কৃষি শিক্ষা ১ম পত্র • বিশেষ উৎপাদন সম্পৃক্ত কৃষি প্রযুক্তি • Combined Board • ঢাকা, কুমিল্লা বোর্ড ২০২২
কৃষি শিক্ষা ১ম পত্র প্রশ্ন
কৃষক আমিন আলির এলাকায় পাট কাটার মৌসুমে প্রায়ই। পানির অভাব দেখা দেয়। ফলে পাট পচাতে নানা অসুবিধার সৃষ্টি হয়।। গত সপ্তাহে কৃষক সভায় কৃষি কর্মকর্তা ফসল উৎপাদনে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের গুরুত্ব সম্পর্কে কথা বলছিলেন। এক পর্যায়ে তিনি পাট পচানোর একটি আধুনিক পদ্ধতির কথা বললেন। তিনি আরো বললেন এটিতে বৃষ্টির উপর নির্ভর করতে হয় না.। কৃষকরা ইচ্ছামত। বাড়িতে বা পাটক্ষেতে এই পদ্ধতি ব্যবহার করতে পারে এবং উন্নত। আঁশের জন্য বাজারমূল্য বেশি পায়।
- ক)(1)
অ্যাজোলা কী?
- খ)(2)
মৌমাছি চাষ লাভজনক কেন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত পাট পচানোর পদ্ধতিটি ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের পাট পচানোর পদ্ধতিটির গুরুত্ব মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
অ্যাজোলা হলো পানিতে ভাসমান এক ধরনের ক্ষুদ্র ফার্ন জাতীয় জলজ উদ্ভিদ, যা নাইট্রোজেন সংবন্ধনে ভূমিকা রাখে এবং সবুজ সার হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মৌমাছি চাষ অত্যন্ত লাভজনক, কারণ এতে খুব অল্প পুঁজিতে ও অল্প পরিশ্রমে খাঁচায় মৌমাছি পালন করে নিয়মিত পুষ্টিকর ও মূল্যবান মধু এবং মোম উৎপাদন করা যায়। এগুলো বাজারে বিক্রি করে ভালো আয় হয়। এছাড়া মৌমাছির পরাগায়নের ফলে ফসলের ফলন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। তাই মৌমাছি চাষ একটি লাভজনক উদ্যোগ।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত পাট পচানোর পদ্ধতিটি হলো কৃত্রিম বা আধুনিক পলিথিন/চাড়িতে বা গর্তে পাটের রিবন রেটিং (বা আধুনিক রিবনিং পদ্ধতি)।
এ পদ্ধতিতে প্রথমে পাটের জমি বা বাড়িতে একটি ছোট গর্ত বা পাকা চৌবাচ্চা তৈরি করা হয়। পাট কাটার পর রিবনার যন্ত্র দিয়ে সহজেই কাঁচা পাট গাছ থেকে আঁশ ছাড়িয়ে (রিবন তৈরি করে) নেওয়া হয়। এরপর সেই কাঁচা আঁশের ছাল বা রিবনকে বৃত্তাকারে পেঁচিয়ে পলিথিন বিছানো অগভীর গর্তে বা চৌবাচ্চায় সাজিয়ে রাখা হয়। এতে পর্যাপ্ত পানি দেওয়া হয় এবং পচন প্রক্রিয়া দ্রুত করার জন্য প্রয়োজনীয় ইউরিয়া সার (প্রতি ১০০ কেজি পাটে প্রায় ১ কেজি ইউরিয়া) বা পচনকারী জীবাণু কালচার মিশিয়ে দেওয়া হয়। এভাবে অল্প পানিতেই খুব কম সময়ে (১০-১২ দিনে) পাট চমৎকারভাবে পচে যায়। উদ্দীপকের কৃষি কর্মকর্তা পানির সংকট এড়াতে এই আধুনিক পদ্ধতির কথাই উল্লেখ করেছেন।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে নির্দেশিত পাট পচানোর আধুনিক পদ্ধতিটির (রিবন রেটিং) গুরুত্ব অপরিসীম। নিচে তা মূল্যায়ন করা হলো:
১. পানির স্বল্পতা দূরীকরণ: প্রচলিত পদ্ধতিতে পাট পচানোর জন্য নদী, খাল বা বড় জলাশয়ে প্রচুর পানির প্রয়োজন হয়। কিন্তু রিবন রেটিং পদ্ধতিতে মাত্র অল্প পরিমাণ পানিতে গর্ত বা পাকা হাউজে পাট পচানো সম্ভব, ফলে অনাবৃষ্টি বা খরার মৌসুমেও চাষ ব্যাহত হয় না।
২. আঁশের গুণগত মান ও বাজারমূল্য বৃদ্ধি: প্রচলিত পদ্ধতিতে কাদামাটি বা কচুরিপানা দিয়ে জাগ দেওয়ার ফলে আঁশের রং কালচে হয়ে যায়। কিন্তু আধুনিক পদ্ধতিতে আঁশ খুব পরিষ্কার, সোনালি ও চকচকে থাকে, যার ফলে কৃষক বাজারে উন্নত আঁশের জন্য অনেক বেশি দাম পান।
৩. সময় ও পরিবহন খরচ সাশ্রয়: পাট কাটার পর ভারী গাছ বহন করে দূরে নেওয়ার প্রয়োজন হয় না; জমিতেই ছাল ছাড়িয়ে হালকা আঁশ পরিবহন করা যায়। ফলে পরিবহন খরচ কমে এবং পচনের সময়ও অনেক কম (১০-১২ দিন) লাগে।
৪. পাটখড়ির সদ্ব্যবহার: কাঁচা ছাল ছাড়িয়ে নেওয়ার ফলে আস্ত পাটখড়ি অক্ষত ও শুকনা থাকে, যা জ্বালানি বা বেড়া হিসেবে টেকসই ও উন্নত মানের হয়।
৫. পরিবেশ দূষণ রোধ: উন্মুক্ত জলাশয়ের পানি পচে মাছ বা জলজ প্রাণীর ক্ষতি হয় না, ফলে পরিবেশের ভারসাম্য বজায় থাকে।
অতএব, কৃষক আমিন আলির মতো কৃষকদের জন্য এ প্রযুক্তি ব্যবহার অত্যন্ত কার্যকর ও লাভজনক ভূমিকা পালন করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও