচাপ বৃদ্ধি) হলো অভ্যন্তরীণ আচরণ।সুতরাং, দৃশ্যকল্প-১ এ প্রদর্শিত 'A' অর্থাৎ আচরণ হলো মনোবিজ্ঞানের সেই ভিত্তি যা বৈজ্ঞানিকভাবে পর্যবেক্ষণ ও পরিমাপ করা যায়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দৃশ্যকল্প-২ এ মনোবিজ্ঞানের ক্রমবিকাশের তিনটি যুগ নির্দেশ করা হয়েছে, যার মধ্যে 'D' হলো মধ্যযুগ। সুতরাং, ক্রমবিকাশের ধারা অনুযায়ী 'C' হলো প্রাচীন যুগ এবং 'E' হলো আধুনিক যুগ। নিচে এ দুটি যুগের বিবরণ দেওয়া হলো:
'C' বা প্রাচীন যুগ:
মনোবিজ্ঞানের সূচনা হয়েছিল মূলত প্রাচীন গ্রিসের দর্শনের হাত ধরে। এই যুগে মনোবিজ্ঞানকে দর্শনের একটি শাখা হিসেবে বিবেচনা করা হতো।
১. দার্শনিকদের অবদান: সক্রেটিস, প্লেটো এবং অ্যারিস্টটল ছিলেন এই যুগের প্রধান চিন্তাবিদ। অ্যারিস্টটলকে মনোবিজ্ঞানের আদি পিতা বলা হয়। তিনি তাঁর বিখ্যাত 'ডি অ্যানিমা' (De Anima) গ্রন্থে মন ও আত্মার সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করেন।
২. ধারণা: প্রাচীন যুগে মনোবিজ্ঞানকে 'আত্মার বিজ্ঞান' (Science of Soul) হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হতো। হিপোক্রেটিস ব্যক্তিত্ব ও মানসিক রোগকে শারীরবৃত্তীয় কারণের সাথে সম্পর্কিত করার চেষ্টা করেন।'E' বা আধুনিক যুগ:
১৮৭৯ সালে জার্মানির লিপজিগ বিশ্ববিদ্যালয়ে উইলহেম ভুন্ডট (Wilhelm Wundt) কর্তৃক প্রথম মনোবিজ্ঞান গবেষণাগার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আধুনিক বিজ্ঞানের যুগ শুরু হয়। ভুন্ডটকে আধুনিক ও পরীক্ষামূলক মনোবিজ্ঞানের জনক বলা হয়।
১. মতবাদের বিকাশ: এ যুগে মনোবিজ্ঞান দর্শন থেকে পৃথক হয়ে একটি স্বতন্ত্র বিজ্ঞান হিসেবে রূপ নেয়। এখানে কাঠামুবাদ (ভুন্ডট, টিচেনার), কার্যবাদ (উইলিয়াম জেমস), আচরণবাদ (জে. বি. ওয়াটসন), গেস্টাল্ট মতবাদ এবং ফ্রয়েডের মনঃসমীক্ষণ মতবাদের মতো বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ঘরানার সৃষ্টি হয়।
২. বৈজ্ঞানিক রূপ: ওয়াটসনের আচরণবাদের পর মনোবিজ্ঞানকে 'আচরণ ও মানসিক প্রক্রিয়ার বিজ্ঞান' হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়। আধুনিক যুগে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি, পরীক্ষণ এবং গবেষণার মাধ্যমে মানব আচরণের জটিলতা সমাধান করা হয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও