মনোবিজ্ঞান ১ম পত্র • Combined Board • ঢাকা, কুমিল্লা বোর্ড ২০২২
মনোবিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন
দৃশ্যকল্প-১ঃদৃশ্যকল্প-২ঃ
- ক)(1)
আবেগ কী?
- খ)(2)
যুথচারিতা জৈবিক প্রেষণা নয় কেন?
- গ)(3)
দৃশ্যকল্প-১ এ প্রদর্শিত চিত্রটি ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
দৃশ্যকল্প-২ এ প্রদত্ত চিত্রের 'A' এবং 'B' এর তুলনামূলক আলোচনা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আবেগ হলো এমন এক জটিল ও আলোড়িত মানসিক বা শারীরিক অবস্থা, যা ব্যক্তিভেদে নির্দিষ্ট কোনো উদ্দীপকের প্রেক্ষিতে সৃষ্টি হয় এবং এতে শারীরিক পরিবর্তন, সচেতন অনুভূতি ও আচরণগত প্রকাশ ঘটে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যূথচারিতা (gregariousness) বা দলবদ্ধ হয়ে বাস করার প্রবৃত্তি একটি সামাজিক প্রেষণা, জৈবিক প্রেষণা নয়; কারণ জৈবিক প্রেষণাগুলো প্রাণীর বেঁচে থাকার জন্য অপরিহার্য (যেমন: ক্ষুধা, তৃষ্ণা, নিদ্রা ইত্যাদি) এবং এগুলো মূলত শারীরবৃত্তীয় চাহিদার ওপর নির্ভরশীল। পক্ষান্তরে, যূথচারিতা বেঁচে থাকার অপরিহার্য শারীরবৃত্তীয় শর্ত নয়, বরং এটি মানবসমাজে পারস্পরিক ভাবের আদান-প্রদান, নিরাপত্তা ও সামাজিক মিথস্ক্রিয়ার মাধ্যমে অর্জিত ও প্রকাশিত হয়। তাই যূথচারিতা জৈবিক নয়, সামাজিক প্রেষণা।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দৃশ্যকল্প-১ এ মনোবিজ্ঞানের একটি মৌলিক বিষয় 'প্রেষণাচক্র' (Motivational Cycle) প্রদর্শিত হয়েছে। প্রেষণা একটি বৃত্তাকার প্রক্রিয়ায় চক্রাকারে আবর্তিত হয়।
প্রেষণাচক্রের স্তরগুলো নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:
১. অভাববোধ (Need): শরীরে কোনো কিছুর ঘাটতি বা অভাব থেকে এই চক্র শুরু হয় (যেমন: খাদ্য বা পানির অভাব)।
২. তাড়না (Drive): অভাববোধের ফলে শরীরে একধরনের মানসিক ও শারীরিক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়, যাকে তাড়না বলে।
৩. সহায়ক আচরণ/করণমূলক আচরণ (Instrumental Behavior - চিত্রের প্রথম প্রশ্নবোধক চিহ্ন): তাড়না কমাতে প্রাণী লক্ষ্যমুখী বিভিন্ন আচরণ বা চেষ্টা প্রদর্শন করে (যেমন: খাদ্যের সন্ধান করা)।
৪. উদ্দেশ্য সাধন বা লক্ষ্য অর্জন (Goal Attainment - চিত্রের দ্বিতীয় প্রশ্নবোধক চিহ্ন): প্রয়োজনীয় বস্তু পাওয়ার মাধ্যমে অভাব দূর হয় এবং লক্ষ্যার্জন ঘটে।
৫. বিশ্রাম ও পুনরাবৃত্তি (Relief/Rest): লক্ষ্যার্জনের ফলে শরীরের উত্তেজনা কমে এবং প্রাণী সাময়িক স্বস্তি বা বিশ্রাম পায়। পরবর্তীতে নতুন বা পূর্ববর্তী কোনো অভাব আবার দেখা দিলে প্রেষণাচক্র পুনরায় সচল হয়। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দৃশ্যকল্প-২ এ প্রেষণার প্রধান দুটি প্রকারভেদকে 'A' এবং 'B' হিসেবে দেখানো হয়েছে, যা হলো:
A = জৈবিক বা শারীরবৃত্তীয় প্রেষণা (Biological/Physiological Motivation)
B = সামাজিক বা মনস্তাত্ত্বিক প্রেষণা (Social/Psychological Motivation)নিচে এদের তুলনামূলক আলোচনা করা হলো:
১. সংজ্ঞা ও উৎপত্তি: জৈবিক প্রেষণা জীবের অভ্যন্তরীণ শারীরিক চাহিদা বা শারীরবৃত্তীয় ভারসাম্যহীনতা থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে উৎপন্ন হয়। অন্যদিকে সামাজিক প্রেষণা সমাজের সাথে মিথস্ক্রিয়া, পরিবেশ ও সামাজিক শিখন থেকে জন্ম নেয়।
২. জীবনধারণের গুরুত্ব: জৈবিক প্রেষণা (যেমন: ক্ষুধা, তৃষ্ণা, ঘুম, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ) জীবের বেঁচে থাকার জন্য অপরিহার্য; এগুলোর নিবৃত্তি না ঘটলে জীব মারা যেতে পারে। পক্ষান্তরে, সামাজিক প্রেষণা (যেমন: খ্যাতি, ক্ষমতা, যূথচারিতা, সাফল্য অর্জনের আকাঙ্ক্ষা) বেঁচে থাকার জন্য সরাসরি অপরিহার্য নয়, তবে উন্নত সামাজিক জীবনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
৩. সার্বজনীনতা: জৈবিক প্রেষণা মানুষসহ সকল প্রাণীর মধ্যেই সমানভাবে বিদ্যমান এবং এটি প্রকৃতিগত বা সহজাত। কিন্তু সামাজিক প্রেষণা প্রধানত মানুষের ক্ষেত্রেই লক্ষণীয় এবং তা সমাজ, সংস্কৃতি ও ব্যক্তিভেদে পরিবর্তিত হয়।
৪. নিবৃত্তির প্রকৃতি: জৈবিক প্রেষণার তৃপ্তি মূলত নির্দিষ্ট শারীরিক বস্তু (যেমন খাদ্য, পানীয়) গ্রহণের মাধ্যমে ঘটে। অন্যদিকে সামাজিক প্রেষণার সন্তুষ্টি সামাজিক স্বীকৃতি, পদমর্যাদা বা প্রশংসার মাধ্যমে ঘটে।
সুতরাং, 'A' ও 'B' পরস্পর ভিন্ন চরিত্রের হলেও মানুষের পরিপূর্ণ ব্যক্তিত্ব ও জীবনযাত্রায় উভয় প্রেষণারই ভূমিকা অপরিসীম।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও