সমাজকর্ম ২য় পত্র • আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, বরিশাল, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৩
সমাজকর্ম ২য় পত্র প্রশ্ন
- ক)(1)
UNDP-এর পূর্ণরূপ কী?
- খ)(2)
UNDP-এর একটি উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে কোন আন্তর্জাতিক সংস্থাকে ইঙ্গিত করা হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
বিশ্বব্যাপী শিশুদের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিতকরণে উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত সংস্থাটির কার্যক্রম বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
UNDP-এর পূর্ণরূপ হলো United Nations Development Programme (জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
UNDP-এর অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য হলো বিশ্বব্যাপী টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন ও দারিদ্র্য দূরীকরণ। এই সংস্থাটি সদস্য দেশগুলোর দারিদ্র্য বিমোচন, আয় ও সুযোগের বৈষম্য হ্রাস এবং সংকটময় পরিস্থিতি মোকাবিলায় সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই মানব উন্নয়ন নিশ্চিতে কাজ করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে আন্তর্জাতিক সংস্থা হিসেবে ইউনিসেফ (UNICEF - United Nations Children's Fund)-কে ইঙ্গিত করা হয়েছে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত শিশুদের ত্রাণ ও পুনর্বাসনের উদ্দেশ্যে ১৯৪৬ সালের ১১ ডিসেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ কর্তৃক 'United Nations International Children's Emergency Fund' (UNICEF) গঠিত হয়। পরবর্তীতে ১৯৫৩ সালে এটি জাতিসংঘের একটি স্থায়ী সংস্থায় রূপান্তরিত হয় এবং এর সদর দপ্তর যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অবস্থিত। শিশুকল্যাণ ও শান্তির পক্ষে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ইউনিসেফ ১৯৬৫ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার লাভ করে।
উদ্দীপকের ছকে প্রদর্শিত তথ্যগুলোর দিকে তাকালে দেখা যায়—সংস্থাটির প্রতিষ্ঠা সাল ১৯৪৬, সদর দপ্তর নিউইয়র্ক, শান্তিতে নোবেল লাভ ১৯৬৫ এবং মূল লক্ষ্য শিশুদের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিতকরণ। এই বৈশিষ্ট্যগুলো সরাসরি ইউনিসেফের ইতিহাস ও কার্যাবলির সাথে হুবহু মিলে যায়। অতএব, উদ্দীপকে ইউনিসেফকেই ইঙ্গিত করা হয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বিশ্বব্যাপী শিশুদের সুস্বাস্থ্য ও সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিতকরণে উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত সংস্থা অর্থাৎ ইউনিসেফ (UNICEF)-এর ভূমিকা অত্যন্ত ব্যাপক ও প্রশংসনীয়। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো:
১. রোগ প্রতিরোধ ও টিকাদান কর্মসূচি: বিশ্বব্যাপী শিশুদের প্রাণঘাতী ছয়টি সংক্রামক রোগ (যেমন—পোলিও, হাম, যক্ষ্মা, ধনুষ্টংকার, ডিপথেরিয়া ও হুপিং কাশি) প্রতিরোধে ইউনিসেফ সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (EPI) বাস্তবায়ন করে আসছে। এর মাধ্যমে কোটি কোটি শিশুর অকালমৃত্যু রোধ করা সম্ভব হয়েছে।
২. পুষ্টি উন্নয়ন কার্যক্রম: মারাত্মক অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের জীবন রক্ষায় ইউনিসেফ পুষ্টিকর খাদ্য ও থেরাপিউটিক ফুড সরবরাহ করে। বিশেষ করে ভিটামিন 'এ' ক্যাপসুল বিতরণ এবং মা ও শিশুর সুষম পুষ্টি নিশ্চিতে মাঠপর্যায়ে বিভিন্ন সচেতনতামূলক প্রকল্প পরিচালনা করে।
৩. মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা: নিরাপদ মাতৃত্ব এবং নবজাতকের মৃত্যুহার হ্রাসে ইউনিসেফ মা ও শিশুদের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদানে হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে চিকিৎসা সরঞ্জাম ও ওষুধ সরবরাহ করে থাকে।
৪. নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন (WASH): ডায়রিয়া ও পানিবাহিত নানা রোগ থেকে শিশুদের রক্ষা করতে ইউনিসেফ বিশ্বজুড়ে নিরাপদ সুপেয় পানি সরবরাহ, স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন ব্যবস্থা এবং হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে ব্যাপক কার্যক্রম পরিচালনা করে।
৫. জরুরি মানবিক সহায়তা: প্রাকৃতিক দুর্যোগ, যুদ্ধ বা মহামারির মতো সংকটকালীন সময়ে ইউনিসেফ দ্রুত জরুরি স্বাস্থ্যসেবা, বিশুদ্ধ পানি ও পুষ্টি সহায়তা নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত শিশুদের পাশে দাঁড়ায়।
সার্বিকভাবে বলা যায়, শিশু অধিকার সনদের আলোকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে একটি সুস্থ ও সুন্দর জীবন উপহার দেওয়ার লক্ষ্যে ইউনিসেফের বহুমুখী স্বাস্থ্যসেবামূলক কার্যক্রম বিশ্বব্যাপী অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও কার্যকর অবদান রেখে চলেছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও